ভালোবাসার পরীক্ষা দিতে গিয়ে আগুনে পুড়ে মরলো চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা (ভিডিও)

প্রকাশ | ০৮ নভেম্বর ২০২০, ১৪:৫৮

ভালোবাসার পরীক্ষা দিতে গিয়ে আগুনে ঝলসে জীবন দিতে হলো যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কাউরিয়া ঋষিপাড়া অন্তঃসত্ত্বা পুতুল রানী দাসকে। স্বজনদের অভিযোগ চোখের সামনে এমন ঘটনা ঘটলেও তাকে রক্ষা না করে বসে ছিলেন স্বামী। অবশ্য স্বামী ও তার পরিবারের দাবি রাগের বসে আত্মহত্যা করেছেন পুতুল এবং তাকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনিও দগ্ধ হয়েছেন। পুলিশ বলছে পারিবারিক কলহের জের ধরে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ ওঠায় প্রদীপকে আটক করা হয়েছে। 

চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন পুতুল রানী দাস। প্রতিবেশীর টিউবওয়েলে যাওয়া নিয়ে ঝগড়ার হওয়ায় তাকে সেখানে যেতে নিষেধ করেছিলেন তার স্বামী। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক কলহের এক পর্যায়ে স্বামীর প্ররোচনায় পুতুল নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দিলেও তাকে রক্ষার কোনও চেষ্টাই করেননি স্বামী। এমন অভিযোগ পুতুলের পরিবারের। 

নিহত পুতুলের মা বলেন, ছেলে নেশা করে এবং ঘরের ভেতর থেকে তালা দিয়ে ওভাবেই আগুন ধরিয়ে দেয়। পুতুলের ফুফু বলেন, কারও কাছে যেতে দিতো না এমন কি কারও সাথে মিশতেও দিতো না। ওই ঘরে রেখে শুধু নির্যাতন করতো। 

প্রতিবেশীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে প্রদীপ ও তার স্ত্রী পুতুলের মধ্যে ঝগড়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে তাদের চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখেন ঘরের মধ্যে আগুন জ্বলছে। এসময় প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে ঝিকরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। পুতুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় রেফার করা হয়। সেখান থেকে সকালে ঢাকায় নেয়ার পথে গোপালগঞ্জে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই মারা যান পুতুল। 

প্রতিবেশীরা বলেন, আমরা বলেছি দরজা খুলো পরে সে বলে চাবি খুঁজে পাচ্ছি না। এর পর দরজা ভেঙে পুতুলকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

অবশ্য পুতুলের স্বামী প্রদীপ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, লোকজন যা বলছে তা মিথ্যা কথা। আমি ওকে পুড়াই নাই। 

এদিকে পুলিশ বলছে, অভিযোগ ওঠায় প্রদীপকে আটক করা হয়েছে। যশোর নাভারণ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান বলেন, সদর হাসপাতালে আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি পুলিশ পাহারায় এবং পরবর্তী যে আইনের কার্যক্রম আছে তা চলমান রয়েছে। 

জিএম/এসএস