ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

পাবনা মানসিক হাসপাতালের যতো কথা

মো. নজরুল ইসলাম বাঁধন

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২০, ০৫:২৭ পিএম
পবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসারত রোগীরা

সিভিল সার্জন গাংগুলীর স্বপ্নই ছিল পাবনায় একটি মানসিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা প্রথম ধাপ। ১৯৫৭ সালে তৎকালীন পাবনা জেলার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ হোসেন গাংগুলী স্বপ্ন দেখেছিলেন এই হাসপাতালের। তিনি ছিলেন বরিশালের মানুষ কিন্তু স্বপ্ন দেখেছেন পাবনার জন্য। প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আজও তার নামটি লেখা আছে হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা বোর্ডে। ১৯৫৭ সালের শুরুর দিকে প্রথমে কার্যক্রম শুরু করেছিলেন শহরের শীতলাই জমিদারবাড়িতে। প্রথম বছরেই পাবনা মানসিক হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়েছিল ৮০ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন ৪০ জন। এরপর ধীরে ধীরেই হাসপাতালের এগিয়ে চলা। হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ কর্মকর্তা ব্রজ গোপাল সাহা শোনালেন সিভিল সার্জন গাংগুলীর স্বপ্ন সফলতার সেই গল্প।

হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর কিছু দিনের মধ্যেই হাসপাতালের মূল অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়। পাবনা সদর উপজেলার হিমাইতপুর ইউনিয়নের হিমাইতপুর গ্রামে অধিগ্রহণ করা হয় ১১১ দশমিক ২৫ একর জমি। বিশাল এলাকাজুড়ে শুরু হয় নির্মাণ কাজ। নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৫৯ সালে। হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানালেন, অধিগ্রহণ করা জমির সিংহভাগই ছিল পাবনার আধ্যাত্মিক সাধক শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের। জমি অধিগ্রহণের সময় তিনি ভারতে ছিলেন। ফলে অধিগ্রহণের অর্থ তার ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছিল।

হাসপাতালের রোগী সেবার তথ্য থেকে জানা গেল, ১৯৫৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আবাসিকে রোগী ভর্তি হয়েছেন ৭৯ হাজার ৪৪৪ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৬ হাজার ৭৯০ জন। বর্হির্বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার সংখ্যা আরও বেশি। ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন দুই লাখ ৭৫ হাজার ৫৫৬ জন। এর মধ্যে নারী ছিলেন এক লাখ ৫১ হাজার ৩৮৯ জন, পুরুষ এক লাখ ২৪ হাজার ১৬৭ জন।

৬০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল পাবনা মানসিক হাসপাতালের। ১৯৬৬ সালে প্রথম দফায় শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০ ও পরে ২০০টি করা হয়। ১৯৯৬ সালে শেষ দফায় ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হয় হাসপাতালটিকে। এর মধ্যে ১২০টি পেয়িং ও ৩৮০টি সাধারণ শয্যা রয়েছে। চিকিৎসা হয় অন্তর্বিভাগে, বহির্বিভাগ ও বিনোদনমূলক নামে এই তিন বিভাগে। অন্তর্বিভাগে ৪০০ পুরুষ ও ১০০ নারী চিকিৎসা নিতে পারেন। বহির্বিভাগে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০ জন রোগী চিকিৎসা পরামর্শ নেন।

বছরের পর বছর যুগের পর যুগ মানসিক হাসপাতালেই কেটে যাচ্ছে এ রকম রোগী রয়েছেন ২১ জন। তারা শুধু প্রতীক্ষা করেন কেউ তাদের ঠিকই একদিন নিতে আসবে। কিন্তু তাদের কেউ আর নিতে আসে না। অনেকেই প্রতীক্ষা করতে করতে এখানেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ২০১৫ সালে এরকমভাবে মারা গেছেন দুজন।

সাইদ হোসেন। হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্টার অনুযায়ী তাকে ১৯৯৬ সালে ভর্তি করেন তার স্বজনরা। তিনি অনেক আগে সুস্থ হলেও কেউ তাকে নিতে আসেননি। তাই তিনি বছরের পর বছর হাসপতালে বন্দি থাকার মতো থেকে অনেকটা অথর্ব হয়ে গেছেন।

