logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭

সড়ক দুর্ঘটনায় পায়ে ব্যথা পেয়ে প্রতিবন্ধী ভাতা নেন তিনি

  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

|  ১২ আগস্ট ২০২০, ১৭:৪৭ | আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২০, ১৮:১৭
tangail, awami lig,
গোপাল গোস্বামী
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোপাল গোস্বামী (৬৫)। সড়ক দুর্ঘটনায় এক পায়ে সামান্য ব্যথা পেয়েছিলেন। এজন্য নিজেকে প্রতিবন্ধী দাবি করে সরকারি ভাতা তুলছেন। এছাড়া একই এলাকার জীতেন সূত্রধর (৬২) নিজেকে প্রতিবন্ধী দাবি করে ভাতা নিচ্ছেন। প্রতিবন্ধী না হয়েও পৌরসভা ও সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতিবন্ধী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে সরকারি ভাতা নিচ্ছেন তারা। আর বঞ্চিত হচ্ছেন আসল প্রতিবন্ধীরা।

গোপাল গোস্বামী মির্জাপুর পৌর এলাকার আন্ধরা মাঝি পাড়া গ্রামের মৃত খিতিশ গোস্বামীর ছেলে ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আর জীতেন সূত্রধর একই ওয়ার্ডের সূত্রধর পাড়ার মৃত নবদ্বীত সূত্রধরের ছেলে। জীতেন সূত্রধর একজন ফার্নিচার ব্যবসায়ী। গোপাল গোস্বামী মির্জাপুর সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্যও।

মির্জাপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র চন্দনা দে জানান, প্রতিবন্ধীদের যাচাই-বাছাই করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক। তার (মেয়র চন্দনা দে) প্রতিবেশী জীতেন সূত্রধর ও গোপাল গোস্বামী। তারা প্রকৃত প্রতিবন্ধী কিনা জানতে চাইলে মেয়র কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক জানিয়েছেন, প্রতিবন্ধীদের নামের তালিকা পৌরসভার মেয়র প্রস্তুত করে সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন বলে জেনেছেন। তারা প্রকৃত প্রতিবন্ধী কিনা তা সঠিক যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পৌরসভা ও সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলায় ১২ হাজার ৭১৫ জন বয়স্ক, ৩ হাজার ৩৩৩ জন বিধবা ও ৪ হাজার ৮১৩ জন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। চলতি বছর এ উপজেলায় ১ হাজার ১২৯ জন বয়স্ক, ৬১৪ জন বিধবা ও ২ হাজার ৩৪ জন প্রতিবন্ধীকে ভাতার আওতাভুক্ত করা হয়।

মির্জাপুর পৌরসভায় ১১৮ জন নতুন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। এর মধ্যে ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোপাল গোস্বামী ও জীতেন সূত্রধর প্রতিবন্ধী না হয়েও তালিকাভুক্ত হয়েছেন। পৌরসভা কার্যালয়ের প্রস্তুতকৃত প্রতিবন্ধী তালিয়কায় গোপাল গোস্বামীর নাম ১৬ নম্বর ও জীতেন সূত্রধরের নাম ৭৪ নম্বরে রয়েছে। গোপাল গোস্বামীর বই নম্বর ৪০৫১ ও জীতেন সূত্রধরের বই নম্বর ৪১০৯। তারা জুলাই-২০১৯ থেকে জুন-২০২০ পর্যন্ত ৯ হাজার টাকা করে ভাতা উত্তোলন করেছেন।

এ বিষয়ে জীতেন সূত্রধর জানান, পুত্রবধূ কিভাবে তার নাম প্রতিবন্ধী তালিকাভুক্ত করেছেন তা তার জানা নেই।

অপরদিকে ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোপাল গোস্বামী নিজেকে প্রতিবন্ধী দাবি করে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি আহত হয়েছিলেন। পায়ে ব্যথা আছে। তার চিকিৎসা পত্র আছে। প্রতিবন্ধী কার্ড নেই।

এ বিষয়ে মির্জাপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলম মিয়া বলেন, উনি (গোপাল গোস্বামী) কেন প্রতিবন্ধী হবেন? তিনি যে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন সেটাই আমার জানা নেই। তবে এটি এক ধরনের প্রতারণা।

মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ জানান, গোপাল গোস্বামীকে আমি চিনি। প্রতিবন্ধী না হয়েও প্রতিবন্ধী ভাতা নেয়ার বিষয়টি মারাত্মক অপরাধ ও দুঃখজনক।

মির্জাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম বলেন, জরিপ ব্যতীত কাউকে ভাতার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয় না। এরপরও কেউ প্রতারণা করে ভাতার আওতাভুক্ত হয়ে থাকলে যাচাই-বাছাই করে বাতিল করা হবে। তবে তাদের নামে কোনো জরিপ রিপোর্ট জমা নেই বলে তিনি জানান।

এনএম/এমকে

RTVPLUS
bangal
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ৩৫৫৪৯৩ ২৬৫০৯২ ৫০৭২
বিশ্ব ৩,২১,৯৬,৬৫৫ ২,৩৭,৫১,১৩৪ ৯,৮৩,৬০৯
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়