logo
  • ঢাকা রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৫ আশ্বিন ১৪২৭

জন্মের আগের বছর দাখিল পাস, পরের বছর আলিম

  নওগাঁ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ, আরটিভি নিউজ

|  ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:২৯ | আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:০৮
Certificate tampering
কাজী বেলাল হোসাইনের জালিয়াতি সার্টিফিকেট
নওগাঁর রাণীনগরে নিজ শিক্ষকের সনদপত্র টেম্পারিং (মিশ্রিতকরণ) করে জন্মের এক বছর আগেই দাখিল পাস ও জন্মের এক বছর পরেই আলিম পাশের সার্টিফিকেট জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই সনদপত্র জালিয়াতি করে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে নিকাহ রেজিস্টারের কাজ করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হয়েছে কাজী বেলাল হোসাইন। কাজী বেলাল অর্থের বিনিময়ে জালিয়াতি করে সার্টিফিকেট দাখিল করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে নিকাহ রেজিস্টার (কাজীর) লাইসেন্স বাগিয়ে নেন। তখন থেকে অদ্যাবধি আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

এ নিয়ে রাণীনগর থানায় একটি মামলা হওয়ার পর (মামলা নং-০৬, তাং ২২-০২-২০০৫, ধারা-৪৬৬/৪৬৭/৪৭১/৪২০/৩৪ দ. বি.) চার্জশিট দাখিল হয়। সেই মামলা এখনও চলমান রয়েছে। অর্থের বিনিময়ে সবই এখন কাজী বেলালের হাতের মুঠোয়। জাল জালিয়াতির মধ্যে দিয়ে জীবনের উত্থান শুরু হয় নামধারী কাজী বেলাল হোসেনের।

বিভিন্ন অভিযোগ থেকে জানা যায়, জেলার রাণীনগর উপজেলার পাঁচ নম্বর বড়গাছা ইউনিয়নের গহেলাপুর গ্রামের নাজিম উদ্দীনের ছেলে মো. বেলাল হোসেন। রাণীনগর আল-আমিন দাখিল মাদরাসা থেকে পাশের সনদ অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৮৪ সাল। কিন্তু প্রাপ্ত বয়স (কাজী হতে হলে সরকারি বিধি মোতাবেক নূন্যতম বয়স ২১বছর) না হলেও ২০০৩ সালে কিভাবে কাজীর লাইসেন্স পায় বেলাল হোসেন তা নিয়ে সচেতন মহলে রীতিমতো হৈ চৈ পড়ে যায়।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, আল-আমিন মাদরাসার রেকর্ডপত্র অনুসারে বেলাল হোসেনের জন্ম  ১ জানুয়ারি, ১৯৮৪।

কিন্তু জন্মের আগেই ১৯৮৩ সালে দাখিল ও  জন্মের এক বছর পর ১৯৮৫ সালে আলিম পাশ করার সনদপত্র দাখিল করে কাজীর লাইসেন্স বাগিয়ে নেন। উপজেলার মালঞ্চি গ্রামের মৃত ময়েন উদ্দীনের ছেলে রাণীনগর আল-আমিন দাখিল মাদরাসার শিক্ষক বেলাল উদ্দীন বগুড়ার কাহালু উপজেলার মাগুড়া এম.ইউ সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা থেকে ১৯৮৩ সালে দাখিল ও ১৯৮৫ সালে আলিম পাশ (ক্রমিক নম্বর-১৪৬৬৪, রেজি নম্বর-১২৩২৬, শিক্ষাবর্ষ-১৯৮৩-১৯৮৪) করে রাণীনগর আল-আমিন দাখিল মাদরাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। আর এই শিক্ষকেরই দাখিল ও আলিম পাশের সার্টিফিকেট সুকৌশলে সংগ্রহ করে টেম্পারিং (ঘষামাজা বা মিশ্রিতকরণ) করে প্রকৃত নামের ওপর মো. বেলাল হোসাইন, বাবা মো. নাজিম উদ্দিন নাম বসিয়ে সে সময় রাণীনগর উপজেলার পাঁচ নম্বর বড়াগাছা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টার (কাজী) নিয়োগ লাভ করে। তখন থেকেই একাধিক সুবিধাভোগীমহলের ছত্র-ছায়ায় নিজের খেয়াল-খুশিমতো নিয়ম বহির্ভূত ও অবৈধভাবে নিকাহ রেজিস্টারের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