এছাড়া বর্তমানে দেশের একমাত্র মানসিক হাসপাতাল কনসালটেন্ট ও ক্লিনিক্যাল সাইক্রিয়াটিস্ট ছাড়াই চলছে। পাবনার হেমায়েতপুরে অবস্থিত ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট দেশের একমাত্র বিশেষায়িত পাবনা মানসিক হাসপাতালে ৩০ জন চিকিৎসক পদের মধ্যে ১৭ জনের পদই শূন্য। আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), অ্যানেসথেটিস্ট, ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্ট, বায়োক্যামিস্ট, ডেন্টাল সার্জনের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসক ছাড়াই চলছে এ মানসিক হাসপাতাল। সীমিত চিকিৎসক ও জনবল দিয়েই যথাসম্ভব সেবা দেয়া হচ্ছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

দেশের একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতালটির জন্য ৩০ চিকিৎসকসহ মঞ্জুরিকৃত পদের সংখ্যা ৬৪৩। ১৩ চিকিৎসকসহ কর্মরত ৪৫৩ জন এবং শূন্য রয়েছে ১৯০টি পদ। জনবলের অভাবে এখন নিজেই ধুকছে হাসপাতালটি। শুধু তাই নয়, ৫০০ শয্যার হাসপাতালের জন্য অনুমোদন রয়েছে মাত্র ২০০ শয্যার হাসপাতালের জনবল। এই ২০০ শয্যার জনবলের জন্য প্রথম শ্রেণির চিকিৎসকের যে ৩০টি পদ মঞ্জুর আছে তার মধ্যে আবার ১৭টি পদই শূন্য। অন্যান্য কর্মকর্তা এবং কর্মচারী পদেও একই অবস্থা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, জরুরি ভিত্তিতে সিনিয়র কনসালটেন্ট, ক্লিনিক্যাল সাইক্রিয়াটিস্ট, মেডিকেল অফিসার দ্রুত নিয়োগ করা না হলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

হাসপাতালের অবকাঠামো বলতে সবই আছে। দ্বিতল হাসপাতাল ভবন, বহির্বিভাগ, প্রশাসনিক ভবন, বিনোদন বিভাগ, রান্নাঘর, ধোপাঘর, সিনেমা হল, হস্তশিল্প ভবন, তাঁতশিল্প ভবন, ওষুধ ও মালামাল সংরক্ষণ ভান্ডার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন ও কটেজ মিলিয়ে মোট ৫৩টি ভবন রয়েছে। তবে অধিকাংশই এখন ব্যবহারের অনুপযোগী। বর্তমানে ব্যবহৃত ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

অবকাঠামো জরাজীর্ণ, পাশাপাশি চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটে ভুগছে হাসপাতাল। লোকবল সংকটের কারণে হাসপাতাল পরিচালনায় কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অধিকাংশ যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। কিছু যন্ত্রপাতি থাকলেও তা চালানোর লোক নেই।
তবে আনন্দের সংবাদ হলো বহির্বিভাগের রোগীদের হাসপাতাল থেকেই এখন এক থেকে দুই মাসের ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। এই বিশাল পরিমাণ ওষুধ বহনের জন্য রোগীর স্বজনদের সরবরাহ করা হচ্ছে হাসপাতালের তৈরি ব্যাগ, যা তৈরি করছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নারীরা।

পাবনা মানসিক হাসপাতালে অকুপেশন থেরাপিস্ট পদে যোগ দিয়েছিলেন ১৯৬৬ সালে। পুরো নাম ব্রজ গোপাল সাহা। এই হাসপাতালের মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে আছেন তিনি। বয়সের ভারে অনেকটাই নুয়ে পড়েছেন। তবে হাসপাতালের সবার কাছে কালা দা নামে পরিচিত। দায়িত্ব ছিল রোগীদের বিনোদন ও খেলাধুলার মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া। ২০০০ সালে চাকরি থেকে অবসর পেয়েছেন। কিন্তু এখনও ছাড়তে পারেননি হাসপাতালের মায়া। ব্যক্তিগত জীবনে সংসারও পাতেননি মানুষটি। সারা দিন হাসপাতালেই কাটান। ভালো-মন্দ দেখভাল করেন। রোগীদের সঙ্গে গল্প, আড্ডায় মেতে থাকেন। তাদের বিভিন্ন বিনোদন দিয়ে সুস্থ রাখার চেষ্টা করেন।

