logo
  • ঢাকা সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭

আল-জাজিরা ইস্যু: সেনাপ্রধানের পরিবার সংবাদ সম্মেলনে আসছে

Al-Jazeera Issue: The army chief's family is coming to the press conference
সেনা প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ

খুব শিগগিরই আমার পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে সবকিছু জানানো হবে। তবে এতটুকু আমি আপনাদের বলতে পারি, আমি সেনাপ্রধান হিসেবে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি, আমার অবস্থান, আমার দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। আমার কারণে আমার ইনস্টিটিউশন, অর্গানাইজেশন, যেটা সেনাবাহিনী এবং আমাদের সরকার যাতে কোনোভাবে বিব্রত না হয়, বিতর্কিত না হয়, আমি সে ব্যাপারেও সম্পূর্ণ সচেতন। আজ মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে আর্মি এভিয়েশনের বেসিক কোর্সের অ্যাওয়ার্ড সেরেমনি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সেনা প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

আরও পড়ুনঃ ৭ মার্চ সরকারি-বেসরকারি ভবনে উড়বে জাতীয় পতাকা

কাতারভিত্তিক টেলিভিশন আল জাজিরা অসৎ উদ্দেশ্যে অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স মেন শিরোনামের প্রতিবেদন প্রচার করেছে বলে দাবি করছেন জেনারেল আজিজ আহমেদ।

জেনারেল আজিজ আহমেদ ও তার ভাইদের নিয়ে ওই প্রতিবেদনটি প্রচারিত হয় গত ১ ফেব্রুয়ারি। সে সময় সেনাপ্রধান যুক্তরাষ্ট্র সফরে ছিলেন। দেশে ফেরার পর এই প্রথম বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললেন জেনারেল আজিজ।

সেনাপ্রধানকে কেন টার্গেট করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেনাপ্রধানকে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন। সেনাপ্রধানকে হেয়প্রতিপন্ন করা মানে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হেয়প্রতিপন্ন করা। আপনাদেরকে এই জিনিসটা বুঝতে হবে। যা কিছু আপনারা শুনছেন, এগুলোর কোনো প্রমাণ...। এগুলো হয় বিভিন্ন জায়গা থেকে কাটপিস, অন্যান্য জিনিস সন্নিবেশিত করে তারা এগুলো করতেই পারে। তাদের এই উদ্দেশ্য হাসিল হবে না।

আরও পড়ুনঃ আল-জাজিরা ইস্যু: সেনাপ্রধানের পরিবার সংবাদ সম্মেলনে আসছে

আল জাজিরার প্রতিবেদনের সঙ্গে বাংলাদেশের যারা যুক্ত ছিল তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, জানতে চাইলে জেনারেল আজিজ বলেন, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তেমন কিছু করার হয়তো থাকবে না। আমি নিশ্চিত সেটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা হয়ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

তথ্যচিত্রে ভাই হারিস আহমেদের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় সাক্ষাতের বিষয়ে সেনাপ্রধান বলেন, একটা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ছিল (হারিসের বিরুদ্ধে), যেটা থেকে ইতিমধ্যে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ছিল। সে অব্যাহতি মার্চ মাসে হয়েছিল। আমি এপ্রিল মাসে গিয়েছিলাম। এখানে আল আজিরা যে স্টেটমেন্ট দিয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে দিয়েছে। আমি যদি বলি, সেদিন আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে না কোনো সাজা ছিল, না কোনো মামলা ছিল। যে মামলাটা ছিল সেটা থেকে আগেই তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

তথ্যচিত্রের আরেকটি অংশ নিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সময় আমার যে চিত্র ধারণ করা হয়েছে, আমি সেনাপ্রধান হিসেবে মনে করি, আমি যখন অফিশিয়াল ক্যাপাসিটিতে থাকব তখন আমার নিরাপত্তা অফিশিয়ালি নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। আমি যেখানেই যাই হোস্ট কান্ট্রি করে থাকে। সে কারণে আমার অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। আমি ব্যক্তিগত সফরে থাকলে...হয়ত আসার সময় ট্রানজিটে কোনো আত্মীয়স্বজনের কাছে যাই। সেই সময় অফিশিয়াল কোনো প্রটোকল ব্যবহার করা সমীচীন মনে করি না। আমি মনে করি সেটা অপচয় এবং সেটা আমার জন্য উচিত নয়। সেই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কেউ যদি কিছু করে থাকে...এটা তাহলে অসৎ উদ্দেশ্য।

