প্রেমিককে না পেয়ে যে কাণ্ড ঘটালেন নারায়ণগঞ্জের মেয়ে চাঁদপুরে গিয়ে

প্রকাশ | ১৮ নভেম্বর ২০২০, ১৬:৫৪ | আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০২০, ১৮:০০

চাঁদপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ
ছবি সংগৃহীত

চাঁদপুরের কচুয়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিক শম্ভু সরকারের বাড়িতে প্রেমিকা অন্তরা সরকার (১৮) অবস্থান নিয়েছে। বিয়ের দাবিতে একপর্যায়ে অন্তরা সরকার ঘুমের ওষুধ খান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ সময় মেয়েটির হাত ব্যাগে কিছু ঘুমের ওষুধের খালি পাতা এবং তার পরিবারকে লেখা একটি চিঠি পাওয়া যায়।

এলাকাবাসী জানান, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের চাষারা এলাকার লিটন সরকারের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে অন্তরা সরকার পরিবারের কাউকে না বলে বিয়ের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে তার প্রেমিক কচুয়া উপজেলার বড় হায়াতপুর গ্রামের সরকার বাড়ির পরেশ সরকারের ছেলে শম্ভু সরকারের বাড়িতে চলে আসে। এ সময় শম্ভুর ঘরে লোকজন না থাকায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মানিক হোসেন একই বাড়ির গ্রাম পুলিশ সুনীল সরকাররে ঘরে মেয়েটিকে আশ্রয় দেয়। এ সময় উৎসুক জনতা মেয়েটিকে একনজর দেখার জন্য ছেলের বাড়িতে ভিড় জমায়।

প্রেমিকা অন্তরা সরকার জানায়, আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ চার বছর ধরে শম্ভু সরকার আমার সঙ্গে সম্পর্ক করে আসছেন। এরপর হঠাৎ করে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। সম্প্রতি আমি শম্ভুকে বেশ কয়েকবার ফোন দিলে তিনি আমাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন এবং আমার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তার কোনও প্রকার খোঁজ না পেয়ে আমি বিয়ের দাবিতে তার বাড়িতে এসেছি।

প্রেমিক শম্ভু সরকারের মা জানান, মেয়েটির সঙ্গে আমার ছেলের সম্পর্ক রয়েছে বলে আমরা জেনেছি। খবর পেয়ে আমার বড় ছেলে ঢাকা থেকে এসেছে। অন্যদিকে প্রেমিক শম্ভু সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শম্ভু সরকারকে তার বাড়িতে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপায়ন দাস শুভ জানান, বিষয়টি আমি অবগত আছি এবং মেয়েটিকে একজন মহিলা গ্রাম পুলিশের হেফাজতে রাখার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যকে নির্দেশ প্রদান করেছি।

কচুয়া থানার অফসিার ইনর্চাজ মো. মহিউদ্দিন আরটিভি নিউজকে জানান, সংবাদ পেয়ে ছেলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গতকাল মেয়েটি ঘুমের ওষুধ খেয়েছে। তাই তাকে হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়েছে। মেয়ের পরিবারের লোকজনকে খবর দেয়া হয়েছে। বিষয়টি পারিবারিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করবো। এরপরও যদি আইনানুগ কোনও পদক্ষেপ নিতে হয় আমরা তা নেব।

জেবি