logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬

কারা খুন করেছে বুয়েটের আবরার ফাহাদকে?

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:০৭ | আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:২৭
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে শের-ই বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষের ভেতর পিটিয়ে হত্যা করা হয়। কক্ষটিতে ছাত্রলীগের নেতারা থাকতেন। তারা সবাই এখন পলাতক।

হলের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বুয়েটের শের-ই বাংলা হলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের অনুসারী একদল নেতাকর্মী তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

হল শাখা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, ফাহাদকে জেরা ও পেটানোর সময় ওই কক্ষে অমিত সাহা, মুজতাবা রাফিদ, ইফতি মোশারফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন।

ওই কক্ষে এসে দ্বিতীয় দফায় ফাহাদকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়নসহ কয়েকজন। তারা সবাই মেহেদী হাসান রাসেলের অনুসারী।

এ ঘটনায় বুয়েটের শিক্ষার্থী বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। 

তবে চারজনের নাম জানা গেছে। এরা হলেন, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল ও সহসভাপতি সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়নকে আটক করা হয়েছে।

বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু বলেন, নিহত ফাহাদের ফেসবুক একাউন্ট ও ইনবক্স ঘেঁটে তার সঙ্গে ছাত্র শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়। এমনকি শিবির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ফেসবুক পেজ ‘বাঁশের কেল্লা’তে তার লাইক দেওয়া আছে বলেও তিনি জানান। রাত পৌনে নয়টার দিকে তিনি ওই কক্ষ থেকে বের হয়ে যান বলে দাবি করেন। তবে এরপর ফাহাদকে মারধর করা হয়েছে কিনা এবিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি। 

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ফাহাদের একজন রুমমেট ঘটনার বিষয়ে বলেন, টিউশনি শেষে রুমে রাত নয়টার দিকে আসি। তখন আবরার রুমে ছিলো না। অন্য রুমমেটদের কাছ থেকে জানতে পারি তাকে ছাত্রলীগের ভাইয়েরা ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে গেছে। পরে রাত আড়াইটার দিকে হলের একজন এসে আবরার আমাদের রুমমেট কিনা জানতে চান। আমি হ্যাঁ বললে সিঁড়ি রুমের দিকে যাওয়ার জন্য বলেন। পরে সিড়ি রুমের দিকে গিয়ে একটা তোশকের ওপরে আবরার পড়ে আছে। পরে ডাক্তার এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শেরে বাংলা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাফর ইকবাল খান বলেন, ডাক্তারের ফোন পেয়ে হলে আসি। এসে ছেলেটির লাশ পড়ে আছে। ডাক্তার জানান ছেলেটি আর নেই। পরে তাকে পুলিশের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে, নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন দাবি করেছেন, তার ছেলের কোনো শত্রু নেই। তাদের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সমর্থক। ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।  

তবে আবরার পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে এ প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।

সোমবার দুপুরে তিনি জানান, এ ঘটনায় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। আবরার হত্যায় জড়িতরা যে পরিচয়-ই বহন করুক না কেউ রেহাই বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এসজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়