অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে দেখা হলো না হারুনের

প্রকাশ | ১৩ মে ২০১৯, ১০:১৭ | আপডেট: ১৩ মে ২০১৯, ১০:৪৪

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
বনানীর বিমানবন্দর সড়কে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয় হরুনকে, ছবি: প্রতীকী

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে দেখতে গ্রামের বাড়ি শেরপুরে যাচ্ছিলেন রঙমিস্ত্রি হারুন। মহাখালী টার্মিনাল থেকে শনিবার বিকেলের দিকে খেয়া পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন তিনি। বাসটি বনানীর বিমানবন্দর সড়কে যাওয়ার পর হারুন ইফতার করার কথা বলে বাসটিকে একটু থামাতে বলেন। তার কথা না শুনে চালক বাসটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ততক্ষণে ২৫ বছর বয়সী হারুন নেমে বাসের সিট ছেড়ে দরজা পর্যন্ত চলে যান। তখন হেলপার চলন্ত গাড়ি থেকেই তাকে ধাক্কা দেয়। এরপর সেই বাসের পেছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হন হারুন।

ওই ঘটনার পর পুলিশ চালক বাহাদুর আলীকে গ্রেপ্তার করলে বাসচাপায় যাত্রীকে মেরে ফেলার এমন নিষ্ঠুর ঘটনা জানা যায়। রোববার পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে একদিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় একজন মারা যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তখন প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানান, চলন্ত বাস থেকে ওই ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর সেই বাসটিই তাকে পিষে দিয়ে চলে যায়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্তের পর স্বজনদের খবর দেয়। এ ঘটনায় নিহতের মা রানী বেগম বনানী থানায় চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

হারুনের আত্মীয় মনির হোসেন বলেন, হারুন তার পরিবার নিয়ে কেরাণীগঞ্জের আটিপাড়ায় থাকতেন। কয়েক মাস আগে তিনি বিয়ে করেন। স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দেন। সেখানে অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে যাওয়ার পথেই এই নির্মম ঘটনা ঘটে।

বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিবুল হাসান জানান, আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারেন, বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে যাত্রী হারুনকে মেরে ফেলা হয়েছে। ঘটনার ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে তিনি খিলক্ষেত এলাকা থেকে বাসটি চালকসহ আটক করেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, চালক জানিয়েছে ইফতার করার জন্য হারুন বাসটি থামানোর অনুরোধ করেছিলেন। তিনি বাসটি একটু থামাতেই হেলপার আলম তাকে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেয়। এতে চাকার নিচে পড়ে যান ওই যাত্রী। হেলপার পলাতক থাকায় তার অবস্থান শনাক্তে চালককে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

পি