logo
  • ঢাকা বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬

বাংলাদেশে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি আমিরাতের ব্যবসায়ীদের

মাহাবুব হাসান হৃদয়, আমিরাত প্রতিনিধি
|  ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৪৭ | আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:১০
সংযুক্ত আরব আমিরাত, ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান
ছবি: নিজস্ব
বাংলাদেশের কয়েকটি প্রকল্পে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগকারীরা। এই বিনিয়োগ আসবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, বন্দর ও অবকাঠামো খাতে। যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে সরকার আশা করছে।

রোববার দুবাইয়ের কনরাড হোটেলে বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামের দ্বিতীয় সম্মেলনে এসব প্রকল্প ও বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে আরব আমিরাতের ব্যবসায়ীদের আলোচনা হয়।

সালমান এফ রহমান এই সম্মেলনে ২০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। সেখানে তার সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কয়েকটি বড় ব্যবসায়ী গ্রুপেরও আলোচনা হয়, যারা বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্ক গড়ে তোলার আগ্রহ দেখিয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় বাংলাদেশে একটি বন্দর, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কথা রয়েছে আরব আমিরাতের বিনিয়োগকারীদের।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে বাংলাদেশ সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ২৮টি হাই-টেক পার্ক গড়ে তুলছে। গত এক বছরে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ৬৮ শতাংশ বেড়ে ৩.৬১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের (বিএইচটিপিএ) প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে নতুন ২০টি বিনিয়োগ প্রকল্প উপস্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সঙ্গে এসব প্রকল্প প্রস্তাব নিয়ে সেখানে বিনিয়োগকারীদের আলোচনা হয়।

সালমান এফ রহমান বলেন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) গ্রহণে বাংলাদেশ আগের চেয়ে এখন আরও বেশি স্বাগত জানায়।

---------------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : সাপের ছোবলে একসঙ্গে ঘুমিয়ে থাকা সহোদরের মৃত্যু
---------------------------------------------------------------------

তিনি বলেন, আমরা সব সময় চীন, জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বড় ধরনের বিনিয়োগ দেখে আসছি। এখন আমরা বিশ্বাস করি জিসিসিভুক্ত দেশগুলো বিশেষ করে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়, অপারেশনস এবং উচ্চতর রিটার্নের সুবিধা নেয়া উচিত। যেহেতু বাংলাদেশে প্রায় ২০ মিলিয়ন মানুষ মধ্য আয়ে অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে ফলে অভ্যন্তরীন খরচ ও ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারণে বিনিয়োগের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমরা বাংলাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ২৮টি হাই-টেক পার্ক উন্নয়ন করেছি। যাতে করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সর্বনিম্ন শ্রম ব্যয় ও খুব কম অপারেশনাল ব্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।  ইউএই ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে আসা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সুযোগসমূহ গ্রহণ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনশর বেশি সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগের গতি বাড়াতে আয়োজিত দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেন।

বাংলাদেশিরা আমিরাতের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মালিকানায় বা পরিচালনায় বর্তমানে সেখানে ৫০ হাজারের বেশি ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

২০১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে  রয়েছে, যা পরবর্তী কয়েক বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের বেশি করবে। এর ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্রুতবর্ধমান অর্থনীতিতে পরিণত হবে।  ৮ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বাংলাদেশের প্রচুর দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন যা টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

এক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জিসিসিভুক্ত দেশগুলো হতে পারে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বড় উৎস।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়