logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭

ফলোআপ

কারাগারে নারীসঙ্গ: ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর শাস্তির সুপারিশ

Women's association in prison: Recommendation for punishment of 18 officers and employees
ফাইল ছবি

গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নারীর সঙ্গে বন্দির একান্তে সময় কাটানোর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। ওই প্রতিবেদনে সেখানকার ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের অপরাধ রোধে দেশের ৬৮টি কারাগারে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানোসহ কারা অধিদপ্তর থেকে মনিটর করার প্রযুক্তি বসানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া জেল কোড মেনে কারাগারে নারীসঙ্গ বৈধ করা যায় কি না, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে। আজ বৃস্পতিবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

দুর্নীতির মামলায় কাশিমপুর কারাগারে বন্দি হলমার্কের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) তুষার আহমেদ বিধি লঙ্ঘন করে এক নারীর সঙ্গে সময় কাটানোর ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ এই তদন্ত কমিটি গঠন করে। এ ঘটনা তদন্ত শুরু হওয়ার পরপরই কাশিমপুর-১ কারাগারের জেল সুপার রত্না রায়, জেলার নূর মোহাম্মদ মৃধা, ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলাইনসহ ৫ জনকে প্রত্যাহার করে কারা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিলো।

সূত্র জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার (০২ ফেব্রুয়ারি) আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঙ্গে কাশিমপুর-১ কারাগারের অন্তত ১৮ জন কর্মকর্তা ও কারারক্ষীর সম্পৃক্ততা পেয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে চাকরি বিধি অনুযায়ী চাকরিচ্যুতি, বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে জেল সুপার, জেলার, ডেপুটি জেলারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। তারা কিভাবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তারও চিত্র তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।

উল্লেখ্য, গত ৬ জানুয়ারি কাশিমপুর-১ কারাগারে বন্দি তুষারের সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্ত্রী কারাবিধি ভঙ্গ করে দেখা করতে যান। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তারা একটি কক্ষে একান্তে সময় কাটানোরও সুযোগ পান বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসার পর তদন্ত শুরু হয়। গণমাধ্যমে এ সংবাদ প্রচারের পর সারা দেশে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। গঠিত হয় পৃথক ২টি তদন্ত কমিটি। এর মধ্যে ১টি তদন্ত কমিটি গঠন করে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। আরেকটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে কারা অধিদপ্তর। এ তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছিল অতিরিক্ত আইজি প্রিজন্স কর্নেল আবরার হোসেনকে। সদস্য ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আবু সাঈদ মোল্লা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ডিআইজি প্রিজন্স জাহাঙ্গীর কবীর। কারা অধিদপ্তর গঠিত তদন্ত কমিটিকে সাত কর্ম দিবস সময় দেওয়া হয়। তারা ছুটির দিনেও কাজ করে তদন্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জমা দিতে সক্ষম হয়।

জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত আইজি প্রিজন্স কর্নেল আবরার হোসেন আজ সন্ধ্যায় বলেন, ‘আমরা একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। যে প্রতিবেদনে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে।’

সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনটি কারা অধিদপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তদন্ত রিপোর্টে পুরো ঘটনার বর্ণনা করা হয়েছে। কারা, কিভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তারও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে যে তথ্য পাওয়া গেছে সেগুলো উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ভবিষ্যতে কারাগারের অপরাধ রুখতে ২৫টি সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশে যেকোনো অপরাধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কঠোর হওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

কেএফ

RTV Drama
RTVPLUS