logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

গরুর মাংসের দাম বাড়াতে নানা অজুহাত ব্যবসায়ীদের

রাফিয়া চৌধুরী, আরটিভি অনলাইন
|  ০৭ মে ২০১৯, ১৪:৫২ | আপডেট : ০৭ মে ২০১৯, ১৫:১৯
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে প্রতিকেজি গরুর মাংসের দাম ঠিক করে দেয়া হয়েছে ৫২৫ টাকা। কিন্তু বাজারে আরও আগে থেকেই প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা। সিটি করপোরেশনের বেঁধে দেয়া দামে গরুর মাংস বিক্রি করা সম্ভব না বলে জানিয়েছেন গরু মাংসের ব্যবসায়ীরা। 

কারওয়ান বাজারে গরুর মাংসের ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, গত ডিসেম্বর থেকে ভারতের থেকে গরু আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। দেশীয় গরু দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব না। এছাড়াও দেশীয় গরুর দাম বেশি হওয়ার কারণে মাংসের দাম বেশি রাখতে হচ্ছে। যদি ভারত থেকে আবার গরু আমদানি শুরু হয়, তাহলে গরুর মাংসের দাম কমে যাবে। সিটি করপোরেশন বেঁধে দেয়া দামে গরুর মাংস বিক্রি সম্ভব না।

এরকম নানা অজুহাত ব্যবসায়ীদের। এসব যুক্তি দেখিয়ে গরুর মাংসের বেঁধে দেয়া দাম মানতে রাজি নন তারা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গরুর মাংসের দাম কিছুটা বাড়তি নিতেই দেখা গেছে।

যদিও গত রোজার চেয়ে এবার প্রতি কেজি গরু মাংসের দাম আগেই ৭৫ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে সিটি করপোরেশন।

গত রোজায় প্রতিকেজি গরুর মাংসের দাম ঠিক করা হয়েছিল ৪৫০ টাকা। সেটা এবছর ৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৫২৫ টাকা করা হয়। গরু মাংস এখন সাধারণ মানুষের আরও নাগালের বাইরে চলে গেলো।

এছাড়া বোল্ডার গরুর মাংসের দাম প্রতিকেজি ৫০০, মহিষের মাংস ৪৮০ টাকা, খাসির মাংস ৭৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর প্রতিকেজি ভেড়ার মাংসের দাম ৬৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে ডিএসসিসি।

মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বজলু হক আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ। দেশে কৃষকেরা যে দামে গরুদেরকে খাবার খাওয়ায়। সে দাম কৃষকেরা গরু ব্যাপারির কাছে পায় না। আমাদের ব্যবসা তো করতে হবে। আমাদের বেশি দামে গরু কিনে নিয়ে আসতে হয়। তাই আমাদেরও বেশি দামে গরু বিক্রি করতে হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারে গরুর মাংস কিনতে এসেছিলেন একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরিরত সাজিদ হক। তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, প্রতিবছর যেভাবে মাছ-মাংসের দাম বাড়নো হচ্ছে সেভাবে বাড়ে না আমাদের আয়। সাধ আর সাধ্যের সমীকরণ মিলানো বড়ই কঠিন। গরুর মাংস এখন কোনও বড় অনুষ্ঠানেই (দাওয়াতে) মানুষ খেতে পারবে। বাজার থেকে কিনে খাওয়া অধিকাংশ মানুষের পক্ষেই সম্ভব না।     

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)এর সভাপতি গোলাম রহমান আরটিভি অনলাইনকে বলেন, রমজানকে ঘিরে সবার মাঝে উৎসব শুরু হয়ে যায়। আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা এই উৎসবকে ঘিরে নানা ধরণের বাণিজ্য শুরু করেন। তারা অল্প বিনিয়োগে বেশি মুনাফা লাভ করতে চান। তাই রমজান মাসে পণ্যের দাম বেশি থাকে। অন্যান্য দেশে সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দেয়া হয়। সেই ভর্তুকি নিয়ে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করেন। তারা ব্যবসায় মুনাফা করে কম।  

এছাড়া গরুর মাংসে দাম বাড়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, গরুর মাংসের দাম বাড়তি হওয়ার কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষের কাছে গরুর মাংস কিনে খাওয়া এখন বিলাসিতা মাত্র।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শরীফ আহমেদ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, সোমবার সিটি করপোরেশনে গরুর মাংসের যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটা জনগণের জন্য প্রতক্ষ্যভাবে বেশি মনে হলেও পরোক্ষভাবে জনগণেরই উপকার হয়েছে। আমরা গত আটদিন ধরে বাজার তদারকি করছি।সেখানে আমরা দেখেছি বাজারে মাংসের দাম ৫৫০ টাকা থেকে ৫৭৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এই বাড়তি দাম কমিয়ে আনার জন্য বৈঠক করা হয় তাদের সাথে। মাংস ব্যবসায়ীদের সাথে বসে অনেক তর্ক-বির্তকের পর ৫২৫ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা দাম রাখতে চেয়েছিলো ৫৫০ টাকা। সেটা জনগণের জন্য বেশি বাড়তি হয়ে যায়। সেই কথা ভেবেই এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি সিটি করপোরেশনের দাম না মানে, সে ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে তাদেরকে জরিমানা করার জন্য।

আরসি/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়