Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮

ফলোআপ

ঢাবি’র ছাত্রী তুষ্টির সুরতহাল রিপোর্টে যা উল্লেখ রয়েছে

As mentioned in the inquest report of DU student Tushti
ইসরাত জাহান তুষ্টি।। ফাইল ছবি

হঠাৎ করেই রাজধানীর আজিমপুর স্টাফ কোয়ার্টারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ইশরাত জাহান তুষ্টির (২১) করুণ মৃত্যু তার পরিবার ও সহপাঠিদের বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে। ইতোমধ্যে তার মরদেহ নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার ৭ নম্বর সুখারী ইউনিয়নের নীলকণ্ঠপুর গ্রামে দাফন করা হয়েছে। এই দাফন কার্যের আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে তার সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে কর্তব্যরত পুলিশ।

সেই সুরতহাল প্রতিবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, বাথরুম থেকে উদ্ধার করে যখন তুষ্টির দেহ মর্গে আনা হয় তখন তার পরনে ছিল লাল হাফ হাতা গেঞ্জি এবং নেভি ব্লু রঙের ট্রাউজার। চোখ-মুখ ছিল অর্ধ খোলা অবস্থায়, জিহ্বা দাঁত দিয়ে সামান্য কামড়ানো। বুক, পেট, পিঠ, কোমর হতে পা পর্যন্ত স্বাভাবিক ছিল। হাত দুটি ছিল অর্ধমুষ্টি অবস্থায়। বাম হাতের কনুই এবং পিঠের বাম পাশে পুরাতন দাগ ছিল।

ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে তুষ্টির মরদেহ বিকেল ৩ টার দিকে নিজ গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। ৩ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে তুষ্টির নামাজে জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে লালবাগ থানার ওসি (তদন্ত) খন্দকার হেলালুদ্দীন বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই ফায়ার সার্ভিসের লোকজন তাকে (তুষ্টিকে) ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায়। পরে সেখানেই তার সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়। তার শরীরে দৃশ্যমান অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করা যায়নি। তবে শরীরের অভ্যন্তরে কোন অস্বাভাবিক কিছু থাকলে তা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসলেই বলা যাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রাব্বানী বলেন, একটি ঘটনা শেষ হতে না হতেই আরও একটি ঘটনা ঘটে গেল। আমাদের জন্য অনেক বড় কষ্টের বিষয়। ঘটনাটি আমরা আলাদাভাবে তদন্ত করছি, তার মৃত্যুর কারণ জানার চেষ্টা করছি।

উল্লেখ্য, গতকাল রোববার (৭ জুন) ভোর ৬ টার দিকে আজিমপুরের পলাশী আবাসিক এলাকার স্টাফ কোয়ার্টারের ১৮ নম্বর বাসার নিচ তলার একটি রুমের বাথরুমের দরজা ভেঙে তুষ্টির মরদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। তুষ্টি যে বাসায় সাবলেট থাকতেন সে বাসায় ৩টি রুম। এর একটি রুমে আরও ৩ জনের সঙ্গে থাকতেন তিনি। বাথরুমটি ছিল রুমের বাইরে। মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল বন্ধ থাকায় তিনি গ্রামের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। পরে ‘আবাসিক হলে থাকা যাবে না, তবে সশরীরে পরীক্ষা দিতে হবে।’- এমন তথ্য পেয়ে নেত্রকোণা থেকে ঢাকায় ফিরে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী। পরে স্টাফ কোয়াটারে সাবলেটে বাসা ভাড়া নিয়ে উঠে পড়েন। ওই বাসা থেকেই তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে থাকতেন।

মোবাইল ফোনে তুষ্টির বাবা আলতাফ হোসেন বলেন, গত মাসের শেষে বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় আমার মেয়ে বলেছে- ‘আব্বা, সামনে মনে হয় ভার্সিটি খুলতে পারে। একটু বেশি বেশি পড়তে হবে। ভালো একটা বাসা নিয়েছি। বাসাটারও নিরাপত্তা আছে।’

আলতাফ হোসেনের ৪ সন্তানের মধ্যে তুষ্টি ছিল একমাত্র মেয়ে। প্রতিদিনই মেয়ের সঙ্গে ফোনে কথা হতো এই বাবার।

তিনি বলেন, আমার ৩ ছেলে ১ মেয়ে। সবার বড় ছেলে, এরপর তুষ্টি। তার ছোট আরও দুই ভাই আছে। প্রতিদিন বিকেলে আমি আমার মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলতাম।

‘এখন আমি কার সাথে কথা বলবো?’ বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এই হতভাগ্য বাবা।

আলতাফ হোসেন আরও বলেন, ‘একমাত্র মেয়ে ইশরাত জাহান তুষ্টি আমার খুব আদরের ছিলো। ওর মুখে সবসময়ই হাসি ফুটিয়ে রাখার চেষ্টা ছিলো আমার। মেয়েটাও আমার জন্য অনেক পাগল ছিলো, বাবা-বাবা বলে জীবনটা দিয়ে দিতো। ছোটবেলা থেকেই মেয়েটার একটু শ্বাসকষ্ট ছিল। মেধাবী হওয়ায় পড়াশোনায় অনেক ভালো ছিলো, যে কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ চেষ্টায় ভর্তির সুযোগ পায় সে। অথচ, জীবনের শুরুর দিকেই অকালে ঝরে গেলো আমার কলিজার টুকরা মেয়েটা।’

কেএফ

RTV Drama
RTVPLUS