কথায় কথায় বহু গল্প বলেন ব্রজ গোপাল সাহা। তিনি যখন কর্মজীবনে ছিলেন, তখন হাসপাতালের চিত্র ছিল ভিন্ন। নিয়মিত রোগীরা খেলাধুলা করতে পারতেন। বিনোদনের জন্য একটি সিনেমা হল ছিল (বর্তমানে মিলনায়তন)। কিন্তু অর্থাভাবে অনেক কিছুই বন্ধ হয়ে গেছে।
তবে চাকরি না থাকলেও তিনি এই বিনোদনের কিছু ধারা অব্যাহত রেখেছেন। শুধু মায়ার টানে বিনা পারিশ্রমিকে রোগীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন। নিয়মিত খেলাধুলার উদ্যোগ নিয়েছেন। ব্রজ গোপাল সাহা আরও বলেন, হাসপাতালের প্রত্যেক রোগী আমার স্বজন। এই চত্বর আমার বাড়ি। তাই হাসপাতাল ছেড়ে যেতে পারি না।
পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক ডা. এটিএম মোর্শেদ আরটিভি নিউজকে জানান, এখানে কোনও চিকিৎসকের পোস্টিং দেয়া হলেই তিনি বা তারা মনে করেন তাকে ‘শাস্তি’ দেয়া হলো। ফলে এখানে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসক সঙ্কট রয়েই যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এক হাজার শয্যার নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দেয়া রয়েছে। কিন্তু এসব ফাইলবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

চিকিৎসকের সংখ্যা যেখানে বাড়ানো দরকার সেখানে অনুমোদিত ৩০ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১৭ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য মাত্র ১৩ জন চিকিৎসক দিয়েই চলছে হাসপাতাল। এর মধ্যে পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ককে প্রশাসনিক কাজেই বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়। সেদিক দিয়ে হিসাব করলে চিকিৎসক আরও কম।

চিকিৎসকের পদ ছাড়াও প্রথম শ্রেণির আটজন কর্মকর্তা পদের মধ্যে চারজনের পদ শূন্য। অন্যদিকে দ্বিতীয় শ্রেণির ৩১৬টি পদের মধ্যে ২৭৫টি পদ শূন্য, তৃতীয় শ্রেণির ১১৯টি পদের মধ্যে ৮৮টি ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ১৭০টি পদের মধ্যে ৯৭টি পদ শূন্য। এতে রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

২৬৪ জন সিনিয়র নার্সের পদ থাকলেও বর্তমানে শূন্য রয়েছে ১৬টি পদ। স্টাফ নার্সের ৪৫ জনের মধ্যে ২২টি পদ শূন্য। কর্মরত এ নার্সদের আবাসিক কোনও ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালটি শহর থেকে দূরে হলেও কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবহনের জন্য নেই কোনও যানবাহন। পরিচ্ছন্ন কর্মীদের (সুইপার) সংখ্যা অপ্রতুল। সুইপারের ৩০টি পদের মধ্যে ১৭টি পদ শূন্য। দেশের একমাত্র বিশেষায়িত এ হাসপাতালের এমন অবিশ্বাস্য করুণ অবস্থা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। সুতরাং এ হাসপাতালকে আধুনিক ও যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অনেক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। হাসপাতালটির সেবার মান আরও উন্নত করতে হলে এখানে চিকিৎসক এবং কর্মচারীদের শূন্যপদ পূরণ জরুরি।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসক ছাড়াও হাসপাতালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদেরও বিরাট প্রয়োজন। রোগীদের গোসল, খাওয়া-দাওয়া, পায়খানা-প্রস্রাব করানো ও পরিষ্কার করার কাজে পর্যাপ্ত কর্মচারী ও সুইপার প্রয়োজন। সমৃদ্ধ হাসপাতাল গড়ার চেষ্টা করছি। মানসিক হাসপাতাল সাধারণ হাসপাতালের মতো নয়। এখানকার চিকিৎসাপদ্ধতি থেকে শুরু করে সবকিছুই আলাদা। ফলে জনবল বেশি প্রয়োজন হয়। কিন্তু জনবল সংকট এখন প্রকট হয়ে উঠেছে। ফলে অনেক কাজই সঠিকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে না।

হাসপাতাল ক্যাম্পাস জঙ্গলে ভরে উঠলেও পরিষ্কার করার মানুষ নেই। এছাড়া ভবনগুলো পুরানো হয়ে গেছে। বৃষ্টির দিনে অনেক কক্ষে পানি ঢোকে। এতে রোগীদের সমস্যা হচ্ছে। এর মধ্যেই আমরা হাসপাতালকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করছি। রোগীদের প্রতিটি কক্ষে সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা সারাক্ষণ গান শুনতে পারেন। রয়েছে টেলিভিশন, পছন্দমতো অনুষ্ঠান দেখেন সবাই। এছাড়া হাসপাতালের চারপাশ নজরদারিতে রাখার জন্য সম্প্রতি ১০৭টি ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। লোডশেডিংয়ের সময় হাসপাতাল যাতে অন্ধকারে না থাকে, সে জন্য ৪৮টি সোলার বাতি স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে দুটি করে সোলার লাইট লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। রোগীদের জন্য একটি লাইব্রেরি তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে।

