২১ বছর পর ধর্ষণ মামলার রায়

প্রকাশ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:৩২ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:১৭

মাদারীপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ
আদালত

মাদারীপুরে ১৫ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় সামচুল হক নামে একজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

একইসঙ্গে অপর দুই আসামির দোষ প্রমাণ না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা এই রায় প্রদান করেন। তবে, দণ্ডপ্রাপ্ত সামচুল হক পলাতক রয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ কানাইপুর গ্রামের প্রভাবশালী শামসুল হক নজর পড়ে একই এলাকার দরিদ্র পরিবারের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর ওপর। তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করতে ব্যর্থ হয়ে প্রলোভন দেখিয়ে একটি নীল কাগজে ভুয়া বিয়ের কাবিননামা দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন ওই ব্যক্তি।

 এতে ওই ১৫ বছর বয়সী কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়ে। পরে স্বামী ও সন্তানের স্বীকৃতি চাইলে অস্বীকার জানান শামসুল হক। স্বামী ও সন্তানের স্বীকৃতির জন্য বিচারের আশায় ১৯৯৯ সালের ২৮ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরিবারটি অসহায় হওয়ায় মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নেয় মাদারীপুর লিগাল এইড অ্যাসোসিয়েশন।

একপর্যায়ে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতেও রিট করে এবং বিভিন্ন কৌশলে দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি দীর্ঘসূত্রিতার চেষ্টা করে। গত ২০১৭ সালে আদালত ডিএনএ টেস্টের জন্য নির্দেশনা প্রদান করে।

 কিন্তু আসামি শামসুল হক হাওলাদার এখন পর্যন্ত ডিএনএ টেস্ট করেননি। প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে ও শারীরিক সম্পর্কে জন্ম নেয়া ওই নারীর ছেলের বয়স এখন ১৯ বছর ৬ মাস। পরে আদালত ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে শামসুল হকের ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন। একইসঙ্গে অপর দুই আসামির দোষ প্রমাণ না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়েছে।

মাদারীপুর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান সিং জানান, রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। দ্রুত রায় কার্যকর করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আসামি গ্রেপ্তারসহ সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশনের বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল হাসান জানান, ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। মামলায় স্ত্রী হিসেবে ও জন্ম নেয়া সন্তানের স্বীকৃতি এবং ভরণপোষণ বাবদ ক্ষতিপূরণ এবং আসামির বিচার দাবি করা হয়। রায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করেন আদালত। জরিমানার অর্ধেক পাবে মামলার বাদী ও বাকি অর্ধেক টাকা ক্ষতিগ্রস্ত কিশোরীকে দিতে বলা হয়েছে।

জেবি