logo
  • ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭

গজারি বনে অবৈধ সিসা তৈরির কারখানা!

  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

|  ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪:৩৮ | আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫:২০
Illegal lead factory in Gazari forest!
গজারি বনে অবৈধ সিসা তৈরির কারখানা!
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গজারি বনের ভেতর গড়ে উঠেছে অবৈধ সিসা তৈরির কারখানা। উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আশারিয়া চালায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ক্ষতিকারক এ সিসা তৈরি কারাখানা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আশারিয়াচালা গ্রামে মনসুরের গজারি বাগানে পুরনো ব্যাটারি থেকে তৈরি করা হচ্ছে সিসা। গাইবান্ধা থেকে ১৫ জন শ্রমিক তারা সারাদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে পুরাতন ব্যাটারি সংগ্রহ করে রাতের আঁধারে বের করে। এমনকি ভোর হওয়ার আগেই গাড়িতে করে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়।

গজারির বাগানে কারখানা গড়ে উঠার ফলে মানব দেহ, গবাদি পশু, গাছপালা ওপর ব্যাপক ক্ষতি-সাধিত হচ্ছে। পরিবেশের উপরও পড়ছে বিরূপ প্রভাব, দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের রোগ বালাই। চিকিৎসকেরা বলছেন, এ ধরনের পদার্থ মানুষের শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক জানান, সিসা চকচক করে তবে দিনের বেলা সিসা ও বর্জ্য চেনা যায় না। এজন্য রাতে সিসা গলানো হয়। সিসা ফ্যাক্টরিগুলো সারা দিন বন্ধ থাকে মধ্যরাতে গাড়িতে করে মালামাল এনে কাজ শুরু হয়। আবার ভোর হওয়ার আগেই কাজ শেষ হয়ে যায়। রাতে কাজ করার সময় শ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হয়।

সিসা তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানান, পরিত্যক্ত ব্যাটারির কোষগুলো সিমেন্টের মতো জমাট বেঁধে যায়। চুল্লির মধ্যে অ্যাসিড-মিশ্রিত জমাট বাঁধা বর্জ্য সাজানো হয়। এরপর কাঠ ও কয়লা দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে একটি পাম্পের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক পাখা দিয়ে প্রচণ্ড বেগে বাতাস দেওয়া হয়। কাঠ ও কয়লা পুড়ে একটি আগুনের কুণ্ডলী সৃষ্টি হয়। সিসা পুড়ে তরল হয়। এরপর একটি লম্বা চামচ দিয়ে বর্জ্য সরিয়ে সিসা লোহার তৈরি কড়াইতে রাখা হয়। ঘন ধূসর ধোঁয়া চিমনি দিয়ে বের হয়ে যায়।

আশারিয়া চালা গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা কাজী জানান, গজারি বনের ভিতর কাপড় দিয়ে প্রাচীর-বেষ্টিত একটি জায়গায় গর্ত করে মাটির চুলার মতো চুল্লি বানানো হয়েছে। সেখানে কাজ করছেন কয়েকজন শ্রমিক। আমাদের না জানিয়ে তারা এসব করছে। প্রতিবাদ করলে বলে আমাদের অনুমতি আছে।

মোস্তফা কাজী আরও জানান, সিসা ফ্যাক্টরির কারণে গাছপালা পাতা বিবর্ণ হয়ে ফ্যাকাসে হয়ে যায়। ফসলের ক্ষতি, গবাদি পশু প্রাণহানি ঘটতে পারে। সিসা উচ্চ তাপমাত্রায় গলানোর সময় সহযোগী হিসেবে কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকারক যৌগ উৎপাদিত হয় এবং তা দ্রুত বাতাসে সঙ্গে চারদিকে ছড়ায়। এতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ দেখা দিচ্ছে।

এ বিষয়ে ধলাপড়া বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, আমি বিষয়টি শুনেছি এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এনএম/এসএস

RTVPLUS
bangal
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ৩৫৫৪৯৩ ২৬৫০৯২ ৫০৭২
বিশ্ব ৩,২১,৯৬,৬৫৫ ২,৩৭,৫১,১৩৪ ৯,৮৩,৬০৯
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়