• ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

স্মার্টকার্ড নিয়ে এতো ভোগান্তি কেন?

আতিকা রহমান, আরটিভি
|  ৩০ অক্টোবর ২০১৮, ২২:১১ | আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৮, ১২:৪১
স্মার্টকার্ডের ভুল নিয়েও ভোগান্তিতে পড়ছেন অনেক মানুষ। ভুক্তভোগীরা বলছেন নাম-জন্ম তারিখে ভুল থাকায় দাপ্তরিক নানা কাজে অসুবিধা হচ্ছে। সে সঙ্গে সংশোধন করতে গিয়েও হয়রানি হতে হচ্ছে। এনআইডি বিভাগের মহাপরিচালক বলছেন, জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল থাকায়, স্মার্টকার্ডেও ভুল হচ্ছে। এগুলো ঠিক করতে সংশোধনের জন্য আলাদা বিভাগ চালু করা হয়েছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে নয় কোটি নাগরিকের কাছে স্মার্টকার্ড পৌঁছে দেয়ার কথা জানান তিনি।  

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের ইটিআই ভবনে জাতীয় পরিচয়পত্রকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই জটলা থাকে। অনেকে আসেন আবেদনের দুই-তিন বছর পরও জাতীয় পরিচয়পত্র না পাওয়ায়। অনেকে আবার আসেন ভুল সংশোধনে জন্য। এখন আবার শুরু হয়েছে স্মার্টকার্ড নিয়ে ভোগান্তি। নিজের নাম, বাবার নাম বা জন্ম তারিখে ভুল! 

ভুক্তভোগী একজন বলেন, ২০১৫ সালে উত্তরাতে এনআইডি কার্ড করতে দিয়েছিলাম, এখনও পর্যন্ত জাতীয় পরিচয়পত্র পাইনি। শাকিল নামে এক ভোক্তভুগী বলেন, ২০১৪ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র করতে দিয়ে ছিলাম এখন ২০১৮ সাল, এখনো পর্যন্ত পাই নাই।

অপর একজন ভোক্তভুগী বলেন, ২০১৬ সালে পরিচয়পত্র করতে দিয়েছিলাম এখনো পর্যন্ত পাচ্ছি না।

একই চিত্র আঞ্চলিক নির্বাচনী অফিসগুলোরও। অনেকে এখনো স্মার্টকার্ড পাননি। আর যারা পেয়েছেন তারাও সংশোধন নিয়ে আছেন ভোগান্তিতে। 

ভুক্তভোগীরা জানান, স্মার্টকার্ড এর আগে যে কার্ডটা দিয়েছিল সেটাতেও ভুল ছিল, পরে আমাকে কাগজপত্র দেয়া হল আমি সব ঠিকঠাক মত নিয়ে আসলাম, এখন আবার একটা ফরম দিয়েছে। এই ভোগান্তিগুলো কেন।

অপর একজন বলেন, যখন এলাকায় বিতরণ করতে গিয়েছিল তখন গিয়েছিলাম, বলছে কার্ড নাই, দুই বার আগারগাঁও গিয়েছি সেখান থেকেও ফিরে এসেছি, পরে ৪ বছর পর কার্ড পেয়েছি।

অন্য এক ভোক্তভুগী জানান, প্রায় ২-৩ বছর ঘোরাঘুরি করার কার্ড নিতে এসে দেখি অনেক বড় লম্বা লাইন। অনেকক্ষণ দাঁড়ানোর পর আবার বলে পরে আসতে। উনারা এমন ব্যবহার করছে যেন আমরা উনাদের কাছে জিম্মি।

নির্বাচনী কর্মকর্তারা বলছেন, বেশিরভাগ মানুষ সংশোধন ও তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় সময় লাগে। 

লালবাগ উপজেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার বলেন, যারা একটু সচেতন ছিলেন তারা কারেকশন করে নিয়েছে, যারা অসচেতন তাদেরটাই ভুল রয়ে গেছে। স্মার্টকার্ড দিতে দেরি হচ্ছে না, কার্ড তো দিচ্ছি কিন্তু কিছু ভুলের জন্য প্রিন্ট হচ্ছে না।

জাতীয় পরিচয়পত্র বিভাগের মহাপরিচালক জানালেন, স্মার্টকার্ড তৈরির আগে সংশোধনীর আহ্বান জানানো হলেও, অনেকেই তা ঠিক করেননি। তাছাড়া, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার কারণেও কার্ড বিতরণে দেরি হচ্ছে। 

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ এর মহাপরিচালক ব্রি. জে. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, যারা গ্রামে গঞ্জ আছে তারা এখন পর্যন্ত এর গুরুত্বটাই বুঝে না। যার জন্য বার বার তাদের জানানোর পরও তারা আসেন না। আর তারা যদি এগিয়ে না আসে তাহলে নির্বাচন কমিশন এর পক্ষে এটা বের করা কোনভাবেই সম্ভব না। আমরা এখন আরইউ পর্যায় এ হারানো কার্ড এবং সমস্ত প্রিন্টিং এর ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।

জেএম/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়