ঢাকায় ‘কার-ফ্রি সিটিজ এ্যালায়েন্স’ এর কার্যক্রম উদ্বোধন

প্রকাশ | ১৯ জুন ২০১৯, ২১:৩৫

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে গণপরিবহনের চেয়ে ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে গেছে। ব্যক্তিগত গাড়িভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রাধান্যের কারণে প্রতিদিন শহরগুলোতে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। দূষিত হচ্ছে বাতাস, অপচয় হচ্ছে মূল্যবান জ্বালানী, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ এবং ব্যাহত হচ্ছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন। সর্বোপরি প্রচণ্ড শব্দ ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় মানুষকে আক্রান্ত হতে হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী রোগে।

কেবল ঢাকা নয়; অন্যান্য বহু দেশের শহরগুলোর আজ একই অবস্থা। এ পরিস্থিতিতে ঢাকাসহ অনেক দেশের নগরীগুলোতে নাগরিকদের চলাচল ও বসবাস অসহনীয় হয়ে উঠছে।  তাই বড় বড় নগরবাসীকে ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা এবং বাইসাইকেল ব্যবহার ও হাঁটায় উৎসাহিত করতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১২টি দেশে আন্তর্জাতিক ‘কার-ফ্রি সিটিজ এলায়েন্স’ যাত্রা শুরু করেছে।

১৯ জুন সকাল ১১টায় ঢাকায় আন্তর্জাতিক কার-ফ্রি সিটিজ এলায়েন্সের উদ্বোধন হয়। উদ্বোধন উপলক্ষ্যে রাজধানীর আবাহনী মাঠের সামনে থেকে ১৬টি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে সাইকেল ও রিকশা র‌্যালির আয়োজন করা হয়। 

আইডাব্লিউবির নির্বাহী পরিচালক দেবরা ইফরইমসন বলেন, ব্যক্তিগত গাড়ি শুধু ঢাকার মানুষের জীবনকে দুর্বিষসহ করছে না, সারা পৃথিবীতেই নানা সমস্যা তৈরি করছে। ফলে দেশে দেশে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণে আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। এ বাস্তবতায় ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণে পৃথিবীর ১২টি দেশের বিভিন্ন সংগঠন একযোগে কার-ফ্রি সিটিজ এলায়েন্সের যাত্রা শুরু করল।

তিনি আরও বলেন দেশে দেশে সরকার ব্যক্তিগত গাড়িবান্ধব অবকাঠামো তৈরিতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। কিন্তু সরকারগুলোর উচিৎ হেঁটে চলা, নৌ যাতায়াত, গণ পরিবহণ, সাইকেল ও রিকশায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা তৈরিতে বেশি বিনিয়োগ করা। কারণ ব্যক্তিগত গাড়ি কোনভাবেই নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পারে না। বরং পরিবেশ দূষণ, যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। তাই নিরাপদ শহর গড়তে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি।

ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মারুফ রহমান বলেন, ঢাকায় মাত্র ৯ ভাগ মানুষ যাতায়াত করেন ব্যক্তিগত গাড়ির মাধ্যমে। কিন্তু শহরের মোট রাস্তার ৭০ ভাগ তারা দখল করে নেয়! ঢাকা শহরের বাস্তবতায় ব্যক্তিগত গাড়ি আদর্শ বাহন নয়। ব্যক্তিগত গাড়িতে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। সারা পৃথিবীতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে, গণপরিবহনের মান উন্নয়ন করা হচ্ছে। নিরাপদ শহর গড়তে আমাদেরও ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও পৃথিবীর ১২টি দেশে আজ নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ‘কার-ফ্রি সিটিজ এলায়েন্স’ যাত্রা শুরু করেছে। দেশগুলো হলো- ভারত, নেপাল, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ড, কানাডা, উগান্ডা, তানজানিয়া, ব্রাজিল, ফ্রান্স, আমেরিকা। বাংলাদেশে ঢাকা ছাড়াও ২০ জেলায় র‌্যালি, পথসভা, অবস্থান কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।

আরসি/এমকে