logo
  • ঢাকা বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬

ঢাকা-সিলেট সড়ক যোগাযোগ বন্ধ, বিকল্প সড়কে ভাঙন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
|  ২১ জুন ২০১৯, ১৮:৩৭ | আপডেট : ২১ জুন ২০১৯, ১৯:০১
বিকল্প সড়কে ভাঙন
ঢাকা-সিলেট সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার পর এখন সিলেটগামী যানবাহনগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলার ভেতরের সড়ক ব্যবহার করে বিকল্প পথে চলাচল করছে। আর এতে সেসব সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চান্দুরা-আখাউড়া সড়ক একবছর ধরেই বেহাল। রাস্তাজুড়ে হাজারো খানাখন্দ। বৃষ্টির পানি জমে কোথাও কোথাও পুকুরের আকৃতি হয়েছে। সাড়ে ৫ মিটার প্রস্ত ও ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক পাড়ি দিতে সময় লাগছে কয়েকঘণ্টা। বিকল্প আরো দুটি সড়ক সরাইল-নাসিরনগর হয়ে লাখাই এবং রতনপুর দিয়েও চলাচল করছে ঢাকা-সিলেট গন্তব্যের যানবাহন। নাসিরনগরের ফান্দাউক-রতনপুর সড়কে ভারী যানবাহনের চাপে কয়েক ঘণ্টাতেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। সড়কের অন্তত ৮-১০ জায়গায় মরণফাঁদ তৈরি হয়েছে। প্রতিটি সেতু ও রাস্তার পাশে সৃষ্টি হয়েছে গর্ত।

গত মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইলের শাহবাজপুরে তিতাস নদীর ওপর সেতুটির চতুর্থ স্পেনের ফুটপাতসহ রেলিং ভেঙে পড়ে। এরপরই সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) সব ধরনের ভারী ও মাঝারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-সিলেট সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। এরপরই বিকল্প পথ হিসেবে চান্দুরা-আখাউড়া সড়ক দিয়ে ঢাকা-সিলেট, কুমিল্লা-সিলেট এবং চট্টগ্রামের বেশিরভাগ যানবাহন চলতে শুরু করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দীপক চৌধুরী বাপ্পী আরটিভি অনলাইনকে জানান, বুধবার বিকেল ৫টার দিকে তিনি বিজয়নগরের সিংগারবিল থেকে চান্দুরা রওনা হন। ১৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লেগেছে তার ৫ ঘণ্টারও বেশি। রাত সাড়ে ৯টার পর চান্দুরা পৌছান তিনি। সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা, সবশেষ পায়ে হেঁটে এই পথ পাড়ি দেন।

সড়কের কালীরবাজার, মোল্লারটেক, নোয়াগাঁও, আড়িয়ল এসব এলাকায় যানজট বেশি বলে জানান বাপ্পী।

আর এক পথচারী জানিয়েছেন, চম্পকনগর থেকে মির্জাপুর পর্যন্ত সাড়ে ৩ কিলোমিটার পথ যেতে সময় লেগেছে তার সাড়ে ৩ ঘণ্টা। সড়কটি দিয়ে পুরোদমে যাত্রবাহী বাস ছাড়াও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করছে। মহাসড়কের যানবাহনের কারণে স্থানীয় যানবাহন বিশেষ করে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে এলাকার মানুষকে চলতে হচ্ছে পায়ে হেঁটেই।

এর বাইরে উপজেলার ভেতরের সড়ক ব্যবহার করে যতটুকু পারছেন সিএনজি করে চলছেন তারা। তাছাড়া যানজটের কারণে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী গাড়ির নারী-শিশু যাত্রীরাও অনেক কষ্ট সইছেন। দুর্ঘটনাও ঘটছে। চম্পকনগরের মোল্লারটেকে বুধবার রাতে পাথরবাহী ট্রাক উল্টে পড়ে। মোল্লারটেক ও আড়িয়লে আরো মালবাহী দুটি গাড়ি উল্টে পড়ে রাস্তার পাশে।

বিজয়নগর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চান্দুরা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২২ কিলোমিটার। এরমধ্যে সাড়ে ১৭ কিলোমিটারই বিজয়নগর উপজেলায়। ২০১৮ সালে সড়কটি মেরামত করা হয় ২৪ লাখ টাকায়। এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আরও ৬ লাখ টাকার কাজ করা হয়। কিন্তু কোনো কাজই টিকেনি। লোক দেখানো কাজ করে টাকা লুটপাট করা হয়েছে। প্রথম দফায় হওয়া ২৪ লাখ টাকার কাজের তেমন অস্তিত্ব খুঁজে না পেয়ে ঠিকাদারের বিল আটকে দেয়া হয়। পরে ঠিকাদারকে দিয়ে আরো ৫ লাখ টাকার কাজ করিয়ে ওই বছরের জুনে বিল পরিশোধ করা হয়।

চান্দুরা-আখাউড়া সড়ক বিজয়নগর উপজেলার প্রধান রাস্তা হলেও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চান্দুরা থেকে কুমিল্লা বা চট্টগ্রাম যাওয়ার বিকল্প সড়ক হিসেবেও ব্যবহার হয় এটি। জেলা সদরে না গিয়ে এই সড়ক দিয়ে আখাউড়া বাইপাস সড়কে এসে  সুলতানপুর-আখাউড়া বা আখাউড়া-কসবা সড়ক দিয়ে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে যুক্ত হওয়া যায়। তাছাড়া এই সড়ক দিয়ে আখাউড়া স্থলবন্দরে যাওয়া আসা করে পণ্যবাহী ট্রাক। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বেহাল। চলাচলে নাভিশ্বাস উঠছে এলাকার মানুষের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন-সড়কতো ভাঙবেই।

তবে মাস খানেকের মধ্যে সড়কের কাজ শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে বিজয়নগর উপজেলা প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন বলেন-বিজয়নগরের এই সড়ক ও কসবার আরেকটি সড়কের জন্যে একত্রে ৪৪ কোটি টাকার দরপত্র হয়েছে। দরপত্রের ইভ্যালুয়েশনও শেষ হয়েছে। এটি এখন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। বিদেশি প্রকল্পের অধীনে কাজটি হবে বলে এর দরপত্র প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। ৪৪ কোটি টাকার মধ্যে বিজয়নগরের এই সড়কের জন্যে বরাদ্দ ২৪ কোটি টাকা।

উপজেলা প্রকৌশলী আরও বলেন, মূল কাজ না হওয়া পর্যন্ত মানুষ স্বস্তি পাবে না। তারপরও আমরা যতটুকু পারি স্বস্তি দেয়ার চেষ্টা করছি। তাছাড়া সড়কের এই অবস্থার কারণে আমরা নিজেরাও ভোগান্তির শিকার। প্রতিনিয়তই আমাদেরকে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়।

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়