• ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য প্রস্তুত চারুকলা

মিথুন চৌধুরী, আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ২১:২০ | আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:১৮
কাঠামো তৈরি শেষে রঙিন কাগজে মোড়ানো হয়েছে পেঁচা, হরিণ, হলুদ পাখি, হাতি, সিংহ, ঘোড়ার প্রতিকৃতি। শেষ বেলায় তুলির পরশে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। কাজগুলো আজ বিকেলেই শেষ হয়ে যেত। কিন্তু শনিবার বিকেলের ঝুম বৃষ্টির কারণে কিছুটা থমকে যায় কাজের গতি। তবে এ বৃষ্টিতে ম্লান করতে পারেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাসব্যাপী সাধনা।

whirpool
শনিবার বিকেলে চারুকলায় গিয়ে দেখা যায়, মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে চারুকলার শিক্ষার্থীদের আয়োজন প্রায় শেষের দিকে। এরই মধ্যে শিল্পকর্মের কাঠামো ও স্থাপনার কাজ শেষ হয়েছে। কাঠামোর গায়ে জড়ানো হচ্ছে নানান রংয়ের পেপার পেস্টিং। পেপারে পেস্টিং শেষে দেয়া হবে তুলির আঁচড়। বৃষ্টি রক্ষা পেতে এসব স্ট্রাকচারের উপরে টানানো হয়েছে সামিয়ানা। তবে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার পর শিল্পকর্মগুলো জড়ো করে বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কিছুটা বেগ পেতে হয়।

এছাড়াও মুখোশ, চিত্রকর্ম, মাটির তৈরি সরা, পুতুল, মাছ, পাখি, সূর্যসহ বিভিন্ন শিল্পকর্ম তৈরি করতে দেখা যায় চারুকলা অনুষদের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের।

চারুকলা অনুষদের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বলছেন, রাতব্যাপী প্রয়োজনে কাজ করবো। প্রয়োজনে আবার নতুন করে রাঙানো হবে শিল্পকর্ম। কারণ পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপনে পূর্ণতা আনবে প্রতিকৃতিগুলো।

২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অনয় সরকারের সঙ্গে। তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আজ শনিবার চৈত্র সংক্রান্তি, এদিন সারা রাত কাজ শেষে করে ভোরের আলোর ফোটার মধ্য দিয়ে শেষ হবে আমাদের একমাসের কর্মযজ্ঞ। আমাদের ইনিস্টিটিউড এর একেকটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নিজেদের চাঁদার টাকা দিয়ে শোভাযাত্রার আয়োজন করে থাকে। এই ঐতিহ্য তারা ধরে রাখতে চায়। মাসের শুরুতেই থিম ঠিক করা হয়। সেই অনুযায়ী তৈরি করা হয় বিভিন্ন অনুষঙ্গ।

অপর এক শিক্ষার্থী নাহিদা তাবাস্সুম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, এমন এক সময়ে আমাদের সামনে পহেলা বৈশাখ হাজির হয়েছে, যখন নুসরাত হত্যাকাণ্ডসহ বনানী ও চকবাজারের আগুনে জাতীয়ভাবে আমরা জর্জরিত। এসব গ্লানি আর অকল্যাণের বিপরীতে আমরা মস্তক তুলিতে চাই অনন্ত আকাশে। যাতে এ ধরনের জীর্ণতাকে আমরা পদদলিত করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি। অতীতে সকল দুঃখ গ্লানি মুচে যাবে এ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে। সকল আধার দূর করে নতুন আলো উদয় হবে। সব জঞ্জাল, সব জড়া, সব দুখ, সব হতাশা ঝেড়ে মুছে পরিষ্কার করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার হবে এ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে।

এ বছরের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নৈবেদ্য কবিতার একটি চরণ ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’। রোববার সকাল ৯টায় এ শোভাযাত্রা শুরু হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে এ শোভাযাত্রা শাহবাগ মোড় ঘুরে আবার চারুকলায় এসে শেষ হবে।

শিক্ষার্থীরা আরটিভি অনলাইনকে বলেন, এ শোভাযাত্রার মূল লক্ষ্য অশুভকে দূর করা, সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রতীক। এ শোভাযাত্রার মাধ্যমে বাঙালির ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, জাতিগত সব ধরনের বৈশিষ্ট্য এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে হস্তান্তরিত হয়। অতীতে সকল দুঃখ গ্লানি মুচে যাবে এ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে। সকল আধার দূর করে নতুন আলো উদয় হবে। সব জঞ্জাল, সব জড়া, সব দুঃখ, সব হতাশা ঝেড়ে মুছে পরিষ্কার করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার হবে এ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে।

রোববার মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ বরণ করবে পুরো জাতি। এরিমধ্যে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতির পালক যুক্ত হয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রার মুকুটে।

এরমধ্য দিয়ে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা ৩০ বছরপূর্তি হবে এ বছর। ১৯৮৯ সালে সামরিক স্বৈরশাসনের হতাশার দিনগুলোতে তরুণরা এটা শুরু করেছিল। তারপর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ শোভাযাত্রা বের হয়।

নতুন বছরের আবাহনে মানুষের মাঝে শুভবোধ জাগ্রত করার আহ্বান জানাবে বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব পহেলা বৈশাখ। শুভ দিন সামনে রেখে, মানুষের মধ্যে শুভবোধ জাগাতে রাজধানীর সংস্কৃতি অঙ্গনে দেখা গেছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নিতে এবারও থাকছে নানা উৎসবের আয়োজন। চিরায়ত সংস্কৃতি ও আবহমান বাংলার লোকজ ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি বর্ষবরণের উৎসবে থাকছে নতুন কিছু আয়োজন। ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছায়ানট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ, সুরের ধারাসহ নানা প্রতিষ্ঠান নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

এমসি/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়