• ঢাকা বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৮ ফাল্গুন ১৪২৫

মানিকগঞ্জে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ায় কেন্দ্রসচিবকে অব্যাহতি

স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ
|  ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:২১
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার পিএস সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্রসচিব মিজানুর রহমানসহ ওইদিন ওই কেন্দ্রে দায়িত্বরত সকলকে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দে্ওয়া হয়েছে।

গত ২ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষার প্রথমদিনে বাংলা বিষয়ে পুরান সিলেবাসে (বহুনির্বাচনী অভীক্ষা) নৈর্ব্যত্তিক পরীক্ষা দেয় ৬০০ পরীক্ষার্থী। ৩০ নম্বরের ওই পরীক্ষায় পুরান সিলেবাসে প্রশ্ন হওয়ায় ওই কেন্দ্রের সকল পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাই খারাপ হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিন রাতেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক কেন্দ্রসচিব মিজানুর রহমানকে অব্যাহতি দিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইমদাদুর রহমান তালুকদাকে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়।

এই ঘটনায়, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুমানা তানজিন অন্তরাকে প্রধান করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খলিলুর রহমান ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রেজ্জাক হোসেনকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দৌলতপুর উপজেলার তিনটি কেন্দ্রে ২২১৩ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এদের মধ্যে পিএস সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৬০০ জন। পরীক্ষার পরপরই ওই কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে ওই কেন্দ্রের সচিব মিজানুর রহমান ও হল সুপার মজিবর রহমান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন।

এদিকে, বাংলা দ্বিতীয়পত্রে ভিন্ন সেটের প্রশ্নে ৩৩১ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্র সচিব মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজিনা আক্তার, সহকারী কেন্দ্রসচিব এএসএম সাইদুর রহমান ও হল সুপার আব্দুর রফিককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলা দ্বিতীয়পত্র (আবশ্যিক) পরীক্ষা ৩ নম্বর সেটের প্রশ্নপত্রে নেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩৩১ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয় ৪ নং সেটের প্রশ্নপত্র দিয়ে। পরীক্ষার পর পৃথক ২ সেট প্রশ্নে এক ও অভিন্ন বাংলা দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তা প্রশাসনের নজরে আসে।

এই ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাহাদৎ খন্দকারকে আহ্বায়ক করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে নিয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ পর্যায়ে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস বলেন, ভিন্ন সেটে পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই লক্ষ্যে ঢাকা বোর্ডের নির্দেশে উত্তরপত্রগুলো আলাদা করে বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ এসব শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদাভাবে মূল্যায়ন করবেন।

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়