Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮

শর্ত ভেঙে চীনা টিকার দাম ফাঁস: অতিরিক্ত সচিব ওএসডি

Additional Secretary OSD leaked the price of Chinese ticker
অতিরিক্ত সচিব শাহিদা আকতার।। ফাইল ছবি

মহামারি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী চীনা টিকার দাম গণমাধ্যমে ফাঁস করায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহিদা আকতারকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। রোববার (৬ ‍জুন) দুপুরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এমন আদেশ আসে।

চীন থেকে দেড় কোটি ডোজ টিকা কেনার প্রস্তাব সম্প্রতি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের পর সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে সে টিকার দাম গণমাধ্যমে জানিয়ে দেন শাহিদা আকতার।

টিকার দাম জানানোর পর টিকা কিনতে জটিলতা দেখা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বাংলাদেশ চায়না ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ বা সিনোফার্ম থেকে করোনাভাইরাসের দেড় কোটি টিকা কিনতে যাচ্ছে। বাণিজ্যিক চুক্তির আওতায় প্রথম চালানে সিনোফার্মের ৫০ লাখ টিকা জুনে দেশে আসার কথা রয়েছে।

সিনোফার্মের কাছ থেকে দেড় কোটি টিকা কিনতে দুই পক্ষের মধ্যে ৩টি চুক্তি সইয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, কৌশলগত কারণে চীন তার সিনোফার্মের তৈরি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের দাম একেক দেশে একেক রকম চেয়েছিলো। সেই হিসেবে, সুসম্পর্কের কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের কাছে তারা প্রতিটি ভ্যাকসিনের দাম ১০ ডলার চেয়েছিলো। অন্যদিকে একই ভ্যাকসিনের দাম শ্রীলঙ্কার কাছে ১৫ ডলার করে চেয়েছিলো চীন। যে কারণে চীনের কাছে আপত্তি তোলে শ্রীলঙ্কা। এতেই বাংলাদেশ সিনোফার্মের ভ্যাকসিন পাওয়া নিয়ে সংঙ্কটের মুখে পড়ে যায়। বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দেড় কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত চুক্তি এক সপ্তাহের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল। ১০ ডলার মূল্যে চীন থেকে ভ্যাকসিন আনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ করে ফেলেন অতিরিক্ত সচিব সাহিদা আকতার। অথচ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন দামে ভ্যাকসিন সরবরাহ করে বলে বাণিজ্যিক স্বার্থে কোনো অবস্থাতেই দাম প্রকাশ না করতে বলেছিলো চীন।

এদিকে, বাংলাদেশের গণমাধ্যমে দাম প্রকাশের পর প্রথম আপত্তি জানায় শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশকে ১০ ডলারে ভ্যাকসিন দেওয়া হলে শ্রীলংকার কাছে ১৫ ডলার চাওয়া হচ্ছে কেন, প্রশ্ন তোলে দেশটি?

এ পরিস্থিতিতে দাম প্রকাশের কারণ জানতে চেয়ে বাংলাদেশের কাছে একটি কূটনৈতিক চিঠি পাঠায় চীন।

ওই চিঠি এমন সময়ে আসে, যখন বাংলাদেশ দেড় কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কেনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠায় চীনের কাছে। বিব্রতকর এ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা চলছে, তবে চীনের কাছ থেকে এখনো উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, চীন ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, কিনতে হলে ভ্যাকসিন প্রতি বাংলাদেশকে এখন ১৫ ডলারই দিতে হবে।

গত ২৭ মে (বৃহস্পতিবার) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় চীন থেকে সরকারি পর্যায়ে সরাসরি ওই টিকা কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

ওই বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহিদা আক্তার বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণ ও করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদান অব্যাহত রাখতে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম থেকে গণচীনের তৈরি সার্স কোভ-২ ভ্যাকসিন কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, দেড় কোটি ডোজ টিকার মোট দাম পড়বে ১৫ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ হয় এক হাজার ২৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রতি ডোজের দাম পড়বে ১০ ডলার পড়বে।

সিনোফার্ম প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে জুন, জুলাই ও অগাস্ট মাসে বাংলাদেশকে ১ কোটি ৫০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ করবে জানিয়ে অতিরিক্ত সচিব শাহিদা বলেন, ‘এই কেনাকাটায় আমাদের দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। সরাসরি চীন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের এই ক্রয় চুক্তি হচ্ছে।’

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড কিনে এতদিন টিকাদান চালিয়ে আসছিল বাংলাদেশ। সব খরচ মিলিয়ে ওই টিকার প্রতিটির দাম পড়েছিলো ৫ ডলার।

কেএফ

RTV Drama
RTVPLUS