নারী রোগীদের সুন্দর অবকাশ কাটানোর জন্য একটি ছোট্ট পার্ক ও হ্যান্ডবল খেলার জন্য একটি কোর্ট তৈরি করা হয়েছে। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা পাবনা মানসিক হাসপাতালকে একটি সমৃদ্ধ হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।
সমস্যায় জর্জরিত এই হাসপাতাল তবু মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় অনন্য। এখনও বিশাল করিডরের এই হাসপাতালের সবুজ চত্বরে ঢুকলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়।

জেবি


আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
মাদারীপুরে একেডি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র নাগ ও তার পরিবারের নারী সদস্যকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।  বৃহস্পতিবার কালকিনি উপজেলার ডাসার থানাধীন দর্শনা বাজারে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে প্রধান শিক্ষক ও তার পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদ জানানো হয়।  এ সময় বক্তারা দ্রুত এই ঘটনার সাথে জড়িত ও অভিযুক্ত ডাসার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজের বিচার দাবী করেন। গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের কমিটি করাকে কেন্দ্র করে কালকিনি উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজ একেডি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র নাগের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের নারী সদস্যসহ প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরই প্রতিবাদ ও দোষীর বিচারের দাবীতে অনুষ্ঠিত হয় এই মানববন্ধন। উল্লেখ, ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর ইয়াবাসহ ডাসার থানা পুলিশের হাতে আটক হয় ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজ। পরে পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। এর আগে ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেফতার করে জেলার  গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রিসহ নানা অভিযোগে এনে পদত্যাগ দাবী করে একাধিকবার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। তবুও টনক নড়েনি প্রশাসনের। জিএ
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন করা হয়েছ। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে উপকূলীয় জেলা বরগুনায় নির্মাণ করা হয়েছে এ জাদুঘরের। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নকশার একশ’টি নৌকার অনুকরণে শুরু হল এই জাদুঘরের। বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন ৭৮ শতাংশ জমির ওপর স্থাপন করা হয়েছে জাদুঘরটি। বিশাল নৌকার আদলে তৈরি এ জাদুঘরটির দৈর্ঘ্য ১৬৫ ফিট এবং প্রস্থ ৩০ ফিট। এখানে থাকবে নৌকা গবেষণা কেন্দ্র, আধুনিক পাঠাগার, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, শিশু বিনোদন কেন্দ্র এবং ফুড কর্নারসহ নানা আয়োজন। জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টায় মহামারি করোনা প্রতিকূলতার মাঝেও মাত্র ৮১ দিনে সম্পন্ন হয় দেশের প্রথম নৌকা জাদুঘর নির্মাণের কাজ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এসময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীমাতৃক দেশের প্রধান বাহক হিসেবে হাজার হাজার বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে এই নৌকা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক বিভিন্ন অভিযানে নৌকা ব্যবহার করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে এই নৌকা। বঙ্গবন্ধু জাদুঘরটির মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন অনুকরণের নৌকার দেখা পাবে দেশের নতুন প্রজন্মরা- এমনটাই ভাবছেন স্থানীয় সচেতন মহল। জিএ 
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক হত্যকান্ডে জড়িত এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ।  বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে শহরের চন্ডিবের খাঁ বাড়ি এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৮ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনার মুলহোতা এবং শহরের চিহ্নিত ছিনতাইকারী ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ইমন পৌর শহরের ভৈরবপুর মধ্যপাড়ার আড়াই বেপারীর বাড়ির মৃত মাসুদ মিয়ার ছেলে।  আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন।  জানা গেছে, শহরের দুর্জয় মোড়ের পূর্ব পাশে গত সোমবার রাত সাড়ে দশটার দিকে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নিহত শ্রমিক সুনামগঞ্জের বিশম্ভপুর উপজেলার বাঘগাঁও গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে। বিয়ের মাত্র দুই মাস পর নিহত এহসানুল তার এক চাচাসহ তারা দু’জন গত দু’সপ্তাহ আগে ভৈরবে কাজের সন্ধানে এসে ছিলেন। পরে কয়েক দিন শ্রমিকের কাজ করে কিছু টাকা জমান। পরে জমানো টাকা নিয়ে গত সোমবার রাতে তারা দুর্জয় মোড় থেকে বাড়ী যাবার সময় বাসে উঠার আগে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। একই সাথে ছিনতাইকারীদের ধারালো ছুরির আঘাতে এহসানুল গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।  এ ঘটনায় পরের দিন মঙ্গলবার দুপুরে উত্তেজিত শত শত কয়লা শ্রমিকরা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ফেরিঘাট থেকে মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড় প্রদক্ষিণ করে ভৈরব থানায় প্রবেশ করে। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলে তারা ফিরে যায় এবং কাজে যোগ দেয়।  এছাড়াও এদিন (মঙ্গলবার) রাতেই নিহতের চাচা আজিজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দু’জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুঠোফোনে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ মাঠে নামে এবং প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। জিএ
