logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ১৭ নভেম্বর ২০২০, ১৪:৫৬
আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২০, ১৫:২৫

ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় মাদরাসা সুপারের আমৃত্যু কারাদণ্ড

Madrasa Super, sentenced to death, rtv news
দণ্ডপ্রাপ্ত মাদরাসার সুপার আব্দুল কাদের
কুষ্টিয়ায় মাত্র তিন কার্যদিবসে একটি ধর্ষণ মামলার যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন আদালত। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার স্বরূপদহ (চকপাড়া) গ্রামের সিরাজুল উলুম মরিয়ম নেসা মহিলা মাদরাসার সুপার আব্দুল কাদের আবাসিক ছাত্রীকে ধর্ষণে আলোচিত ওই মামলায় যাবজ্জীবন আমৃত্যু কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও অর্থদণ্ডের টাকা আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্ত মাদরাসাছাত্রীকে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার মাত্র ৪৪ দিনের মাথায় আজ মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্যাইব্যুনাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান  এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাদরাসা সুপার আব্দুল কাদের আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গেল মাসের (অক্টোবর) চার তারিখ ভোর পাঁচটায় মাদরাসার নাহাবিলা শ্রেণির (অষ্টম) আবাসিক ছাত্রীকে নিজের অফিস কক্ষে ডেকে ধর্ষণ করে। একই দিন রাত আটটার  দিকে আবারও ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন মাদরাসা সুপার। এ ঘটনা একই মাদরাসার আরেক ছাত্রী দেখে ফেলেন। তার কাছ থেকে শুনে পরদিন ৫ অক্টোবর মেয়েকে নিয়ে মিরপুর থানায় গিয়ে ধর্ষণ মামলা করেন বাবা। ৯ দিনের মাথায় ১৩ অক্টোবর তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করেন। আসামি আব্দুল কাদের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আসামি আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ মোতাবেক গত ১২ নভেম্ভর আদালত অভিযোগ গঠন করেন। সে সময় আসামি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণের মাত্র তিন কার্যদিবসে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আজ আদালত তাদের বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন।

কুষ্টিয়া আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী বলেন, মাত্র তিন কার্যদিবসে ধর্ষণের এ রায় যুগান্তকারী। সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে সরকারের নতুন আইনের পর দ্রুততম সময়ে এই রায় দেয়া সম্ভব হয়েছে। এটি ধর্ষণ প্রতিরোধে বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

জেবি/ এমকে 

RTVPLUS