অপরদিকে, অন্যের সার্টিফিকেট টেম্পারিং নিজের ও বাবার নাম বসিয়ে নিকাহ রেজিস্টারের লাইসেন্স নেওয়ার ঘটনায় রাণীনগর থানায় একটি মামলাও হয়। রাণীনগর থানার তৎকালীন ওসি সৈয়দ মোহসিনুল হক স্বাক্ষরিত ১২ সেপ্টেম্বর২০০৫ সালে প্রতিবেদন চেয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে বেলালের দাখিলকৃত (দাখিল ও আলিম পরীক্ষার) সনদসহ প্রতিবেদন চেয়ে পত্র দেন। পরবর্তীতে সেই মামলায় চার্জশিট প্রদান করা হয়।

আবার একই ঘটনায় আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জিয়া উদ্দিন মাহমুদ স্বাক্ষরিত (স্মারক নং-বিচার-৭/২এন-৬৯/২০০২-৫৭২ ,তাং ১৪-১১-২০০৭ইং) পত্রে তৎকালীন নওগাঁ জেলা রেজিস্টার মো. জহির উদ্দীনকেকে তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেয়। সে মোতাবেক মো. বেলাল হোসাইনকে দুই ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল সার্টিফিকেটসহ স্বশরীরে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয় কিন্তু একই ঘটনায় নিয়মিত ফৌজদারি মামলার প্যাঁদানি ও অন্যদিকে আইন মন্ত্রণালয়ের তদন্তের তোপে টিকতে না পেরে ও নিজে বাঁচতে মূল সার্টিফিকেট নিয়ে হাজির না হয়ে কৌশলে একইদিন পদত্যাগপত্র দিয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রারের (কাজী) পদ থেকে অব্যাহতি নেয়।

কিন্তু ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় এসব ঘটনা গোপন করে পরবর্তীতে আবার নিয়োগ নিলেও উচ্চ আদালতের আদেশে সেই নিয়োগ স্থগিত হয়ে যায়। কিন্তু সে কোনও কিছুর তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালীদের ছত্র-ছায়ায় কাজী বেলাল হোসাইন অবৈধভাবে কাজীর কাজ করে আসছে পুরো নওগাঁ জেলা-জুড়ে।

আল আমিন দাখিল মাদরাসার সাবেক শিক্ষক ও প্রকৃত সার্টিফিকেটধারী বেলাল উদ্দিন বলেন, বেলাল পড়াশোনায় খুবই দুর্বল ছিল। সে দাখিল পরীক্ষায় ফেল করে। এরপর সে কোথায় পড়ালেখা করেছে তা আমার জানা নেই। পরবর্তী সময়ে জানতে পারি যে সে কোন মাধ্যম দিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে আমার সনদপত্রগুলো সংগ্রহ করে। এই বিষয়টি আমি সেই সময়ের মাদ্রাসা সুপারসহ একাধিক ব্যক্তিকে বিষয়টি জানালে তারা সেই বিষয়ে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন তা আমার জানা নেই। কারণ ২০০৫ সালে আমি স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে আসি। তাই পরবর্তী বিষয়গুলো আমার জানা নেই।

আল আমিন দাখিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার হারুনুর রশিদ বলেন, ২০০০সালের দিকে আমি এই মাদরাসার সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলাম। বেলাল হোসেন ২০০০ সালে আমার মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষা দিয়ে ফেল করে। এরপর সে কোথায় লেখাপড়া করেছে তা আমার জানা নেই। তবে সে কোনও এক মাধ্যম দিয়ে বেলাল উদ্দিনের সার্টিফিকেটগুলো নিয়েছিলো তা আমি লোকমুখে শুনেছিলাম।

কাজী বেলাল হোসেন  আরটিভি নিউজকে বলেন,  আমার সকল সনদপত্র সঠিক আছে। সকল সনদপত্রসহ কাগজ-পত্রাদি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেওয়া আছে। 

এনএম/জেবি

RTVPLUS
bangal
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ৩৪৪২৬৪ ২৫০৪১২ ৪৮৫৯
বিশ্ব ৩,০১,২৬,০২০ ২,১৮,৭৪,৯৫৭ ৯,৪৬,৭১২
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়