logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ভাঙচুর, আ.লীগ নেত্রী-বিএনপি নেতার নামে মামলা

বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ভাঙচুর, আ.লীগ নেত্রী-বিএনপি নেতার নামে মামলা
ফাইল ছবি
ঝালকাঠি সুগন্ধা পৌর আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ভাঙচুরের ঘটনায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (বহিষ্কারের জন্য প্রস্তাবিত) শারমীন মৌসুমি কেকা ও শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান তাপুসহ ১৭ জনের নামে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রীতা মণ্ডল বাদী হয়ে সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক এ.এইচ.এম ইমরানুর রহমান ঝালকাঠি থানার ওসিকে মামলাটি রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ থাকলেও ১৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। 

মামলায় প্রধান শিক্ষক রীতা মণ্ডল অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের উত্তরপূর্ব কর্নারে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতীক ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শহীদ মিনারে ছাত্রী ও শিক্ষকরা প্রতি বছর ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছিল। গত ১৪ আগস্ট বিদ্যালয়ের সভাপতি পদ থেকে বাদ পড়া শারমীন মৌসুমি কেকা, আনিসুর রহমান তাপু ও ফাতেমা শরীফের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা আরও ১২-১৪ জন সন্ত্রাসী প্রকৃতির ব্যক্তিরা সুগন্ধা পৌর আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ভেঙে মাটির সাথে গুড়িয়ে দেয়। স্থানীয় কিছু লোকজন ও কয়েকজন অভিভাবক শহীদ মিনার ভাঙার কারণ জানতে চাইলে ও বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে আসামিরা পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে সকলকে সরে যেতে বাধ্য করেন। 

বাদীর আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শহীদ মিনার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাবর সম্পত্তি। আসামিরা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন করে ইচ্ছাকৃতভাবে ভাষা আন্দোলন ও আন্দোলনের প্রতীক শহীদ মিনার ভাঙচুর করে মারাত্মক অপরাধ করেছে। যা দ্রুত বিচার আইনে বিচারযোগ্য বলেও জানান তিনি। 

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ নেত্রী শারমিন মৌসুমি কেকা ও বিএনপি নেতা আনিসুর রহমান তাপুর বিরুদ্ধে এক নারীকে চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর একটি মামলা দায়ের হয়। এ মামলা দায়েরের পরপর ক্ষমতাসীন দল থেকে শারমিন মৌসুমি কেকাকে বহিষ্কারের দাবি ওঠে। পরে জেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরি সভায় কেকাকে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে সুপারিশ করা হয়।

জিএম/এসএস

RTVPLUS