শাশুড়ির শতকোটি টাকা আত্মসাৎ করে স্ত্রীসহ আ.লীগ নেতা কারাগারে

প্রকাশ | ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১৮:৫৬

বগুড়া প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ
আনোয়ার হোসেন রানা ও স্ত্রী আকিলা সরিফা

বগুড়ায় শতকোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন রানা ও তার স্ত্রী আকিলা সরিফাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৫ অক্টোবর) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থণা করলে শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রবিউল আওয়াল। বাদী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ১ অক্টোবর রাতে আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন রানার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করেন তার শাশুড়ি দেলওয়ারা বেগম। এবং বগুড়া সদর থানা পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষে ৫ অক্টোবর মামলাটি রেকর্ড করেন।

এজাহারে রানার স্ত্রী আকিলা সরিফা সুলতানাসহ সরিফ উদ্দিন সুপার মার্কেট লিমিটেডের ৩ ব্যবস্থাপককে আসামি করা হয়। এরপর ৫ অক্টোবর মামলাটি সদর থানায় রেকর্ড করা হয়। মামলা রেকর্ড হওয়ার পর ১১ অক্টোবর রানা ও তার স্ত্রী উচ্চ আদালতে জামিন প্রার্থণা করেন। সেখানে শুনানি শেষে আদালত তাদেরকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কোর্টে হাজির হতে বলেন।

দেলওয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, তার বয়স এবং অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে আনোয়ার হোসেন রানা এবং তার স্ত্রী আকিলা সরিফা তার মালিকানাধীন সব প্রতিষ্ঠানের দেখাশোনার দায়িত্ব মৌখিকভাবে গ্রহণ করেন। শহরের কাটনারপাড়া এলাকায় একই বাড়িতে থাকার কারণে রানা বিভিন্ন সময় নানা ধরনের কাগজপত্রে তার স্বাক্ষরও গ্রহণ করেন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর তিনি জানতে পারেন যে, এর আগেই আনোয়ার হোসেন রানা অন্য আসামিদের সহযোগিতায় বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরি করে ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে ব্যাংকে রাখা ৫০ কোটি টাকার এফডিআর এবং অন্যান্য ব্যাংকে রাখা আরও ৫০ কোটি টাকাসহ মোট ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।

উল্লেখ্য, আনোয়ার হোসেন রানা ২০০৯ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টির অঙ্গ সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের নন্দীগ্রাম উপজেলার নেতা ছিলেন। তার বর্তমান স্ত্রী আকিলা শরীফের প্রথম স্বামী ছাইফুল ইসলাম এর প্রতিষ্ঠান দুর্জয় বাংলায়  স্বল্প বেতনে চাকরি করতেন।

ছাইফুল ইসলাম  মৃত্যু বরণ করলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে রানা এবং আকিলা শরীফের। রানা স্ত্রী সন্তান থাকা অবস্থায় এই সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। আকিলা শরীফের ঘরেও দুই ছেলে সন্তান থাকা অবস্থায় তাদের ফেলে দু'জনে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। দীর্ঘদিন পর বগুড়ায় ফিরে চতুর আনোয়ার হোসেন রানা আওয়ামী লীগে যোগদান করেন ।

এরপর প্রভাব বিস্তার করে আকিলা শরীফের অন্য বোন এবং ভগ্নিপতিদের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা থেকে সরিয়ে দিয়ে নিজের আসন পাকাপোক্ত করেন। আওয়ামী লীগে যোগদান করেই উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা বনে যান। এরপর জেলা পরিষদের সদস্য হন জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে সুকৌশলে নিজের পক্ষে নিয়ে ।

শ্বশুর বাড়ির বিপুল সম্পত্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অজুহাতে শাশুড়িকে সুকৌশলে কব্জায় নিয়ে  রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া রানা হয়ে ওঠেন বগুড়ার আলোচিত একজন ।

জিএম/ এমকে