প্রেমিকাকে ধর্ষণ করলো দুই বন্ধু মিলে

প্রকাশ | ১০ নভেম্বর ২০২০, ২১:৩৪

বরগুনা প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ
ফাইল ছবি

বরগুনার আমতলীতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেহেদী (২০) ও রাসেল (২২) নামে দুই বখাটের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণ শেষে স্কুলছাত্রীর নগ্ন ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করে পুনরায় তাদের ডাকে সাড়া না দিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়ারও অভিযোগ করেন ধর্ষণের শিকার ওই  শিক্ষার্থী। 

জানা গেছে, মান-সম্মানের ভয়ে ভিকটিমের অভিভাবক আইনগত কোনও পদক্ষেপ নিতে সাহস পাচ্ছেন না। আজ মঙ্গলবার স্বজনরা ভিকটিমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।

আমতলী উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামের বারেক মৃধার ছেলে ট্রাকের হেলপার বখাটে মেহেদী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৫ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে গত ৬ মাস ধরে উত্যক্ত করে আসছিল। কিন্তু বখাটের প্রেমের প্রস্তাবে প্রথমে রাজি হয়নি ওই স্কুলছাত্রী। কিন্তু গত ৩ মাস পূর্বে বখাটে মেহেদী ওই ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে।

গত ৭ নভেম্বর শনিবার বিকেলে বখাটে মেহেদী ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে দেখা করবে বলে পৌর শহরের নতুন বাজার বাঁধঘাট চৌরাস্তা সংলগ্ন খাবার হোটেলে (রেস্টুরেন্টে) আসতে বলে। ভিকটিম স্কুল ছাত্রীটি মেহেদীর কথামত ওই খাবার হোটেলে যায় দেখা করতে। এসময় মেহেদী তার বন্ধু রাসেলকে নিয়ে ওই হোটেলে ওই ছাত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসে। এসময় মেহেদী তার ভাবীকে দেখানোর কথা বলে কৌশলে ওই স্কুলছাত্রীকে হোটেলের সামনে জনৈক সোলায়মানের বাসায় নিয়ে যায়। ওই সময় সোলায়মান দুই বখাটে ওই স্কুলছাত্রীকে ঘরে তুলে দিয়ে ঘরের বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যায়। পরে দুই বন্ধু মিলে ওই ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে।

পরে ওই স্কুলছাত্রীর নগ্ন ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করে দুই বখাটে। এই ধর্ষণের ঘটনা কাউকে জানালে এবং পুনরায় তাদের ডাকে সাড়া না দিলে ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে সেসময় তাকে ছেড়ে দেয়। ওই দিন রাতেই বাসায় গিয়ে ওই শিক্ষার্থী তার ধর্ষণের ঘটনা পরিবারকে জানায়। মেয়ের নগ্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার ভয়ে ওই স্কুলছাত্রীর অভিভাবকরা এ ঘটনায় এতদিন পর্যন্ত কোনও আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহস পায়নি।

স্কুলছাত্রীর বাবা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেয়ের নগ্ন ছবি ছেড়ে দেয়ার ভয়ে আমি এতদিন এ বিষয়ে কোন আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহস পাইনি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী মুঠোফোনে বলেন, ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী দুইদিন পরে এ নমুনার প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ভিকটিম ওই স্কুল ছাত্রীর সাথে কথা বলেছি। এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এসএস