• ঢাকা শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ৮ চৈত্র ১৪২৫

দশ বছরেও শেষ হয়নি পিলখানা হত্যাকাণ্ড মামলা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:১৫ | আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৫৪
পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। নির্মম এই হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হয়। তবে দীর্ঘ দশ বছরেও শেষ হয়নি এই হত্যা মামলা। হাইকোর্টে আপিলের রায় শেষ হলেও ঝুলে আছে বিস্ফোরক মামলা।

এবিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, এটি বিশ্বের বৃহত্তম একটি মামলা। যার আসামি সংখ্যা অনেক। এ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হতে সময় লাগবে এটাই স্বাভাবিক। আর বিস্ফোরক মামলাটি চলতি বছরের মধ্যেই শেষ হবে।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে মর্মান্তিক এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। হত্যা মামলায় ১৩৯ জনের ফাসিঁ, ১৮৫ যাবজ্জীবন সাজা দিয়ে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে হাইকোর্ট রায় দেন। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও প্রকাশ হয়নি। অন্যদিকে বিস্ফোরক মামলাটি বিচারিক আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি মনে করি রাষ্ট্রপক্ষ কৌশলে এটি দীর্ঘায়িত করছে। একদিকে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়া অন্যদিকে বিচারিক আদালতে বিস্ফোরক মামলায় শেষ না হওয়ায় সাজা খাটা শেষ হলেও তারা মুক্তি পাচ্ছেন না। হাইকোর্টে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে বিচারিক আদালতে কম সাজা প্রাপ্তদের জামিন চেয়ে আবেদন করা হবে।

বিস্ফোরক মামলার বিচারিক আদালতের প্রধান আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল  বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে কোনো ধরনের সময় ক্ষেপণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে না। আমরা কোনো সময় আবেদনও করিনি। মামলা তার নিজস্ব গতিতে চলছে। এ বছরের মধ্যে এ মামলাটির বিচার কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিদ্রোহ চলাকালে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রথমে রাজধানীর লালবাগ থানায় হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। পরে এসব মামলা নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তরিত হয়। সিআইডি দীর্ঘ তদন্ত শেষে হত্যা মামলায় ২৩ বেসামরিক ব্যক্তিসহ প্রথমে ৮২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে আরও ২৬ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় আসামির সংখ্যা হয় ৮৫০ জন। এছাড়া বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় ৮০৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় সিআইডি। পরে আরও ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে মোট ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বিচার চলার সময় বিডিআরের ডিএডি রহিমসহ চার আসামির মৃত্যু হয়।

মামলার আসামিদের মধ্যে বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীকেও দণ্ড দেয়া হয়। সাজা ভোগকালীন সময় বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু অসুস্থ হয়ে মারা যান।

রাজধানীর পুরান ঢাকার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ইতিহাসের কলঙ্কজনক এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন, ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে (তিন বছর থেকে ১৭ বছর পর্যন্ত) কারাদণ্ড দেন।

এছাড়া ২৭৮ জনকে খালাস এবং ৪ জন আসামি বিচার চলাকালে মারা যাওয়ায় মামলার দায় থেকে তারা অব্যাহতি পান।

এরপর ওই রায়ের ডেথ রেফারেন্স এবং আপিলের ওপর হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এর মধ্যে ১ জন মারা গেছেন। বাকি ১২ জনের মধ্যে ৮ জনের সর্বোচ্চ সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও অন্য চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

তবে রায়ে খালাসপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা চেয়ে আপিল করেন রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা তাদের সাজা বাতিল চেয়ে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিল শুনানির জন্য সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ ব্যবস্থায় সর্বমোট ৩৭ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। এ জন্য মোট ১২ লাখ ৯৫ হাজার পৃষ্ঠার ৩৫ কপি ও অতিরিক্ত দুই কপি পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। রক্তাক্ত ওই ঘটনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিডিআর) নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাখা হয়।

এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়