logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গ্রাম গুড়িয়ে বানানো হয়েছে সরকারি ভবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৩০ | আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৩৯
রোহিঙ্গা, মিয়ানমার
ছবি: বিবিসি
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গ্রাম গুড়িয়ে দিয়ে বানানো হয়েছে পুলিশের ব্যারাক, সরকারি ভবন এবং শরণার্থী পুনর্বাসন শিবির। বিবিসির অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

মিয়ানমার সরকার আয়োজিত এক সফরে গিয়ে বিবিসি অন্তত চারটি স্থানে সরকারি স্থাপনা দেখেছে। অথচ স্যাটেলাইট থেকে তোলা আগের ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এখানে রোহিঙ্গাদের বসতি ছিল।

স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট জানায়, ২০১৭ সালে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা গ্রামগুলোর মধ্যে কমপক্ষে ৪০ ভাগ গ্রাম পুরোপুরি গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

রাখাইনে পাওয়া তথ্য সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে বক্তব্যের জন্য মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এসব স্থাপনা তৈরির অভিযোগ নাকচ করা হয় দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে।

সরকারিভাবে, বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের পর্যায়ক্রমে ফিরিয়ে নিতে সম্মত মিয়ানমার সরকার। কিন্তু মিয়ানমারের মন্ত্রীরা এখনও রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলে সম্বোধন করে থাকে।

তাদের দাবি, গত ৭০ বছর ধরে অবৈধভাবে অভিবাসনের মাধ্যমে মিয়ানমারে গিয়েছে তারা। তবে এই ধরনের অভিবাসনের কোনও ধরনের প্রমাণ নেই।

২০১৭ সালে সামরিক অভিযানের মুখে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘ একে জাতিগত হত্যাকাণ্ডের ‘টেক্সটবুক’ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তবে বড় ধরনের হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ নাকচ করেছে মিয়ানমার। অবশ্য এখন তারা কিছু রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে রাজি। কিন্তু গত মাসে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের দ্বিতীয় চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

মিয়ানমারের অনুমোদিত তিন হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গার কেউ ফিরতে না চাইলে এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তাদের অভিযোগ, ২০১৭ সালের নিপীড়নের জন্য মিয়ানমারকে কোনও জবাবদিহিতার মুখোমুখি করা হয়নি।

এছাড়া তাদের চলাফেরার স্বাধীনতা ও নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়েও কোনও নিশ্চয়তা পায়নি তারা। অন্যদিকে এই ব্যর্থতার জন্য বাংলাদেশকে দায়ী করছে মিয়ানমার।

তাদের মতে, মিয়ানমার অনেক রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত ছিল। বিষয়টি প্রমাণ করতেই বিবিসি-সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকে তাদের প্রস্তুতি পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানায় তারা।

কে/এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়