logo
  • ঢাকা রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

নীলফামারীতে শৈত্যপ্রবাহ, উত্তরাঞ্চলে জেঁকে বসেছে শীত

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:২৭
ঘূর্ণিঝড় ‘ফেথাই’ এর প্রভাবে পৌষের শুরুতেই বৃষ্টিতে জেঁকে বসছে শীত। বইছে কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস। গত দুদিন ধরেই সারাদিনই আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। দেশের অধিকাংশ স্থানে সূর্যের দেখা না মেলায় শীত বেশি অনুভূত হয়েছে। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা কমে শীত আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরইমধ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় শৈত্যপ্রবাহে কাবু হয়ে পড়েছেন মানুষ। এছাড়া রংপুর, মেহেরপুর, বগুড়া, চুয়াডাঙ্গা, নাটোরেও বৃষ্টির কারণে শীত পড়তে শুরু করেছে। সারাদেশ থেকে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

bestelectronics
নীলফামারী: নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় শৈত্যপ্রবাহে কাবু হয়ে পড়েছেন মানুষ। বিশেষ করে বেশি কষ্ট ভোগ করছে ছিন্নমূল, কর্মজীবী, বয়স্ক মানুষ ও শিশুরা। গত দুদিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ ও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় সারাদিন সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। অন্যদিকে গতকাল দুপুর থেকেই ঝিরঝির বৃষ্টি শুরু হয়।

বিকেলে থেমে গেলেও আবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত হচ্ছে। এতে করে বাইরে যেতে পারছেন না খেটে খাওয়া মানুষগুলো। ফলে সংসারে অভাব দেখা দিয়েছে। এদিকে শৈত্যপ্রবাহ ও হিমেল হাওয়ায় ঠাণ্ডার তীব্রতা বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়নি এ অঞ্চলে। ফলে গরম কাপড়ের অভাবে ছিন্নমূল মানুষরা কষ্ট ভোগ করছেন।

নীলফামারী সিভিল সার্জন ডা. রণজিত কুমার বর্মণ জানান, শৈত্যপ্রবাহে ঠাণ্ডাজনিত রোগ বেড়ে গেছে। এজন্য সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরার পরামর্শ দেন তিনি।   

রংপুর: পৌষের বৃষ্টিতে উত্তরের জনপদ রংপুরে জেঁকে বসেছে শীত। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা কমে শীত আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার রাত থেকে রংপুর বিভাগে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর হিমেল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতের কাপড় ছাড়া সাধারণত কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। ঘরের মধ্যে শীতে জুবুথুবু অবস্থা। আজ মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেতুলিয়ায় ১১ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একদিন আগে এই তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের তাপমাত্রা ছয় থেকে আট ডিগ্রির মধ্যে হলে মাঝারি ও তাপমাত্রা আট ডিগ্রির চেয়ে বেশি থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া চলতি মাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এক থেকে দুটি মৃদু বা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘পেথাই’ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করে দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি অন্ধ্রপ্রদেশ ও কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায় হালকা বৃষ্টি হচ্ছে।

বগুড়া: ঘূর্ণিঝড় ফেথাই এর কারণে গতকাল সোমবার রাত ১০টার পর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। গতকাল রাত ১০টা থেকে এখন পর্যন্ত বগুড়া জেলায় ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। বৃষ্টির ফলে জনজীবন স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘড় থেকে তেমন কেউ বের হচ্ছে না। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা হয়েছে। আজ বগুড়া জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চুয়াডাঙ্গা: নিম্নচাপের প্রভাবে টানা দুদিনের বৃষ্টিতে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাজে যেতে পারেনি দিনমজুররা। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাচ্ছে না কেউ। একদিকে শীত, আরেকদিকে বৃষ্টি দুই মিলিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন এখানকার বাসিন্দারা।

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৫ মিলিমিটার। আবহাওয়া অফিস জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ১৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মেহেরপুর: মেহেরপুর জেলায় গতকাল সোমবার সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে বেড়েছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। বৃষ্টির সঙ্গে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অপরদিকে ব্যাপক ঝুঁকিতে পড়েছে জেলার রবি ফসল। গম, মসুর, সরিষা, বোরো ধানের বীজতলা ও সবজিক্ষেত বিনষ্টের আশঙ্কা করছেন কৃষক। বিশেষ করে নিচু জমির অনেক ক্ষেতে পানি জমেছে। মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত কোনও ক্ষেতে সমস্যা হয়নি। বরং যে ক্ষেতে সেচের প্রয়োজন ছিল তা পূরণ হয়েছে। তবে আগামীকাল পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে।

নাটোর: পৌষের শুরুতে ঘূর্ণিঝড় পিথাই এর প্রভাবে সৃষ্ট বৃষ্টিপাতে দুর্ভোগে পড়েছেন নাটোরবাসী। নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। অল্প আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছে।

পিথাই এর প্রভাবে নাটোরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল থেকে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। বৃষ্টি ও ঠাণ্ডা বাতাসে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তবে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে রবি ফসলের ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস।

ময়মনসিংহ: বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে দিনভর গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ময়মনসিংহের মানুষের জীবনযাত্রা। গত রাত থেকেই গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সকাল থেকে বৃষ্টি আরও বেড়েছে। দিনভর বৃষ্টির কারণে বিপাকে পড়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শ্রমিক ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। নগরীর সিকে ঘোষ রোডে ড্রেনেজ সিস্টেমে কাজ চলমান থাকায় বৃষ্টির কারণে সড়কগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানি একাকার হয়ে সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আর এই সুযোগে রিকসাসহ অন্যান্য পরিবহনের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে চালকরা।

জেবি

bestelectronics bestelectronics
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়