logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

টেকনাফে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিলাসবহুল তিন বাড়ি ক্রোক

শাহীন শাহ, টেকনাফ
|  ০১ জুন ২০১৯, ১৮:৩৩ | আপডেট : ০২ জুন ২০১৯, ০৮:২৯
কক্সবাজারের টেকনাফে ইয়াবা ব্যবসার টাকায় গড়ে ওঠা বিলাসবহুল তিনটি বাড়ি ক্রোক করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে শীর্ষ তিন ইয়াবা ব্যবসায়ীর দোতলা দুই রাজপ্রাসাদসহ জমি ক্রোক করা হয়েছে। এখন থেকে এই সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করবে পুলিশ।

whirpool
যাদের বাড়ি ক্রোক করা হয়েছে তারা হলেন-টেকনাফের নাজিরপাড়ার এজাহার মিয়া (৭০), তার দুই ছেলে নুরুল হক ভুট্টো (৩২) ও নূর মোহাম্মদ ওরফে মংগ্রী (৩৫)। এর মধ্যে নুরুল হক ভুট্টো সরকারের তৈরি করা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। তবে গত দুই মাস আগে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন।

সরেজমিন দেখা গেছে, টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শনিবার সকাল থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত টেকনাফের নাজিরপাড়া এলাকায় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের রাজপ্রসাদের মতো বাড়িগুলোতে অভিযান চালায়। এসময় ওই তিন ইয়াবা ডনের দোতলা দুই বাড়ি ক্রোক করে পুলিশ। এসময় বাড়িতে থাকা লোকজনকে বের করে দিয়ে বাড়িগুলো পুলিশ নিজেদের জিম্মায় নিয়ে নেয়।

এক বাড়িতে থাকা এক নারী কান্না করে বলেন, আমার এখন কেউ নেই। বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে, আমি কোথায় যাবো? আমার পরিবারের সদস্যরা ইয়াবার সঙ্গে জড়িত নয়।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, এই প্রথম আদালতের নির্দেশে শনিবার সকালে তিন ইয়াবা ডনের বাড়ি ক্রোক করা হয়েছে। এই বাড়িগুলো এখন পুলিশের হেফাজতে থাকবে। আদালতে নির্দেশে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যে বাড়িগুলো ক্রোক করা হয়েছে তারা এক সময় রিকশা ও ভ্যান চালক ছিল। এখন তারা সবাই কোটিপতি।

তিনি বলেন, সীমান্তে লবণচাষি, দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যান চালকরা মরণ নেশা ইয়াবা বেচাকেনা করে টেকনাফে আলিশান সব বাড়ি বানিয়েছে। সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে এসব বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। আবার অনেকে গ্রেপ্তার ও বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। ইয়াবার টাকায় যারা অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছে, পর্যায়ক্রমে তাদেরও একই পরিণতি হবে।

ওসি আরও জানান, প্রতি বছরের ১৪ মে ক্রোক করা সম্পদের যাবতীয় আয়-ব্যয় সংক্রান্ত সার্বিক হিসাব আদালতে উপস্থাপন করবে পুলিশ। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির দায়ের করা মামলায় এই আদেশ দেন আদালত। গত ২৩ মে এই রায় দেন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ খোন্দকার হাসান মো. ফিরোজ। এই প্রথম মাদক-সংক্রান্ত ঘটনায় মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের করা মামলায় আদালত এই ধরনের আদেশ দেন।

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়