logo
  • ঢাকা শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ক্লান্তিকে বিদায় দিবে রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান

Rajshahi Central, Park will say goodbye, rtv news
রাজশাহী শহীদ এ এইচ এম কামরুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা
সবুজের তরে মুক্তির নিঃশ্বাসের আশায় অপেক্ষায় আছে রাজশাহীবাসী। গাছের ভিড়ে পাখির সুর আর হালকা দমকা হাওয়ার মধ্যে সবুজ পাতার নৃত্য দেখার বায়না ধরে পথ চেয়ে আছে ছোট শিশুরা। নতুন উদ্যানটি মানুষের হৃদয়ের গহীনেকে স্পর্শ করবে সবুজের সমাহার দিয়ে।

প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য ঢেলে সাজানো হচ্ছে রাজশাহী শহীদ এ এইচ এম কামরুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা। এই কেন্দ্রীয় পার্কটিকে বোটানিক্যাল গার্ডেনে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে নয়নাভিরাম, আকর্ষণীয় ও মনোরম সৌন্দর্যে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে পার্কটির কর্তৃপক্ষ।

শহীদ এ এইচ এম কামরুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা ব্রিটিশ আমলে ঘোড়দৌড়ের মাঠ ছিল। ব্রিটিশ আমলে প্রতিবছর এ মাঠে ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো। ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা বন্ধ হওয়ার পর, এই জায়গাটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। ১৯৭২ সালে ৩২.৭৬ একর (প্রায় ৩৩একর) আয়তনের ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার এ জায়গাটি চিড়িয়াখানা তৈরির পরিকল্পনা শুরু হয়। পরে ১৯৮৩ সালে এটি চিড়িয়াখানায় রূপ নেয়।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যানের ভ্যাটেনারি চিকিৎসক ফরহাদ হোসেন আরটিভি নিউজকে জানান, কেন্দ্রীয় উদ্যানটি ঢেলে সাজানোর জন্য গেলো দুই বছর আগে এর ভেতরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কর্তৃপক্ষ মনে করছে নভোথিয়েটার নির্মাণের ফলে কেন্দ্রীয় উদ্যানটি আরও দর্শনীয় হবে।

আগামীতে দর্শনার্থীর পরিমাণ বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় উদ্যানটির ভেতরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণের জন্য প্রায় দুইশ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

এর আগে নভোথিয়েটার নির্মাণের জন্য আরও বেশ কিছু গাছ কাটা হয়। সেইসব গাছের জায়গায় রোপণ করা হবে নতুন নতুন বিরল, বিপন্ন, বিলুপ্তপ্রায় ও দুর্লভ প্রজাতির গাছ।

পরিকল্পিতভাবে সাজানো হবে রাজশাহীর শহীদ এ এইচ এম কামরুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা। আমরা আমাদের নার্সারিতে এ ধরনের গাছ লাগিয়েছি এবং আরও বেশ কিছু গাছ লাগাবো। সে গাছগুলো নির্দিষ্টভাবে পরিচর্যার পর আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী চিহিৃত জায়গাগুলোতে লাগাবো এমনটাই জানান রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিবেশবিদ হেলেন খাতুন।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, রাজশাহীর কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানাকে শহীদ এ এইচ এম কামরুজ্জামানের নামে নামকরণ করা হয়েছে। সেই কেন্দ্রীয় পার্কটিকে বোটানিক্যাল গার্ডেন হিসেবে আমরা রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছি। এর আগে এই পার্কটিতে অপরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো হয়েছিল। একই জাতের গাছের সংখ্যা ছিল প্রচুর। সে গাছগুলোকে চিহিৃত করে তা কমিয়ে সেই জায়গায় বিরল প্রজাতির গাছ লাগানোর কাজ করছি। যারা উদ্ভিদপ্রেমী অথবা যারা গবেষণা কাজ করবেন তাদের উপকারে আসে অথবা সাধারণ মানুষ যারা দেখতে আসবেন তাদের প্রকৃতির মাঝে কিছু হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করবে এমনভাবে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।

পাশাপাশি এই পার্কটির সংলগ্নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। নভোথিয়েটারটি নির্মাণ হলে রাজশাহী-রংপুরে এই বিস্তীর্ণ এলাকার শিক্ষার্থীদের মহাকাশ সম্পর্কে জানবার উপযুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে। এখানে প্রায় আড়াইশো ফিট উঁচু ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করব। সেই ওয়াচ টাওয়ার থেকে পুরো শহরের সবুজ নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখা যাবে।

মুক্ত আসমানের নিচে নিস্তব্ধতার মাঝে জীবন ক্লান্তিকে বিদায় দেবার জন্য নতুন উদ্যানটি হবে রাজশাহীবাসীদের জন্য সবুজ গাছ পালার মধ্যে বিচরণ।

জিএম/জেবি

RTVPLUS