এক মাদরাসার নাম জালিয়াতি করে একাধিক মাদরাসা

প্রকাশ | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৫৩ | আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩:০৩

পঞ্চগড় প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ে তিনটি এবতেদায়ী মাদরাসার নাম জালিয়াতি করে হঠাৎ গড়ে ওঠেছে নতুন আরও তিনটি মাদরাসা। সম্প্রতি সরকার স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসাগুলোকে জাতীয়করণের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এরই সূত্র ধরে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, জেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় একটি জালিয়াতি চক্র পঞ্চগড় জেলায় একই নামে তিনটি মাদরাসা স্থাপন করেছে। জালিয়াত চক্রটি তিনটি মাদরাসায় শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এখন ভুয়া জাল কাগজ-পত্রের মাধ্যমে মাদরাসাগুলো এমপিওভুক্তিসহ জাতীয়করণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। জাতীয়করণের নামেও ওই চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

জেলার সদর উপজেলায় দুটি (১) কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের খাড়ুয়াগ্রামে ডুবানুচি বরকতিয়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসা (২) শুড়িভিটা হাসনানিয়া নাজিরিয়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসা। অপরটি হচ্ছে বোদা উপজেলার কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নে পামুলি নগড় ডাঙ্গা স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসা। অথচ সদর উপজেলা ও দেবীগঞ্জ উপজেলায় ওই তিন নামে পুরোনো মাদরাসা রয়েছে। এরই মধ্যে সদর উপজেলার পুরোনো দুটি মাদরাসায় দাখিল মাদরাসায় উন্নিত হয়েছে। সদর উপজেলার পুরোনো মাদরাসা দুটির পার্শ্ববর্তী স্থানীয় অধিবাসীরা বলছেন নতুন মাদরাসাগুলো নাম চুরি করে তৈরি হয়েছে।

পুরোনো শুড়িভিটা মাদরাসার সুপার মো. সাইফুল্লাহ জালিয়াতি চক্রের বিচার দাবি করে আরটিভি নিউজকে বলেন, আমাদের কোনও সম্পৃক্ততা নেই  জালিয়াতি চক্রটি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস অথবা অন্যকোনো উপায়ে তারা আমাদের মাদরাসার তথ্য চুরি করতে পারে। সুপার আজিজার রহমানও নাম জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করেছেন। একইসঙ্গে তিনি জানায় এবতেদায়ী মাদরাসার সব ফাইলসহ সুপার আব্দুস সবুর এর নিকট ছিল। আগস্ট মাসে আমি আমার মাদরাসার নাম দিয়ে মাদরাসা গড়ে ওঠার খবর পেয়ে  সহ সুপার আব্দুল মান্নান এর নিকট তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছি।

সুপাররা জানায় বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জাল স্বাক্ষর, জাল জমির দলিল, ভুয়া কাগজপত্র তৈরিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে পঞ্চগড়ে একই নামের একাধিক মাদরাসা স্থাপন করেছে জালিয়াতি চক্রটি। জেলায় প্রতিষ্ঠিত ও এমপিওভুক্ত তিনটি মাদরাসার নাম নকলসহ কাগজপত্র ও কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে এসব মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জেবি