logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

টেলিভিশন কন্টেন্ট গবেষণা প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২১ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:২১ | আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:০০
বিশ্ব টেলিভিশন দিবস,  টেলিভিশন কন্টেন্ট, তথ্যমন্ত্রী, ড. হাছান মাহমুদ
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
টেলিভিশনকে দর্শকপ্রিয় করতে টেলিভিশন কন্টেন্ট গবেষণা প্রয়োজন। তবে অন্য চ্যানেল কেন বেশি দেখছে সে গবেষণা করার দরকার নেই। দেখা যাচ্ছে, বিদেশি চ্যানেল দেখাচ্ছে কীভাবে সংসার ভাঙে, কীভাবে পরকীয়া প্রেম হয়, কীভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে কুটচাল দিচ্ছে। মানুষ স্বাভাবিকভাবে এগুলো দেখতে আগ্রহী। তাই বলে সেটি আমাকে দেখাতে হবে বলছি না। এর বিপরীতে কী দেখালে জাতি গঠনে কাজে লাগবে, সমাজের ক্ষেত্রে কাজ লাগবে, এই বিষয়ে গবেষণা করে দেখাতে হবে। তাহলে সকলের জন্য কল্যাণকর হবে- এমনটি বলেছেন  তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বেঙ্গল স্টুডিওতে টেলিভিশন দিবসের  আলোচনা অনুষ্ঠানে এমনটি জানান তিনি।

ব্যক্তিজীবনে টেলিভিশনের প্রভাব নিয়ে মন্ত্রী বলেন, টেলিভিশন এমন একটি মাধ্যম যেখানে মানুষ প্রতিদিন কিছুটা সময় কাটায়, যতই তিনি ব্যস্ত মানুষ হন। এখান থেকে প্রতিদিন আমরা কিছু না কিছু শিখছি। আমাদের জীবনে এর ব্যাপক প্রভাব আছে। দেখবেন বাচ্চারা টিভি দেখে শিখে প্র্যাকটিস করে। আমাদের নতুন প্রজন্মের মনন তৈরি করা, আত্মপ্রত্যায়ি করা, মমত্ববোধ, দেশাত্মবোধ, মূল্যবোধের উন্মেষ ঘটিয়ে তাদের তৈরি করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। আমাদের অনুষ্ঠানগুলো সাজানোর ক্ষেত্রে বিষয়গুলো যদি মাথায় রাখি তাহলে সম্ভব হবে।

টেলিভিশন বিজ্ঞাপন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের টেলিভিশনগুলো বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশি পণ্যের শত শত কোটি টাকার বিজ্ঞাপন বিদেশে চলে যেত। বিদেশি টেলিভিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য প্রদর্শিত হত। আমরা উদ্যোগ নিয়ে সেটি বন্ধ করেছি। একটি পণ্যের বিজ্ঞাপনের কথা বলা হয় এখনও চলছে, কিন্তু তারা বিদেশে নিবন্ধনকৃত কোম্পানি। বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন যেভাবে চলে যাচ্ছিল সেটা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছি। আইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা চেষ্টা করছি।

বিজ্ঞাপনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব পড়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন চলে যাওয়াতে টেলিভিশন এখন চ্যালেঞ্জে আছে। এই মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিলে খরচ কম হয়, তাই মানুষ এদিকে ঝুঁকছে। এ বিষয়েও আমরা উদ্যোগ নিয়েছি যেন সরকার ট্যাক্স পায়। এছাড়া আমরা ফেসবুকের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে বসেছি। তারা এখানে এজেন্ট নিয়োগ দিতে সম্মতি প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্যাক্সের আওতায় আনার জন্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি শীঘ্রই এই মাধ্যমগুলো ট্যাক্সের আওতায় আসবে। 

ক্যাবল অপারেটরদের নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ক্যাবল অপারেটররা একটা বড় সিন্ডিকেট। এই অপারেটরদের কাছে আগে চ্যানেলগুলো জিম্মি থাকত। টেলিভিশনের সিরিয়াল নিয়ে আগে অপারেটররা অনেক দেন-দরবার করত। সেটিও আমরা বন্ধ করেছি।

সাংবাদিকদের চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে তিনি বলেন, টেলিভিশনে যারা কাজ করেন তাদের চাকরির কোনও নিশ্চয়তা নেই, এর কোনও আইনি সুরক্ষা নেই। যেভাবে থাকা প্রয়োজন ঠিক সেভাবে নেই। এটিকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। আমরা আলোচনা করছি, আমি মনে করি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আইনি সুরক্ষা দিতে পারব। নীতিমালার আলোকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করব। যারা টেলিভিশনে কাজ করেন, যারা সাংবাদিক সবাই মেধাবী। তারা বিসিএস পরীক্ষা দিলে এতদিনে কেউ সচিব হতে পারতেন, কেউ এম্বাসেডর হতে পারতেন কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হতে পারতেন।   

আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নানা চ্যালেঞ্জ কারণে দেশের টেলিভিশনগুলো এখন হুমকির মুখে। টেলিভিশন শিল্পকে বাঁচাতে এবং এর বিকাশে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

উল্লেখ্য, নানা আয়োজনে বিশ্ব টেলিভিশন দিবস পালন করছে আরটিভি ও সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্র। রাজধানীর তেজগাঁও বেঙ্গল স্টুডিওতে এ উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

জিএ/সি 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বাংলাদেশ এর সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ এর পাঠক প্রিয়