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
চট্টগ্রামের আকবরশাহ এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুর ১১ সহযোগীকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঝিল এলাকার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, ছুরি, চাপাতি সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গত শনিবার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ১৭ মামলার আসামি নুরুকে খুঁজতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালায় তার সহযোগীরা। এ সময় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এসময় আটক করা হয় নুরুর সেকেন্ড ইন আজমকে।  আটককৃতদের মধ্যে হামলার ঘটনায় কয়েকজন জড়িত বলে জানিয়েছেন আকবরশাহ থানার ওসি জহির হোসেন।   পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় শনিবার রাতে আকবর শাহ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঝিল এলাকায় সরকারী পাহাড়া কেটে আলিশান বাড়ী, সেমিপাকা ঘর, মসজিদ, এতিমখানা ও গরু-ছাগলের খামার তৈরি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে নুরুর বিরুদ্ধে। জিএ
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: সিআইডির চার্জশিট, নাম নেই তিতাস কর্মকর্তাদের
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় চার মাস তদন্ত শেষে পুলিশের দায়ের করা মামলায় ২৯ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি পুলিশ। তবে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে তিতাস গ্যাসের অভিযুক্ত ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির নারায়ণগঞ্জ শাখার তদন্ত দল। চার্জশিটে প্রধান আসামি করা হয়েছে ওই মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল গফুর মিয়াকে (৬০)।  মামলায় প্রধান আসামি আবদুল গফুর মিয়া ছাড়াও অন্যান্য আসামিরা হলেন- সামসুদ্দিন সরদার (৬০), শামসু সরদার (৫৭), শওকত আলী (৫০), অসিম উদ্দিন (৫০), জাহাঙ্গীর আলম (৪০), শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল (৪৫), নাঈম সরদার (২৭), কাইয়ুম (৩৮), মামুন মিয়া (৩৮), আলমগীর সিকদার (৩৫), মাওলানা আল আমিন (৪৫), সিরাজ হাওলাদার (৫৫), নেওয়াজ মিয়া (৫৫), নাজির হোসেন (৫৬), আবুল কাশেম (৪৫), দেলোয়ার হোসেন, বশির আহমেদ (হৃদয়) (২৮), তানভীর আহমেদ (৪৫), আল আমিন (৩৫), আবদুল মালেক (৫৫), মনিরুল (৫৫), স্বপন মিয়া (৩৮), আসলাম আলী (৪২), আলী তাজম (মিল্কী) (৫৫), রিমেল (৩২), আরিফুর রহমান (৩০), মোবারক হোসেন (৪০) ও রায়হানুল ইসলাম (৩৬)।  তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। সিআইডি পুলিশের নারায়ণগঞ্জ জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় তিতাসের অভিযুক্ত আট কর্মকর্তা-কর্মচারিকে আপাতত চার্জশীটে লিপিবদ্ধ করা না হলেও তাদেরকে মামলায় রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে  অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন পেলেই তাদেরকে আসামি হিসেবে চার্জশীটে সম্পৃক্ত করা হবে। তবে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি তিনি। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, সিআইডি আদালত পুলিশের কাছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চার্জশিট জমা দিয়েছে। রোববার তা আদালতে পেশ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজ চলাকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মসজিদের অভ্যন্তরে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ থেকে স্পার্ক ও অবৈধ গ্যাস পাইপ লাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসের মিশ্রনে এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি পুলিশ। এই বিস্ফোরণে ৩৭ জন গুরুতর দ্বগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের মধ্যে ৩৪ জন মারা যান। জিএ
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: সিআইডির চার্জশিট, নাম নেই তিতাস কর্মকর্তাদের
আরও পড়ুন
হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া শিশু ৮ দিন পর উদ্ধার
শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে ১০ কোটি টাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ধর্মঘটে ময়মনসিংহ মেডিকেলের বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা বন্ধ
‘বেসরকারি হাসপাতাল থেকেও ভ্যাকসিন দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে’