logo
  • ঢাকা রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬

‘উপযুক্ত কর্মপরিবেশ ও যুব-কর্মসংস্থান নিশ্চিতে উপাত্ত-বিপ্লবের বিকল্প নেই’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ১৭ জুলাই ২০১৯, ১৬:০১ | আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৯, ১৬:১৬
Planning Minister Muhammad Abdul Mannan
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ সদরদপ্তরে চলতি উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরাম (এইচএলপিএফ)-এর বিভিন্ন প্লাটফর্মে সক্রিয় ও ফলপ্রসূ অংশগ্রহণের পাশাপাশি বাংলাদেশ আজ যুব-সম্প্রদায়কে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে ‘সকলের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের জন্য উপাত্ত-বিপ্লব’ শীর্ষক এক সাইড ইভেন্টের আয়োজন করে। এতে সহ-আয়োজক ছিল জাতিসংঘে নিযুক্ত ডেনমার্ক স্থায়ী মিশন, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়াবলী বিভাগ জাতিসংঘের দক্ষিণ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি জাতিসংঘ মূলধন উন্নয়ন তহবিল ও আইএলও। সহ-আয়োজক হিসেবে বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে ছিল- অ্যাকশন এইড, রেস্টলেস ডেভলপমেন্ট ইউকে, ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এবং সাউথ-সাউথ নেটওয়ার্ক ফর পাবলিক সার্ভিস ইননোভেশন।

সাইড ইভেন্টটির অন্যতম আলোচক ছিলেন বাংলাদেশের পরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান এমপি। তিনি বাংলাদেশে উপাত্ত-বিপ্লবের উদাহরণ হিসেবে ‘এসডিজি ট্র্যাকার’ এর কথা উল্লেখ করেন। যুব সম্প্রদায়সহ সবার জন্য যথোপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে অর্থাৎ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ৮.৫ ও ৮.৬ বাস্তবায়নে উপাত্তের ব্যবহার ও সন্নিবেশন কতটা ফলপ্রসূ ভূমিকা রেখেছে তা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, উপাত্ত আপনাকে সমন্বয় করার সুবিধা দেবে; যা উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। যদি কিনা আপনি উপাত্ত বিনিময় করেন। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপাত্ত বিপ্লব হতে পারে অন্যতম একটি হাতিয়ার বলে মন্তব্য করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়নের মুখ্য সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ সাইড ইভেন্টটিতে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন এবং এটি সঞ্চালনা করেন। সাইড ইভেন্টটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উপস্থাপন করে এসডিজি’র মুখ্য সমন্বয়কারী আলোচক ও অংশগ্রহণকারীদের আলোচনা, মতবিনিময় ও জিজ্ঞাসার জন্য বেশকিছু বিষয়ের অবতারণা করেন। এগুলো হলো- ১) কিভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ সবার জন্য বিশেষ করে যুবদের জন্য যথোপযুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সামগ্রিক ডেটা সংগ্রহ ও সমন্বয়ের টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। ২) নীতি-নির্ধারকগণের সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকার কিভাবে উপাত্ত বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম সৃষ্টি করতে পারে। ৩) উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে যাতে কেউ বাদ না পড়ে তা নিশ্চিতে কীভাবে উপাত্তের সম্ভাবনাসমূহকে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, সিভিল সোসাইটি, এবং শিক্ষাবিদ ও গবেষকগণ কাজে লাগাতে পারেন। ৪) উপযুক্ত কর্মপরিবেশ সৃষ্টিতে উপাত্তের ব্যবহার ও সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কার্যকর পদক্ষেপ কী কী হতে পারে। ৫) সবার জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারসমূহকে উপাত্তের সঠিক ধারণক্ষমতা ও নীতিমালা তৈরিতে সহযোগিতার লক্ষ্যে জাতিসংঘ ব্যবস্থার ভূমিকা কী হতে পারে।

বাংলাদেশের পরিকল্পনা মন্ত্রীর পাশাপাশি এসব বিষয়ে আলোচনা করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, ডেনমার্কের যুব প্রতিনিধি ক্যাসপার পেডারসন, বাংলাদেশের এটুআই এর পলিসি অ্যাডভাইজর আনির চেীধুরী, ইউএনডেসার ডিজিটাল গভর্নমেন্ট শাখার প্রধান ভিনসেনজো অ্যাকোয়ারো, ইউএনএসকাপ এর পরিবেশ ও উন্নয়ন নীতিমালা বিভাগের প্রধান ড. কাটনকা উইনবারজার, ইউএনসিডিএফ এর ইনক্লুসিভ ফাইনান্স টিমের সদস্য রবিন গ্রাভেজটেইজন, ভাইটাল স্ট্রাটেজিস, নিউইয়র্ক এর উপ-পরিচালক রিচার্ড ডেলানি, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডাইরেক্টর ফারাহ কবীর, আইএলও এর এমপ্লয়মেন্ট এন্ড লেবার মার্কেট পলিসি’র প্রধান শুক্তি দাসগুপ্তা। আলোচকগণ উপাত্ত বিপ্লবের বিভিন্ন দিক নিয়ে আন্তর্জাতিক এই প্লাটফর্মে আলোকপাত করেন। তারা সবাইকে উপযুক্ত কর্মপরিবেশ ও যুব-কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপাত্ত-বিপ্লবের কোনও বিকল্প নেই বলে মতপ্রকাশ করেন।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর ২০ লাখেরও বেশি তরুণ জব মার্কেটে প্রবেশ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসমতা দূর, সমাজের সবাইকে একীভূত করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন, জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যথোপযুক্ত কর্মপরিবেশ সৃষ্টির উপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। আমরা ইতোমধ্যেই এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে উন্নয়নশীল দেশ অভিমুখে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলেছি। আমাদেরকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। এমন সময় যেটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হল উপাত্ত বিপ্লব। আর এক্ষেত্রে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাসমূহের শক্তিশালী সমন্বয় ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

সাইড ইভেন্টটির কি-নোট স্পিকার আনির চৌধুরী উপাত্ত বিপ্লবের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উত্তম অনুশীলনসমূহ তথ্যচিত্রের মাধ্যমে প্রদর্শন করেন। উপাত্তকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনা যায় তা তুলে ধরেন এটুআইএর এই পলিসি অ্যাডভাইজর।

অনুষ্ঠানটিতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রের কূটনীতিকবর্গ, জাতিসংঘের কর্মকর্তা, বিভিন্ন যুব প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক বিদেশি অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ সরকারের সিনিয়র সচিবসহ উর্ধতন কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া বিকেলে জলবায়ু বিষয়ক প্যারিস চুক্তি ও এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়ন বিষয়ে বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল (জিসিএফ) আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের একটি ইভেন্টে প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান এমপি। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলা করার জন্য গঠিত গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড-কে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্যানেল আলোচনায় নিজের বক্তব্যে ধনী দেশগুলোকে এক্ষেত্রে আরও এগিয়ে আসার আহবান জানান পরিকল্পনা মন্ত্রী।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বাংলাদেশ এর সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ এর পাঠক প্রিয়