আল জাজিরার প্রতিবেদন নিয়ে সেনা সদরের প্রতিবাদলিপির বিষয়ে জেনারেল আজিজ বলেন, আমাদের রিজয়েন্ডার পাওয়ার পর আপনার ভালো করে বুঝতে পেরেছেন, যারা এই কাজগুলো করেছে, কেন করেছে, উদ্দেশ্যটা কী? যে ধরনের অপচেষ্টাগুলো হচ্ছে, এগুলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মতো একটা প্রতিষ্ঠান যেটা জাতির গর্ব, দেশের গর্ব, সে প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে তারা নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। যাতে করে একটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

আল জাজিরার প্রতিবেদন বিষয়ে আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদানের পাশাপাশি প্রতিবাদ জানায় আইএসপিআর। তাতে বলা হয়, পেশাগতভাবে অত্যন্ত দক্ষ, সবার কাছে অতি গ্রহণযোগ্য সেনাবাহিনী প্রধানকে কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়া আল জাজিরা কর্তৃক অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন এবং কাল্পনিকভাবে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত করার অপপ্রয়াস, যা সেনাবাহিনী ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।

আরও পড়ুনঃ চব্বিশ ঘণ্টায় আরও ১৩ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৯৬

প্রতিবাদে বলা হয়, তথ্যচিত্র আকারে পরিবেশিত প্রতিবেদনটিতে আল জাজিরা কর্তৃক বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে অসংখ্য ভুল তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে, এর ফলে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, আপনাদের আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, সেনাবাহিনী একটা অত্যন্ত প্রশিক্ষিত এবং ওয়েল মোটিভেটেড ফোর্স। আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত। সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড অত্যন্ত ইফেকটিভ এবং সেনাবাহিনীর প্রতিটা সদস্য ঘৃণাভরে এ ধরনের অপচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেছে অতীতে, এখনও করছে। এবং আমাদের চেইন অব কমান্ডে যারা আছি, তারা সবাই এ ব্যাপারে সতর্ক আছি। আমি আশ্বাস দিতে চাই, সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ডে এই ধরনের অপপ্রচার বিন্দুমাত্র আঁচ ফেলতে পারবে না।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, বাংলাদেশের সংবিধানকে সমুন্নত রাখার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ, বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুগত, সরকারের যে কোনো আদেশ নির্দেশ পালনে সদা প্রস্তুত এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ হোক বা বহির্বিশ্বের যে কোনো সমস্যা মোকাবিলার জন্য আমরা সাংবিধানিকভাবে ওথবদ্ধ (শপথবদ্ধ)। আমার মনে হয়, এটা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করার কিছু নেই।

আরও পড়ুনঃ মূল পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ ৯২ ভাগ শেষ: সেতুমন্ত্রী

তিন ভাইয়ের বিষয়ে সেনাপ্রধান বলেন, আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যে কথাটা বলা হয়েছে... আমি আপনাকে প্রশ্ন করি, আপনার বিরুদ্ধে মামলা আছে, সাজা আছে, কিন্তু আপনি যদি গতকাল সাজা থেকে অব্যাহতি পেয়ে থাকেন, আপনার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা রানিং না থাকে, তাহলে আপনাকে কি আজকে ফিউজেটিভ (পলাতক) বলা যাবে? কারণ আপনি যখন অব্যাহতি পেয়ে যান কোনো একটা চার্জ থেকে, তার পর দিন থেকে আপনি মুক্ত একজন নাগরিকের মতো আপনি।

কেএফ

RTV Drama
RTVPLUS