DMCA.com Protection Status
  • ঢাকা রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৮ বৈশাখ ১৪২৬

ডিএনসিসির কোনো নির্দেশনা মানছেন না ট্রাক চালকরা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৩৫ | আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৩:১৯
রাস্তায় ট্রাক না রাখতে তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ডের ট্রাক মালিক ও চালকদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক ও চিঠি চালাচালি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। কিন্তু কোনো কথা বা অনুরোধ কর্ণপাত করছেন না তারা। প্রতিদিনই রাস্তার ওপর ট্রাক রেখে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি করা হচ্ছে।   

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর সাতরাস্তা মোড় থেকে তেজগাঁও রেলক্রসিং পর্যন্ত সারি সারি ট্রাক ও কার্ভাডভ্যান পার্কিং করে রাখতে দেখা যায়।

ট্রাক স্ট্যান্ডের জন্য নির্ধারিত জায়গাটির বাইরে যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে ট্রাক, লরি, কাভার্ডভ্যান। তেজগাঁও রেলগেইটের সিগন্যালের পর এই যানজট ছড়িয়ে পড়ছে ওই ট্রাক মালিক ড্রাইভার ইউনিয়ন কার্যালয় পর্যন্ত।

পরিস্থিতি দেখে মাহামুদ নামের ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, মেয়র সাহেব, রাস্তাটিকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করে তুলেছিলেন। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার এক মাস পার হতে না হতেই আবারও দখল হচ্ছে এলাকাটি। ভাবতেই অবাক লাগে। সরকারের দোষ দিয়ে লাভ কি, দোষ তো আমাদের।

কামরুল ইসলাম নামের এক বেসরকারি কর্মকর্তা বলেন, আমি প্রতিদিন এ রাস্তায় চলাচল করি। এ রাস্তায় প্রতিদিন ট্রাক ও কার্ভাডভ্যান দেখি। সেদিন টিভিতে দেখলাম রাস্তায় নাকি ট্রাক আর থাকবে না। কিন্তু সকালে দেখি রাস্তায় আবারও ট্রাক। এ যদি দেশের হাল হয় তাহলে কাদের দোষ দিব?

সিএনজি চালক সাইদ মনির প্রশ্ন করে বললেন, মেয়র মারা গেছেন বলেই কি এই এলাকায় আর আইনকানুন কিছু থাকবে না? ট্রাক চালকরা কি সরকারের চেয়েও শক্তিশালী। এ রাস্তায় কিংবা এ এলাকায় ট্রাক কেন থাকবে। ট্রাকের তো দিনে কোনো কাজ নেই। ঢাকার বাইরে এদের স্ট্যান্ড হওয়া উচিত।

অথচ গেল তিন সেপ্টেম্বর ঢাকঢোল পিটিয়ে তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা।  গিয়ে দেখেন সড়কের দুই দিকই ফাঁকা। নেই কোনো ট্রাক কিংবা কাভার্ড ভ্যান। সেদিন বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়ন কার্যালয়ে ট্রাক মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্যানেল মেয়র ও সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভাশেষে ডিএনসিসি’র প্যানেল মেয়র সাংবাদিকদের জানান, আজ সোমবার থেকে তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়ক দখলমুক্ত রাখা হবে। এ জন্য ট্রাকস্ট্যান্ড ইউনিয়নের মালিক -শ্রমিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেইসঙ্গে শুধু এই এলাকা নয়, জনগণের দুর্ভোগ এড়াতে ঢাকার সব সড়ক দখলমুক্ত রাখবো। আজ থেকে আমরা এই আনিসুল হক স্মরণী (প্রস্তাবিত) পরিষ্কার রাখবো।

এ সময় বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি তালুকদার মোহাম্মদ মনির বলেন, পত্রপত্রিকায় যেভাবে দখলের কথা লেখে সেগুলো সঠিক না। আমরা কোনো অবস্থাতেই মরহুম মেয়র আনিসুল হকের স্বপ্নের এ সড়ক দখল হতে দেবো না। তবে ঈদসহ নানা আন্দোলন হরতালের সময় টার্মিনালে গাড়ি বেশি হয়ে যায়, তখন অনেক সময় সড়কে থাকে। সে সময় আমরা মাইকিং করে ট্রাক সরিয়ে দিতে বলি। এ ছাড়াও অনেক বাইরের ট্রাক কাওরান বাজারে মালামাল নিয়ে আসে, তারা না জেনেই সড়কে ট্রাক রাখে। আজ থেকে আমরা সড়কে কোনো ট্রাক দাঁড়াতে দেবো না। যদি কোনো ট্রাক সড়ক দখল করে তবে তার কাগজপত্র জব্দ কওে রেকারিং করানো হবে।

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তদানীন্তন মেয়র আনিসুল হক তেজগাঁও সড়কটি ট্রাকের দখলমুক্ত করতে গিয়ে ট্রাক শ্রমিকদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। কিন্তু, তিনি অনড় থাকায় ট্রাকস্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়কটি দখলমুক্ত করা হয়। ২০১৭ সালে সাতরাস্তা থেকে রেলক্রসিং পর্যন্ত সড়কের উন্নয়ন করে সড়ক বিভাজে লাগানো হয় গাছ। সড়কটি দখলমুক্ত হওয়ায় এর সুফলও পেতে শুরু করে নগরবাসী। কিন্তু, গত বছরের ৩০ নভেম্বর আনিসুল হক মারা যাওয়ার কয়েকদিন পর থেকেই সেখানে সন্ধ্যা নামার পরই পুরো এলাকা দখলে যায় ট্রাক ও কার্ভাডভ্যানের।

আরও পড়ুন  :

এমসি/এমকে  

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়