logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নির্যাতনের শিকার নারীরা হচ্ছেন অর্থনৈতিকভাবে সর্বশান্ত (ভিডিও)

মুক্তা মাহমুদ
|  ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৫৩ | আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:২৬
অকথ্য নির্যাতনের চিহ্ন নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থেকে ফিরে আসছেন নারীকর্মীরা। ফেরত আসা নারীরা একদিকে যেমন অর্থনৈতিকভাবে সর্বশান্ত হচ্ছেন, আবার অনেকে পরিবার থেকে হচ্ছেন বিতারিত। সরকারিভাবে প্রতিবাদ না হওয়ায় বিদেশে অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্রা বাড়ছে বলে মনে করেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

মাস তিনেক আগে এক দালালের মাধ্যমে ঘরের কাজে মেয়েকে সৌদি আরব পাঠান ফরিদপুরের লাবলু মিয়া। ১৫ দিনের মাথায় বাবাকে ফোন করে নিজের অসুবিধার কথা জানিয়ে ফিরিয়ে আনতে বলেন। এরপর থেকে মেয়ের আর খোঁজই পাচ্ছেন না।

পরিবারের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন টাংগাইলের রোজিনা ও শেফালি। সে স্বপ্নই পরে রূপ নিয়েছে দুঃস্বপ্নে। নির্যাতিত হয়ে ফিরে আসায় এখন পরিবারও নিতে চাচ্ছে না।  

বেসরকারি সংস্থা ‘মাইগ্রেশন প্রোগ্রামে’র পরিসংখ্যান বলছে নির্যাতনের শিকার হয়ে গেল বছর সৌদি আরব থেকে ফেরত এসেছেন এক হাজার ৩৬৫ জন নারীকর্মী। আর এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত ফিরেছেন ৯১০ জন।

২০১৮ সালে সৌদি আরব থেকে ফেরত এসেছেন ১,৩৬৫ জন নারীকর্মী। ২০১৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত ফেরত আসা নারীকর্মী ৯১০ জন।                                                             

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এমন মনিব আচরণ নতুন নয়। নির্মম নির্যাতন করায় ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশ নারীকর্মী পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিলো। উপায় না পেয়ে বাংলাদেশের দ্বারস্থ হলে নারীকর্মী পাঠানো শুরু হয় দেশগুলোতে। তবে শ্রমিক নির্যাতনের অনেকদিনের পুরনো বদভ্যাস বদলানো পারেনি।  

মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার ধরে রাখতে একে সস্তা শ্রমেরই খেসারত হিসেবে দেখছেন বেসরকারি সংগঠন ব্র্যাকের ‘মাইগ্রেশন প্রোগ্রামে’র প্রধান। নারীকর্মীদের সুরক্ষা দিতে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে সরকারকে ওই সব দেশের আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন তিনি।

আগামী মাসে সৌদি আরবের সঙ্গে ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপে’র আলোচনায় বিষয়টি তোলার কথা জানালেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী। এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ইঙ্গিত দিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী।

এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়