Mir cement
logo
  • ঢাকা বুধবার, ০৪ আগস্ট ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮

জ'ঙ্গি নেতাদের প্রিয়পাত্র সাইবার এক্সপার্ট ইমন রি'মান্ডে যা বললো

That's what the militant leader's favorite cyber expert Emon Remand said
গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল্লাহ কাওসার ইমন

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ট্রাফিক পুলিশ বক্সে বোমা হামলার প্রচেষ্টার ঘটনাটি দিয়ে নব্য জেএমবির সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালায় গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল্লাহ কাওসার ইমন। নিজেদের মতাদর্শ প্রচার করতে নব্য জেএমবির দায়িত্বশীলদের পরামর্শ ও অনুমতিক্রমে ইমন নিজেই তৈরি করে ‘আল বাতাল’ নামে নব্য জেএমবির একটি ওয়েবসাইট এবং একটি মোবাইল অ্যাপস যা ব্যাপকহারে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার করে। প্রযুক্তিগত ধারণা থাকার কারণে খুব দ্রুতই নব্য জেএমবির অনলাইন শাখার অন্যতম প্রধান হিসেবে কাজ করে আসছিল। নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখতে যে কারো সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করতো, কিন্তু তারপরও ধরা পরে সিটিটিসির জালে।

অনলাইন ভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়ার দাওয়া শাখার প্রধান সমন্বয়কারী ও নব্য জেএমবির অন্যতম প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ শহিদুল্লাহ কাওসার ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টেলিগ্রাম, ওয়েবসাইটে নিজের নাম পরিচয় গোপন রেখে ছদ্মবেশে নিষিদ্ধ সভা ইসলামিক স্টেট আইএসের মতাদর্শী নব্য জেএমবির নীতি-আদর্শ সমর্থন, সদস্যপদ গ্রহণ এবং প্রচার-প্রচারণার সাথে জড়িত ছিল গ্রেপ্তারকৃত ইমন। গত ১৪ জুলাই পূর্ব গোড়ানের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শহিদুল্লাহ কাওসার ইমনকে। এরপর লকডাউনের কারণে ওই আসামিকে ২ দিন কোট হেফাজতে রেখে গতকাল ১৮ জুলাই আদালতে হাজির করে ৭ দিন রিমান্ড চাওয়া হলে তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। সেই রিমান্ডের প্রথম দিন চলছে আজ সোমবার (১৯ জুলাই)।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের প্রথমদিন সিটিটিসি সূত্র জানায়, এইচএসসি পাস করা ইমন পড়াশোনা বহুদূর না করলেও প্রযুক্তিগতভাবে বেশ দক্ষ সে। নব্য জেএমবির প্রচার প্রচারণার জন্য একটি ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপস তৈরি করে সে নিজেই। যার মাধ্যমে নব্য জেএমবির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দিতে কাজ করে আসছিল ইমন। প্রথমদিকে সে ছিলো মূলত আল-কায়েদার মতাদর্শী। এই সুবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উগ্রবাদী বিভিন্ন আইডি, পেইজ ও গ্রুপে সে যুক্ত ছিলো। একসময় নব্য জেএমবির মিডিয়া ও দাওয়া শাখার দায়িত্বশীল গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের নজরে আসে ইমন। ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা, এছাড়া নব্য জেএমবির আদর্শগত বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য আদান প্রদানের মাধ্যমে তার সাথে গড়ে তোলে সুসম্পর্ক। নব্য জেএমবির দায়িত্বশীল সদস্যরা পরবর্তীতে ইমনকে মোটিভেটেড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার প্রচারণা চালানোর জন্য। যার কারণে নব্য জেএমবির একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে নানা কার্যক্রম শুরু করে ইমন। প্রযুক্তিগত দক্ষতার কারণে ও ইসলামিক বিভিন্ন বিষয় জানার জন্য অল্প কিছুদিনের মাঝেই হয়ে ওঠেন নব্য জেএমবির দায়িত্বশীলদের প্রিয়পাত্র। তাকে বানানো হয় নব্য জেএমবির সোশ্যাল মিডিয়া কেন্দ্রিক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপের এডমিন। পরবর্তীতে সেই দায়িত্বশীল সদস্যগণ ইমনের হাতে সোশ্যাল মিডিয়া কেন্দ্রিক প্রচারণার দায়িত্ব দিয়ে অফলাইনে চলে যায়।

কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রানস্নেশনাল ক্রাইম ইউনিট সিটিটিসি ইন্টেলিজেন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ আতিকুল হক প্রধান জানান, নব্য জেএমবির সোশ্যাল মিডিয়া কেন্দ্রিক একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপের দায়িত্ব পালন করা শুরু করে ইমন ২০২১ সালের শুরুর দিক থেকে। প্রাথমিকভাবে সংগঠনের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং সদস্য সংগ্রহের কাজ করে আসছিল সে। নব্য জেএমবির মতাদর্শে অনেককে টার্গেট করে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা ও করে যাচ্ছিলো। বিভিন্ন সময়ে নিজের ফেইক ফেসবুক একাউন্ট থেকে নব্য জেএমবির শোলাকিয়া, হলি আর্টিজান এবং কল্যাণপুরে জঙ্গী অভিযানে নিহত দের শহীদ ও বীর হিসেবে আখ্যায়িত করে পোস্ট দিতো। অন্যদের কেও এ ধরনের কাজে অংশ গ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করে আসছিল সে। নব্য জেএমবির দায়িত্বশীলদের পরামর্শ ও অনুমতিক্রমে একটি ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপস তৈরি করে যা নব্য জেএমবির বিভিন্ন কার্যক্রম এবং সদস্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হতো। তাদের লক্ষ্য ছিলো অধিক সংখ্যক মানুষের মাঝে নব্য জেএমবির আদর্শিক চিন্তাধারা ছড়িয়ে দেওয়া ও তাদের মোটিভেট করা। যার ফলস্রুতিতে আল বাতাল এজেন্সি নামে একটি ওয়েবসাইট ইমন নিজেই তৈরি করে নব্য জেএমবির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করে যাচ্ছিল। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক হারে সেই ওয়েবসাইটের প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছিল গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত। তাদের লক্ষ্য ছিল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং তাদের ওয়েবসাইটে যত কনটেন্ট তারা দিতে পারবে ততবেশি সাধারণ জনগণকে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হতে পারবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমনের কাছ থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে সিটিটিসি। এসব বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়ার জন্য সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের ট্রাফিক পুলিশ বক্সের বোমা রাখার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করে তারা।

সিটিটিসি ইন্টেলিজেন্স ডিভিশনের উপ-পুলিশ (ডিবি) কমিশনার মিশুক চাকমা জানান, গ্রেপ্তারকৃত শহীদুল্লাহ কাউসার ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। বিজ্ঞ আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের শেষ পর্যন্ত নিশ্চিই তার কাছ থেকে নব্য জেএমবির অনলাইন শাখার কার্যক্রম সম্পর্কে আরো তথ্য জানা সম্ভব হবে।

কেএফ

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS