রোহিঙ্গা প্রতিবন্ধী শিশুদের পাশে ‘হাত বাড়িয়ে দিলাম’

প্রকাশ | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:২৪ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:৪৯

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

মিয়ানমার সেনা বাহিনীর নির্যাতনে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। তাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়াও অনেক গর্ভবতী মহিলা এদেশে এসে শিশু জন্ম দিয়েছেন। এসব রোহিঙ্গা শিশুদের মধ্যে রয়েছে অনেক প্রতিবন্ধী শিশু। তবে তাদের প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি।

পালিয়ে আসা ও এদেশে জন্ম নেয়া বেশিরভাগ শিশুই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা জানে না তাদের মৌলিক অধিকারগুলোই বা কি। অনেক শিশুই তাদের বাবা-মাকে হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছে এদেশে।

মানবতার খাতিরে বাংলাদেশ সরকার সীমান্ত খুলে দেয়। বাংলাদেশে আসা নারী-পুরুষ ও শিশুদের আশ্রয় দেয়। সরকারের পাশপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তাদের সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দেয়। শিশুদের জন্য ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু শিশুদের মৌলিক অধিকারগুলো এখনও উপেক্ষিত।

আজকের শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। কিন্তু যাদের জীবনই স্বাভাবিক না। তারা কীভাবে দেশের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ হবে। রোহিঙ্গা শিশুদের মধ্যে অনেক শিশু অটিজম, শারীরিক প্রতিবন্ধী, স্নায়ুবিক প্রতিবন্ধী রয়েছে। স্থানীয়ভাবে বেশ কিছু এনজিও কাজ করলেও, রোহিঙ্গা শিশুদের মধ্যে কতজন শিশু প্রতিবন্ধী রয়েছে সেই তথ্য নেই।
-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সমস্যার অগ্রগতি তুলতে ধরবো: প্রধানমন্ত্রী
-------------------------------------------------------

আরটিভির অটিজম বিষয়ক নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘হাত বাড়িয়ে দিলাম’ এর পক্ষ থেকে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয় রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ‘হাত বাড়িয়ে দিলাম’ প্রোগ্রামটি সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা অটিস্টিক শিশুদের সেবা-দানকারী প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম ও অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করে।

‘হাত বাড়িয়ে দিলাম’ অনুষ্ঠানের পরিচালক সৈয়দা মুনিরা ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অনেক অভিভাবক জানে না যে তার সন্তানটি আর পাঁচটি শিশুর মতো না। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যেসব শিশু রয়েছে, তাদের জন্য সাধারণ চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও, অটিজম বা প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ কোনও ব্যবস্থা নেই।

মুনিরা ইসলাম বলেন, আমি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষে যতটা সম্ভব সচেতন করেছি। তাদেরকে প্রাথমিক একটা ধারণা দিয়ে এসেছি। অনেক মা তাদের প্রতিবন্ধী শিশুর বিষয়ে সঠিক ধারণা ছিল না। অনেক অভিভাবকের সাধারণ ধারণা হচ্ছে- জ্বীনে ধার বা হাওয়া বাতাসের কারণে শিশুর এমন হয়েছে। তাদের এইসব ধারণা যে ভুল সেটা বুঝানো হয়েছে।  

 

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করে এমন চারটি এনজিওর সঙ্গে আমরা দেখা করেছি। সিডিডিসিএম, অ্যামডা ইন্টারন্যাশনাল, সিজিএম এবং সিআরপি- এই সব এনজিওদের সাথে কথা বলেছি। কিন্তু তারা কোনও পরিসংখ্যান দিতে পারেনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কতগুলো প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে। তাদের জন্য আলাদা কোনও চিকিৎসা ব্যবস্থাও নেই।

আরও পড়ুন : 

 

আরসি / জেএইচ