• ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ ১শ থেকে ১শ ২০ কি.মি গতিতে বাংলাদেশ অতিক্রম করবে

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০২ মে ২০১৯, ২১:০৬
ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ সাগরে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অবস্থান করছে। এর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এটি একটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়। আমাদের যে বিশ্লেষণ সেই অনুযায়ী দেখতে পাচ্ছি, এটি যখন বাংলাদেশে থাকবে তখন হয়তো ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার গতিতে বাতাস থাকবে না। দুর্বল হয়ে ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকতে পারে। সেটিও আমাদের জন্য একটি আশঙ্কার বিষয়। বললেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. সামছুদ্দিন আহমেদ।

whirpool
বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় পরিচালক এ তথ্য জানান।

সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. শাহ কামালসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি এখনও উত্তর-পূর্ব দিক থেকে অগ্রসর হতে হতে মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৫০ কিলোমিটারের মধ্যে এসেছে। এটি ভারতের উপকূল স্পর্শ করে অগ্রসর হচ্ছে। অগ্রসর হয়ে খুলনা উপকূল দিয়ে বাংলাদেশের উপকূল স্পর্শ করবে

তিনি আরও বলেন, ৩ মে (শুক্রবার) দুপুর ১২টার দিকে খুলনা অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন লেভেলের বাতাসের সংস্পর্শে আসতে শুরু করবে। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ খুলনা অঞ্চল ও বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ঘূর্ণিঝড়ের আওতায় এসে যাচ্ছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারারাত বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়ের আওতায় থাকবে। এ সময়টা আমাদের জন্য অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল সময়।

তিনি বলেন, যোগাযোগ অব্যাহত রাখার জন্য বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবা থাকতে হবে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে বেলা ১১ থেকে ১২টার মধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজার লোক একই সঙ্গে হিট করেছে, এজন্য এটি হ্যাং হয়ে গেছে। এর ক্যাপাসিটি থাকা উচিত ছিল ৫ থেকে ৭ লাখ, কিন্তু সেটি নেই।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিদ্যুৎ এক সেকেন্ডও বন্ধ থাকতে পারবে না। এরপর আমার ইন্টারনেটের ওঠানামা হতে পারবে না। তা না হলে আমি অ্যানালাইসিস করতে ব্যর্থ হব। ডাটা ডাউনলোড করতে পারব না। ঘূর্ণিঝড়ের তথ্য পেলে মানুষ নিজেকে নিরাপদ রাখার একটি ব্যবস্থা নিজে করতে পারবেন।

মহাবিপদ সংকেত দেয়ার সময় এখনও এসেছে কিনা সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর ডা. এনামুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, মহাবিপদ সংকেত দেয়ার এখনও উপযুক্ত সময় হয়নি। কতগুলো ধাপ আছে, আমরা হুঁশিয়ারি দেই, লিড টাইমটা দেয়া হয় ২৪ ঘণ্টা আগে। আমরা বিপদ সংকেত দেই ১৮ ঘণ্টা আগে। প্রস্তুতির সুবিধার্থে বিপদ সংকেতটা আমরা আগে দিয়েছি। মহাবিপদের যে ল্যান্ডফল, এর ১০ ঘণ্টা আগে আমরা দিতে পারব। সেই সময়টা এখনও আসেনি। আমরা আজকের রাত ও কালকের সকালটা পর্যবেক্ষণের জন্য রেখেছি।

এমসি/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়