গুলশানে দুই বোনকে বাড়িতে প্রবেশের নির্দেশ: হাইকোর্ট

প্রকাশ | ২৬ অক্টোবর ২০২০, ২১:১৯

আরটিভি নিউজ
মুশফিকা মোস্তফা ও মোবাশ্বেরা মোস্তফা

রাজধানী গুলশানে বাবার বাড়িতে দুই মেয়ে প্রবেশ করতে না পারায় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর নড়েচড়ে বসে সকল মহল। অবশেষে দুই বোনকে বাড়িতে প্রবেশ নিশ্চিতে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে বিচারপতি মো.নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে সোমবার সন্ধ্যায় এ আদেশ দেন।

সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদের দুই ভাতিজিকে ঢাকার গুলশানে বাবার বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী দুই বোন। ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাই মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের দুই মেয়ে মুশফিকা মোস্তফা ও মোবাশ্বেরা মোস্তফাকে গুলশান ২–এ ৯৫ নম্বর সড়কের বাসায় অনতিবিলম্বে প্রবেশ নিশ্চিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে রাতেই ওই বাড়িতে তাদের প্রবেশ ও অবস্থান নিশ্চিত করার পর রাতেই গুলশান থানার ওসিকে সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসারকে টেলিফোনে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ১ নভেম্বর পর‌্যন্ত ওই বাসায় দুই বোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি গুলশান থানার ওসিসহ ১ নভেম্বর দুই মেয়ে এবং ওই বাড়িতে থাকা আঞ্জু কাপুরকে হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়েছে।

আদালতের আদেশ নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়, তাদের সৎ মা জগলুল ওয়াহিদের দ্বিতীয় স্ত্রী আনজু কাপুর তাদের বাসায় ঢুকতে বাধা দেয় না। ওই দুই বোনের অভিযোগের বিপরীতে থানায় পাল্টা জিডি করেছেন আনজু কাপুর। ভারতীয় নাগরিক আনজু কাপুরের অভিযোগ তারা দুই বোন ‘জোর করে বাসায় ঢোকার’ চেষ্টা করছেন।

ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাই মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ ছিলেন বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন। গুলশান ২ নম্বর সেকশনের ৯৫ নম্বর রোডের ৪ নম্বর হোল্ডিংয়ে ১০ কাঠা জমির ওপর ওই বাড়ি তারই করা। জগলুল ওয়াহিদ ২০০৫ সালে চাকরি থেকে অবসরে যান; ওই বছরই স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়। পরে তার স্ত্রী গুলশানেই অন্য এক বাসায় ওঠেন। মুশফিকা ঢাকায় তার মায়ের সঙ্গে থাকেন। আর মোবাশশারা স্বামীর সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। গত ১০ অক্টোবর বাবার মৃত্যুর পর দাফন শেষে দুই বোন গুলশানের ওই বাসায় ঢুকতে গিয়ে বাধা পান বলে তাদের অভিযোগ।