আল্লাহকে বিচার দিয়ে ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন ভূমি কর্মকর্তা

প্রকাশ | ০১ নভেম্বর ২০২০, ১৭:৫০ | আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২০, ১৮:১৬

কুড়িগ্রাম (উত্তর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ
ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম

১৯ শতক জমির নাম খারিজের জন্য আট হাজার টাকা ঘুষ নেন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।

তিন মাস জমির মালিককে ঘুরানোর পর আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি। পরে বিষয়টি বাক-বিতণ্ডার পর্যায় গেলে অফিসে আসা উপস্থিত লোকজন বিষয়টি ধরে বসেন। উপায় না দেখে ঘুষ নেয়া আট হাজার টাকার মধ্যে পাঁচ হাজার টাকা ফেরত দেন নজরুল ইসলাম। এ সময় টাকা গুণতে গুণতে আল্লাহর কাছে বিচারও দেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটে গেলো বুধবার সকালে আন্ধারীঝাড় ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে অবস্থিত ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। ঘটনার পুরো বিষয়টি সবার সামনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন ভুক্তভোগীর স্বজন।

ঘটনাটি সম্পর্কে অনুসন্ধানে সরেজমিনে গেলে ভূমি উপসহকারী নজরুল ইসলামের প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্যের কথা বেড়িয়ে আসে। ভুক্তভোগীরা জানান, একটি নামজারি ও খারিজ নিতে তাকে ঘুষ দিতে হয় পাঁচ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। জমির পরিমাণ কিংবা ব্যক্তির অবস্থা দেখে টাকার অংকটা আরও বেড়ে যায়। জমিজমা সংক্রান্ত যেকোনো সাধারণ কাজে তার অফিসে ঘুষ দেয়া নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাহিদামতো ঘুষ দিতে না পারলে মাসের পর মাস ঘুরেও ভূমিসংক্রান্ত কোনও কাজ হয় না তার কাছে। ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ ইউনিয়নবাসী।

ঘুষের টাকা ফেরত নেয়া আশিকুর রহমান জানান, তিন মাস আগে তাদের ১৯শতক জমির খারিজের জন্য সরকারি ফি বাদে অতিরিক্ত আট হাজার টাকা দাবি করেন। আমরা সে টাকা দুই দফায় তাকে দেই। পরে তিন মাস পার হয়ে গেলেও তিনি খারিজ না দিয়ে আরও বিশ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ঝগড়া বাধলে তিনি সবার সামনে আমাকে পাঁচ হাজার টাকা ফেরত দেন। এ বিষয়ে ওই অফিসের অফিস সহায়ক ইউসুফ আলী জানান, বেশ কিছুদিন আগে অফিসেই আমার সামনেই স্যার আশিকুরের কাছে খারিজের জন্য ২০ হাজার টাকা চেয়েছেন।

ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম জানান, তার একটা খারিজের জন্য পাঁচ হাজার টাকা নিলেও পাঁচ মাস থেকে ঘুরাচ্ছেন তাকে। বিধবা রোদেলা বেগম জানান, তার খারিজের জন্য ছয় হাজার টাকা দাবি করেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা, তিন হাজার টাকা দেয়ার পর আর টাকা দিতে না পারায় তার খারিজ হয়নি। আরেক ভুক্তভোগী আব্দুল কালাম জানান, তার কিছু জমির খাজনা দিতে এলে ওই কর্মকর্তা ৮২ হাজার টাকা দাবি করে কয়েকদিন ঘোরাঘুরির পর উপরের লোক ধরে তা ১৫ হাজার টাকায় সমাধান হয়েছে।   

ইউনিয়নটির আওয়ামী লীগের সাবেক সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের জানান, ঘটনার দিন বুধবার আমি ওই অফিসে ছিলাম। সব ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। এই ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্য চরমে উঠেছে। এর প্রতিকার দরকার।

আন্ধারীঝাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজু আহম্মেদ খোকন জানান, উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের ঘুষ লেনদেনে অভিযোগ প্রায়ই আসে তার কাছে। তিনি কারও তোয়াক্কা করেন না। দিন দিন তার অন্যায় কর্মকাণ্ড বেড়েই চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পের টাকার বিনিময়ে তালিকা করায় মেম্বারদের হাতে তিনি কিছুদিন আগে লাঞ্ছিত হয়েছেন। 

আরও পড়ুনঃ

পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন

কুষ্টিয়ায় ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

বরিশালে এক লাখ মিটার জালসহ ২২ জেলে আটক

ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে উপ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, আমার বলার ভাষা হারিয়ে গেছে। আমার বিরুদ্ধে লাখ-লাখ অভিযোগ মানুষ দিতে থাক। আমার উপরেও তো বিগ বসেরা আছেন। তাদের ছায়াতো রয়েছে আমার মাথার ওপরে। তারা দেখবেন সবকিছু।

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামরী উপজেলা কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মা বলেন, কোনও অফিসে টাকা পয়সার বিষয়ে অভিযোগ নেই? সাব-রেজিস্ট্রার, ভূমি অফিস, বিআরটিএসহ সব অফিসেই এরকম অভিযোগ আছে। অভিযোগ প্রমাণিত হতে হবে। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেবি/পি