logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

আন্তর্জাতিক সাহসী নারীর পুরস্কার পাচ্ছেন রোহিঙ্গা নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ০৭ মার্চ ২০১৯, ১৮:০৬
ছবি: তুরস্ক-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ‘আনাদোলু এজেন্সি’

মানবাধিকার অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছরের ‘ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ’(আইডব্লিউওসি) পুরস্কার পাচ্ছেন মিয়ানমারে জন্ম নেয়া বাংলাদেশি নাগরিক এবং রোহিঙ্গা আইনজীবী রাজিয়া সুলতানা।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানায় বলে জানিয়েছে তুরস্ক-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ‘আনাদোলু এজেন্সি’। গণমাধ্যমটি জানায়, বৃহস্পতিবার নিজের সম্প্রদায়ের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখায় রাজিয়া সুলতানাসহ ১০ নারীর হাতে এই আইডব্লিউওসি পুরস্কার তুলে দেয়া হবে।

আরও জানায়, এই পুরস্কার প্রদানের অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল পম্পেও। এতে বিশেষ বক্তব্য প্রদান করবেন দেশটির ফার্স লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।

শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, লিঙ্গ সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বিশেষ সাহস ও নেতৃত্ব প্রদর্শনকারী অসাধারণ নারীদের ২০০৭ সাল থেকে এই পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি প্রদান করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রাজিয়া সুলতানা ১৯৭৩ সালে মিয়ানমারের মংডুতে রোহিঙ্গা পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। মিয়ানমারে নিজের সম্প্রদায়ের মানবাধিকারের জন্য তিনি তার কর্মজীবন উৎসর্গ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে ‘বাংলাদেশের নাগরিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সুলতানা বেশিরভাগ সময় আইনজীবী, শিক্ষক এবং মানবাধিকার পরামর্শক হিসেবে কাটিয়েছেন। ২০১৪ সাল থেকে তিনি রোহিঙ্গা, বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করছেন। তিনি রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েদের নির্যাতন, গণধর্ষণ, পাচার প্রভৃতি বিষয় নিয়ে গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

২০১৬ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশে বসবাসরত কয়েকশ’ রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন এবং রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী যৌন সহিংসতামূলক দুটি প্রতিবেদন ‘উইটনেস টু হরর’ এবং ‘রেইপ বাই কমান্ড’ প্রকাশ করেন।

পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে রাজিয়া সুলতানা তুর্কি সংবাদ সংস্থাটিকে বলেন, এই পুরস্কার শুধু আমার নয়, আমার সম্প্রদায়ের একটি অর্জন। এর মাধ্যমে আমরা রোহিঙ্গা হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছি। কারণ ইতোমধ্যে মিয়ানমার সরকার আমাদের রাজ্যের নাম ‘আরাকান’ থেকে ‘রাখাইন’ করেছে। এখন তারা আমাদের অস্তিত্বই স্বীকার করছে না।

কে/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়