logo
  • ঢাকা সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ২১ অক্টোবর ২০২০, ১৬:১০
আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২০, ১৬:৩২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জোড়া খুনের আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি

Demand for arrest, of twin murder accused, rtv news
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জোড়া খুনের মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সস্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রভাবশালীদের কারণে পুলিশ মামলার অভিযোগপত্রের আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না বলে অভিযোগ করেন।  বুধবার সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সস্মেলনের আয়োজন করে দুই বোন।

নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের জুলাইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাসিমা বেগম ও তাছলিমা বেগম। তারা সম্পর্কে আপন দুই বোন।

২০১৭ সালের এক মার্চ সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলার সাতমোড়া ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে নাছিমার স্বামী ইয়াছিন মিয়া ও তার ছোট বোন তাছলিমার স্বামী খন্দকার এনামুল হককে প্রতিপক্ষের লোকজন হত্যা করে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাছলিমা বেগম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ১ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় সাতমোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ রানা ও ইউপি সদস্য সেন্টু মিয়ার নেতৃত্বে আমার স্বামী ও ভগ্নিপতিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়।

মাসুদ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হালিমের আপন ভাই। ঘটনার পরপর মামলা করতে গেলে প্রভাবশালীদের মহলের কারণে নবীনগর থানার পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করেনি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ঢাকার মালিবাগ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত মহা-পরিদর্শককে নির্দেশ দেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ২৮ জনকে আসামি করে ২০১৮ সালের দুই অক্টোবর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত প্রতিবেদনের পর আদালত ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ২০১৯ সালে জানুয়ারি মাসে ইউপি সদস্য সেন্টু মিয়াসহ ১২ জন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এই ১২ জন আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান।

তিনি বলেন, অভিযোগপত্রভুক্ত তিন নম্বর আসামি ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ রানাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে এখনও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। একাধিকবার নবীনগর থানায় গিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কাছে অনুরোধ করেছি। কিন্তু পুলিশ প্রভাবশালী মহলের চাপে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করছে ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদসহ বাকিদের গ্রেপ্তার করছে না। বিষয়টি পুলিশ সুপারকেও অবহিত করেছি। তিনি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য নবীনগর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। তারপরও অজ্ঞাত কারণে নবীনগর থানা পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করছেন না।

আরও পড়ুনঃ

মেগা প্রজেক্টে চলছে মেগা দুর্নীতি : ফখরুল

রাতে মা গেলেন গল্প করতে, বাড়িতে একা পেয়ে মেয়েকে ধর্ষণ

সাতমোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বলেন, তারা ডাকাত ছিল। গণপিটুনিতে তাদের মৃত্যু হয়েছে। আর এটি একটি মিথ্যা মামলা। আমি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছি।

নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হালিম বলেন, তারা চিহ্নিত ডাকাত। গণপিটুনিতে তাদের মৃত্যু হয়েছে। গ্রেপ্তার করা বা না করা এসব বিষয়ে আমি পুলিশকে কিছু বলিনি।  

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন আরটিভি নিউজকে বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে অবশ্যই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। তবে বিষয়টি আমার জানা নেই। কারণ আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি।

জেবি

RTVPLUS