Mir cement
logo
  • ঢাকা সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

‘সাম্প্রদায়িক’ ১০ নেতাকে বহিষ্কার করল ছাত্রলীগ

Chhatra League expelled 10 'communal' leaders
ফাইল ছবি

কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় ফেসবুক পেজে ‘সাম্প্রদায়িক মনোভাবের’ প্রমাণ পেয়ে ১০ জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ।

বহিষ্কার হওয়া নেতাদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- ঢাকা মহানগর উত্তরের নিউ মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক আশিক আহমেদ, কাফরুল থানা ছাত্রলীগের ৯৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিহাদ হাসান রাজ, শরীয়তপুর সদর উপজেলা শাখার ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ঢালী, লক্ষ্মীপুর জেলার ১৪ নম্বর মান্দারি ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাইমুন এবং ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি মিরাজ মিঠু।

ছাত্র সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ইন্দ্রনীল দেব শর্মা রনি বহিষ্কারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

বহিষ্কারকৃতদের মধ্যে ঢালীকে গত বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) আর বাকি চারজনকে শনিবার (১৬ অক্টোবর) অব্যাহতি দেওয়া হয়। বাকি পাঁচজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

যশোর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কবির পিয়াস ও সাধারণ সম্পাদক তানজীব নওশাদ পল্লব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মিরাজ মিঠুকে অব্যাহতির বিষয়টি জানানো হয়। মেরাজ হোসেন মিঠু শুক্রবার রাতে উসকানিমূলক পোস্টটি দিয়েছিলেন। এরপর পদ হারিয়ে শনিবার ফেসবুকে আরেকটি স্ট্যাটাসে ক্ষমা চান তিনি। না বুঝে পোস্টটি দিয়েছিলেন দাবি করে মিঠু লিখেছেন, ‘এমন ভুল আর কখনও হবে না। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান- আমরা সবাই ভাই।’

সংগঠনে সন্তোষ

এ ধরনের নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টরা।

অর্ক শাহা নামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক কর্মী ফেসবুকে লেখেন, ‘ছাত্রলীগের ভেতরে থাকা মামুনুল-ছানাদের বিতাড়িত করবার জন্য ধন্যবাদ ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ। এভাবেই একে একে সব ধর্মান্ধ জানোয়ারের দল ছাত্রলীগ থেকে বিতাড়িত হবে, এটাই প্রত্যাশা।’

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ক্ষমতাসীন দলের পাশাপাশি ছাত্রলীগেও ব্যাপকভাবে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতাসহ নানান বিতর্কিত ঘটনায় ফেসবুকে প্রায়শই সংগঠনের পদধারীদের এমন প্রতিক্রিয়া আসে, যা এই সংগঠনটির অতীত ঐতিহ্যের সঙ্গে বেমানান।

বাড়তে পারে বহিষ্কারের সংখ্যা

দপ্তর সেলের কর্মীরা জানান, এ ধরনের কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন ইউনিটের আরও অনেক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে। যাচাই-বাছাই করে তাদেরকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক ইন্দ্রনীল দেব শর্মা রনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যাদেরকে বহিষ্কার বা অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তাদের ছাড়াও আরও অনেকের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে অভিযোগ আসছে। কেউ যেন গ্রুপিংয়ের শিকার হয়ে অন্যায়ভাবে বাদ না পড়েন সেজন্য আমরা কেন্দ্রীয়ভাবেও এটির মনিটরিং করছি।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা মহানগর থেকে একটা অভিযোগ এসেছে। নোয়াখালী থেকে একটা, মানিকগঞ্জ থেকে, যশোরের একটা উপজেলার আহ্বায়কের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আছে। এ ছাড়া ঝিনাইদহ এবং সাতক্ষীরার কয়েকজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আসছে। এগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করছি।

‘সভাপতি সাধারণ সম্পাদক নির্দেশ দিয়েছেন, কাউকে আমরা ছাড় দেব না।’

সার্বিক বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তারা ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।

কুমিল্লার সেই ঘটনা দিয়ে শুরু

গত বুধবার কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘির উত্তরপাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ পাওয়ার অভিযোগ তোলার পর সকাল থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। ভাঙচুর করা হয় বিভিন্ন পূজামণ্ডপ।

কুমিল্লার ঘটনার জের ধরে নোয়াখালীর চৌমুহনীতেও বিভিন্নমণ্ডপে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় যতন সাহা নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর বাইরেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের মন্দির, ঘরবাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে বিভিন্ন কলেজ-উপজেলা ছাত্রলীগ থেকে পদ হারিয়েছেন একাধিক ছাত্রলীগ নেতা।

কেএফ/টিআই

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS