• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

অন্তর্বাস পরা ব্যক্তিটি কে? ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২৮ অক্টোবর ২০১৮, ২১:০১ | আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৮, ০৮:১৮
গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্তর্বাস পরা ও হাতে বন্দুক এক ব্যক্তির ছবি আমাদের নজর আসে। ছবিতে লুঙ্গি পরিহিত ব্যক্তি একজন পুলিশ সদস্য । তিনি হলেন কনস্টেবল/৯৩৫ এবাদৎ। তিনি ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানিগঞ্জ থানায় কর্মরত আছেন। জানালেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শফিউর রহমান। 

রোববার বাংলাদেশ পুলিশের ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

তিনি আরও জানান যে, বর্তমানে ওই ব্যক্তি রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।তিনি শ্রমিকদের মারে গুরুতর আহত হয়েছেন।   

গেল শুক্রবার (২৬ শে অক্টোবর) পোস্তখোলা ব্রীজের টোল বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করে ভাংচুর করে। এসময় পুলিশ কনস্টেবল/৯৩৫ এবাদৎসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা শ্রমিকদেরকে বুঝিয়ে শুনিয়ে ভাংচুর থেকে বিরত থাকতে বলে। এতে শ্রমিকরা ক্ষুদ্ধ হয়ে পুলিশের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে আক্রমণ করে। সংর্ঘষের এক পর্যায়ে কনস্টেবল/৯৩৫ এবাদৎকে তারা ধরে মাটিতে ফেলে দিয়ে ব্যাপক মারধর করে এবং মারতে মারতে তার পোষাক খুলে নেয়।

পরে শ্রমিকদের পকেটে থাকা ছুরি দিয়ে এবাদৎ এর গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়।  শ্রমিকরা তার পরিহিত পোষাক নিয়ে গেলে তিনি খালি গায়ে দেখে স্থানীয় এক লোক কনস্টেবল এবাদৎকে একটি লুঙ্গি সংগ্রহ করে পরিয়ে দেন।

ঢাকা জেলা পুলিশ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন করছে। কনস্টেবল এবাদৎকে মারধর করে উলঙ্গ করার সাথে জড়িত দুস্কৃতিকারীদের খুজে বের করার প্রক্রিয়া চলছে। অচিরেই তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের সাইবার অপরাধ দমন বিভাগের কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম তার নিজস্ব ফেসবুকে পোস্ট দেন।

তিনি বলেন, যারা প্রপাগান্ডা ছড়িয়েছেন তাদেরকে বলছি। ইনি পুলিশের একজন সদস্য, নাম ইবাদৎ। শ্রমিকদের হামলা থেকে নিজেকে বাঁচাতেই অপ্রস্তুত অবস্থায় পুলিশের মাঝে মিলিত হতেই ইনি ছুটে আসেন।

শ্রমিকরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে যখন পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তখন কনস্টেবল ইবাদৎ ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে আসলে শ্রমিকরা তার উপর আক্রমণ করে। এখানে এটা বলার দরকার যে, শ্রমিকদের সাথে ভিন্নমতাবলম্বীদের যৌথ আক্রমণে তার জীবন বিপন্ন হওয়ায় তারা তাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল এবং সে কোনভাবে পালিয়ে নিজেকে বাঁচাতে চেষ্টা করে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে নিজ অস্ত্র হাতে নিয়ে তিনি ইউনিফর্ম ছাড়াই পুলিশদের মাঝে চলে আসেন ও আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে অংশগ্রহণ করেন। হয়তো এভাবেই আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। উনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আরসি/এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়