মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তার

প্রকাশ | ১২ অক্টোবর ২০২০, ১৩:০৬ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২০, ১৫:০৩

চাঁদপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ
মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তার

চাঁদপুরে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মসজিদের ইমাম ফয়সাল আহমেদ খানকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। ফয়সাল আহমেদ খান চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রোডস্থ রাশেদিয়া জামে মসজিদের ইমাম। 

জানা গেছে, ফয়সাল আহমেদ খান মসজিদের সাথে একটি কক্ষে মাদরাসার ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। ঘটনা জানাজানি হলে ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে ইমাম ফয়সাল আহমেদকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ধর্ষিতা কিশোরী চান্দ্রা ফাজিল ডিগ্রি দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী।   

মামলাটি প্রথমে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করলেও আসামিকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় অবশেষে আদালত মামলাটি পিবিআইর কাছে হস্তান্তর করেন। গত শনিবার পিবিআইর পুলিশ কর্মকর্তা এসআই ফারুক হোসেন আধুনিক প্রযুক্তি অবলম্বন করে ঢাকার টিকাটুলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে চাঁদপুরে এনে আদালতে প্রেরণ করলে বিজ্ঞ আদালত ধর্ষণ মামলার আসামি ফয়সাল আহমেদ খানের জামিন নামঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেন। 

স্থানীয়রা জানায়, রাশেদিয়া জামে মসজিদের ইমাম ফয়সাল মসজিদে থেকে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে, তা খুবই ন্যক্কারজনক ঘটনা। মাদরাসার ছাত্রী মসজিদে পড়তে এসে এই ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইমামকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভও করেছেন। ধর্ষক ফয়সালের উপযুক্ত বিচার দাবি করেন এলাকাবাসী।

ধর্ষিতার মা জানান, রাশেদিয়া জামে মসজিদের ইমাম ফয়সালের কাছে প্রতিদিন সকাল ছয়টায় তার মেয়ে কোরআন শরীফ পড়ার জন্য মসজিদে যায়। এ সময় লম্পট ফয়সাল মসজিদের অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের ছুটি দেয়ার পর মসজিদের সাথে তার রুম পরিষ্কার করার জন্য বলে। এ সময় ইমাম ফয়সাল সুযোগ বুঝে তার রুমে ঢুকে দরজা আটকে জোরপূর্বক মেয়েকে ধর্ষণ করে ও মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখে। মেয়েকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ও তার নগ্ন ছবি মানুষকে দেখাবে বলে হুমকি দিয়ে প্রতিদিন তার সাথে অবৈধ মেলামেশা করতো। লম্পট ইমাম ফয়সাল আহমেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তার ফাঁসি চাই।

আরও পড়ুনঃ
ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলা: জামিনে মুক্ত নৈশপ্রহরী পলাশ
নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিক হত্যায় গ্রেপ্তার ৩

মামলার তদন্তকারী পিবিআইর পুলিশ কর্মকর্তা এসআই ফারুক হোসেন জানায়, মাদরাসার ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ইমাম ফয়সাল আহম্মেদের নামে মামলা দায়ের করা হলে আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআইর ইনচার্জ মাহবুবের নির্দেশে আধুনিক প্রযুক্তি অবলম্বন করে ঢাকার টিকাটুলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইমাম ফয়সালকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। ইমাম ফয়সাল ধর্ষণের ঘটনাটি স্বীকার করেন এবং মেয়েটিকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। 

তিনি বলেন, এই ধর্ষণের সহযোগিতা ও ঘটনা ধামাচাপা দিতে যারা জড়িত রয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি  প্রদান করা হবে। ধর্ষণের ঘটনায় আসামি ফয়সাল খানের বিরুদ্ধে আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হবে।
পি