Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১১ কার্তিক ১৪২৮

বেসরকারি চাকরিজীবীদের কাছে ভ্যানই গণপরিবহন

ভ্যানই গণপরিবহন

করোনা সংক্রমণ কমাতে সরকারের ঘোষিত কঠোর লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও অনেক বেসরকারি অফিস খোলা রাখায় চাকরিজীবীরা ভ্যানে চড়ে অফিসে যাচ্ছেন। রিকশায় এক জনের ৭০ টাকা ভাড়া লাগলেও এক ভ্যানে পাঁচ থেকে ছয় জন চড়ায় জন প্রতি ৪০ টাকা ভাড়া লাগছে। কঠোর লকডাউনের এসময়ে বেসরকারি চাকরিজীবীদের কাছে ভ্যানগাড়ি হচ্ছে গণপরিবহন।

বুধবার (২৮ জুলাই) যাত্রাবাড়ি, শনিরআখড়া, ফকিরাপুল, পল্টন, মতিঝিল, গাবতলী, আব্দুল্লাপুর, টংগীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উচ্চ স্বরে যাত্রী ডাকছেন ভ্যান চালকরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ কয়েক উঠে বসলেন ভ্যানে। পাঁচ থেকে ছয় জন যাত্রী হওয়ার পরই চলতে শুরু করল ভ্যান।

ভ্যানের এক যাত্রী ফরিদ প্রধান। পুরানা পল্টন একটি ম্যান পাওয়ার অফিসে চাকরি করেন তিনি। ফরিদ বলেন, রায়েরবাগ মেডিকেল থেকে পল্টন রিকশা ভাড়া তিনশ টাকার বেশি চায়। মাসের শেষ, হাতে টাকা নাই। প্রতিদিন ছয়শ টাকা রিকশা ভাড়া দেওয়ার মতো সামর্থ্য নাই। এ সময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লকডাউন, কিন্তু সবই তো খোলা। সবারই তো কাজে যাইতে হচ্ছে। সবার তো গাড়ি নাই, রিকশাতেও চলার সামর্থ্য না থাকতে পারে।

ভ্যানগাড়িতে চড়ে যাচ্ছেন আরেক যাত্রী শফিকুল ইসলাম লিটন। মতিঝিলের একটি মানবসম্পদ রপ্তানি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি বলেন, ঈদের পরে প্রতিষ্ঠান দেখাশোনার দায়িত্ব আমার। তেমন কাজকর্ম না থাকলেও যেতে হয়। আগে লেগুনায় যেতাম। এখন প্রতিদিন রিকশায় অনেক ভাড়া লাগে, তাই ভ্যানে যাই।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ঈদের পর থেকে কঠোরতম বিধিনিষেধ দিয়েছে সরকার। এই ১৪ দিনের লকডাউনে জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি–বেসরকারি সব অফিস বন্ধ থাকবে। বরাবর লকডাউনে রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা চালু রাখা হলেও এবার সেগুলোও বন্ধ। কিন্তু বাস্তবে এর মধ্যেই খুলে গেছে অনেক অফিস, কারখানা। অনেক পায়ে হেঁটেই যাচ্ছেন নিজ নিজ কর্মস্থলে। আবার কয়েকজন মিলে চড়ছেন ভ্যানে। লকডাউনে বিপাকে পড়া কর্মজীবীদের এখন ভরসার গণপরিবহন ভ্যান।

কঠোর বিধিনিষেধের সাত দিনের মাথায় রাস্তায় রিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারে কাজে বাইরে বের হওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। বাইরে বের হওয়া মানুষেরা বলছেন, ঈদের পর কয়েক দিন কর্মস্থল বন্ধ থাকলেও এখন কাজ শুরু হয়ে গেছে। যারা এখনো ফেরেনি তাদের দ্রুত কাজে যোগ দেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।

খিলগাঁওয়ের এক ট্রাফিক পুলিশ জানান, কঠোর লকডাউনের গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ রাস্তায় রিকশা ও গাড়ির সংখ্যা বেশি। মোটরসাইকেলের পরিমাণও দিন দিন বাড়ছে। এর কারণ হিসেবেও তিনি কর্মস্থল খোলা থাকার বিষয়টিকে দায়ী মনে করছেন।

এফএ

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS