logo
  • ঢাকা সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭

কারাবন্দীকে ৫ বছর একান্তে সঙ্গ দিচ্ছিলেন সুন্দরী সুইটি

Sundari Sweety was accompanying the prisoner privately for 5 years
কারাবন্দীকে ৫ বছর একান্তে সঙ্গ দিচ্ছিলেন সুন্দরী সুইটি।। ছবি: ভিডিও ফুটেজ থেকে নেয়া

আসমা শেখ সুইটি ওরফে সুন্দরী সুইটি। এই নারী গত ৫ বছর ধরে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী হলমার্ক গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) তুষার আহমদকে দফায় দফায় সাক্ষাৎ করে একান্তে সঙ্গ দিয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে।

যদিও তুষার এবং সুইটি উভয়ই দাবি করছেন, তাদের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর। মোবাইল ফোনেই তুষারের সঙ্গে সুইটির পরিচয়। পরবর্তীতে তারা মোবাইল ফোনেই বিয়ে করেন। এরপরই থেকেই সুইটি কারাগারে তুষারের সংস্পর্শে যাওয়া শুরু করেন। আগে নিয়মিত কাশিমপুর কারাগারে তুষারের সাক্ষাতে যেতেন সুইটি। করোনার কারণে সম্প্রতি তুলনামূলকভাবে কমই যেতেন তিনি।

কাশিমপুর কারাগারের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তার সহযোগিতা নিয়ে কারাগারেই বন্দী তুষার ও সুইটি একান্তে অনেকবার মিলিত হওয়ার সুযোগ পেতেন। এর বিনিময়ে আর্থিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি মিলতো বড় অঙ্কের উপঢৌকন।

সূত্র জানায়, এক সময়ে আসমা শেখ সুইটি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতেন। পরবর্তীতে টাকা জমিয়ে সেই চাকরি ছেড়ে অনলাইনে বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী। রাজধানীর হাতিরঝিল সংলগ্ন পুলিশ প্লাজা কনকর্ড শপিং মলের ৪র্থ তলায় তার ১টি ফ্যাশন হাউজ রয়েছে। ফ্যাশন হাউজটি ২০১৯ সালে চালু করেন সুইটি। বর্তমানে সেখানে ৩ জন কর্মী কর্মরত আছেন।

জানা গেছে, কারাবন্দী তুষারের প্রথম স্ত্রীর নাম নাজনিন সুলতানা মিষ্টি। তাদের সংসারে ২ সন্তান রয়েছে। ২০১২ সালে র্যাীবের হাতে গ্রেপ্তারের পর তুষার আহমেদ কারাগারে থাকায় তার স্ত্রী নাজনিন সুলতানা মিষ্টি দুই সন্তানকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় চলে যান। স্ত্রী নাজনিন এবং তার পরিবারের সদস্যরা তুষারের সঙ্গে আলোচিত আসমা শেখ সুইটির বিয়ের বিষয়টি জানতেন না।

গত ৫ বছর যাবৎ গোপনে কারাগারে একান্তে সময় কাটালেও সম্প্রতি বিষয়টি সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। এমন পরিস্থিতিতে সুইটি অনেকটা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর সবুজবাগের নিজ বাসায় মা এবং ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন সুইটি। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়ায়। সুইটির বাবা গ্রামের বাড়িতে থাকেন। মাঝে মধ্যে ঢাকায় এসে বেড়িয়ে যান।

কারা কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটির কাছে সুইটিকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেছেন তুষার। তুষারের দাবি, বিয়ের আগে সুইটির সঙ্গে কারাগার থেকে মোবাইল ফোনে নিয়মিত কথা বলতেন দু’জনে। ফোনেই সুইটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তুষারের। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনেই তাদের বিয়ে হয়। তাদের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হতে একাধিক কারাবন্দির সাক্ষাৎকার নিয়েছে তদন্ত কমিটি।

সূত্র জানায়, এই ঘটনার পর সুইটি মানসিকভাবে অনেকটা ভেঙে পড়েছেন। কারো সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলেন না। ভিডিও ফুটেজ ও টেলিভিশনে যখন দেখায় তখন সে কাছের মানুষদের সঙ্গে ফোনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সুইটির ঘনিষ্ঠজন জানান, ওইদিন সুইটি ফোন করে বলে, ‘আমাকে টিভিতে দেখাচ্ছে। গত ৫ বছর যাবৎ আমি আমার স্বামী তুষারের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করছি। কিন্তু হঠাৎ করে কেন ওই দিনের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ পেলো। গত ৫ বছরের ভিডিও ফুটেজ এবং নথি কেন প্রকাশ করা হচ্ছে না। নিশ্চয়ই এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে।’

এদিকে, গাজীপুরের কাশিমপুরে গত ৬ই জানুয়ারি কারাগারে প্রবেশপথে কর্মকর্তাদের কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় কালো রঙের জামা পরে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় হলমার্কের মহাব্যবস্থাপক ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত (জিএম) তুষারকে। কিছু সময় পর বাইরে থেকে বেগুনি রঙের সালোয়ার কামিজ পরে সেখানে প্রবেশ করেন সুইটি। দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে সে কারাগার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কারা কর্মকর্তাদের সবাই কারাগারেই অবস্থান করছিলেন।

কারা সূত্র জানায়, মহিলাসহ ৩ জন কারাগারের অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন ৬ই জানুয়ারি ১টা ৫৬ মিনিটে। কারা সেল থেকে হলমার্ক কেলেঙ্কারির অন্যতম হোতা তুষার কারা অফিস কক্ষে আসেন ২টা ৪ মিনিটে। এরপর জেল সুপার রত্না রায় অফিস কক্ষ থেকে বের হয়ে যান ২টা ১৫ মিনিটে। কারা অফিসের একটি কক্ষে টানা ৪৫ মিনিট অবস্থান করেন তুষার ও সুইটি। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-১ এর ৩ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, সাজাপ্রাপ্ত আসামির সঙ্গে কারাগারে নারীর সময় কাটানোর ঘটনায় প্রথম ধাপে ডেপুটি জেলারসহ ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরের ধাপে সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায় ও জেলার নুর মোহাম্মদকে প্রত্যাহার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৫ জনকে প্রত্যাহার করার তথ্য পাওয়া গেছে। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষে তাদের সুপারিশমালা দ্রুত সময়ের মধ্যে জমা দেবেন বলে জানা গেছে।

কেএফ/এমকে

RTV Drama
RTVPLUS