logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সারা দেশে ঈদ জামাতে বিশ্বের শান্তি কামনা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৬ জুন ২০১৮, ১৫:৩১ | আপডেট : ১৬ জুন ২০১৮, ১৫:৪৬
বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় আজ সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত হয়েছে। এক মাসের সিয়াম সাধনা শেষে গতকাল শুক্রবার দেখা যায় শাওয়ালের চাঁদ। এরপর থেকেই মুসলিম সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে শুরু হয় ঈদের আনন্দ। কবির সঙ্গে সুর মিলিয়ে সবাই গাইতে শুরু করে ‘ও মোর রমজানেরই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’। আর এই খুশির ঈদ উদযাপন করতেই শনিবার সকাল থেকে জায়নামাজ হাতে নিয়ে ঈদগাহমুখী হতে শুরু করেন মুসল্লিরা। নামাজ আদায় শেষে একে অন্যের সঙ্গে কোলাকুলি করে ভাগ করে নেন ঈদের আনন্দ। সব ভেদাভেদ ভুলে সকল মানুষের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। সারাদেশ থেকে আরটিভি অনলাইনের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কিশোরগঞ্জ: দেশের প্রাচীন ও বৃহত্তম ঈদগাহ কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় এবার প্রায় তিন লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেছেন। জামাত শুরু হয় সকাল ১০টায়। জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।

লাখো মুসল্লির জামাতে শরিক হওয়ার জন্য ভোর থেকেই দলে দলে মুসল্লিরা ঈদগাহে আসতে থাকেন। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় ভরে যায়। ঈদগাহে জায়গা না পেয়ে অনেক মুসল্লি পাশের সড়ক ও খালি জায়গায় নামাজ আদায় করেন। রেওয়াজ অনুযায়ী জামাত শুরুর আগে শটগানের ফাঁকা আওয়াজ করে জামাত শুরুর ঘোষণা দেয়া হয়।

শোলাকিয়া ঈদ জামাতের নিরাপত্তায় নেওয়া হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রায় সাড়ে  ১১শ’ পুলিশ সদস্য ছাড়াও দুই প্লাটুন র‌্যাব ও পাঁচ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করে। তাছাড়া এবারই প্রথম ব্যবহার করা হয়েছে ড্রোন। বিভিন্ন চেকপোস্টে মুসল্লিদেরকে তল্লাশি করে ঈদগাহে প্রবেশ করানো হয়।

দিনাজপুর: দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। বৃহৎ এই ঈদের জামাতে ৬ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

২২ একর এই ঈদগা ময়দানে আজ শনিবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ইমামতি করেন দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতাল জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সামশুল আলম কাশেমী।

বৃহৎ এই ঈদ জামাতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, জেলা প্রশাসক ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুরসহ সর্বস্তরের মুসল্লিরা অংশ নেন। পাশাপাশি দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকার মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন।

বৃহৎ এই জামায়াতে শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায়ে নেয়া হয় চার স্তরের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। মাঠজুড়ে স্থাপন করা হয় সিসি ক্যামেরা। বিভিন্ন স্থানে মুসল্লিদের তল্লাশি করা হয়।

শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৃহৎ এই জামাতের মূল উদ্যোক্তা জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি বলেন, সৌদি আরবের মক্কার পর দিনাজপুরের এই ঈদের জামাত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঈদের জামাত। এবার এখানে ঈদ-উল-ফিতরের এই জামাতে প্রায় ৬ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছেন যদিও আশপাশের জেলা-উপজেলা বৃষ্টি থাকায় অনেকে এখানে ঈদের নামাজে আসতে পারে নাই।

ঝালকাঠি: ঝালকাঠিতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায়। মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম এতে ইমামতি করেন। একই স্থানে সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জামাত। প্রথম জামাতে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি নামাজ আদায় এবং সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এছাড়া জেলা প্রাশাসক মো. হামিদুল হক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার মো. শাহ আলম, পুলিশ সুপার মো. জোবায়দুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান সাইফুল্লা পনির ও পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়াও নেছারাবাদ মাদরাসা ময়দান, মদিনা মসজিদ,পুলিশ লাইন, উপজেলা পরিষদসহ জেলার চার শতাধিক জামে মসজিদ ও ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

কুমিল্লা: কুমিল্লায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত হয়েছে। সকালে বৃষ্টির কারণে নামাজের জামাত পার্শ্ববর্তী জিমন্যাসিয়াম হলে অনুষ্ঠিত হয়।

সকালে সোয়া ৮টায় প্রথম ঈদ জামাতে ইমামতি করেন কান্দিরপাড় জামে মসজিদের খতিব মোহাম্মদ ইবরাহিম ও সকাল সাড়ে টায় দ্বিতীয় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া নগরীর মুন্সেফবাড়ী জামে মসজিদসহ জেলার ১৭টি উপজেলায় মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

এসব জামাতে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার, জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, কুমিল্লা সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু প্রমুখ।

খুলনা: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে খুলনায় পালিত হলো পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। মহানগরী সার্কিট হাউজ ময়দানে সকাল সাড়ে আটটায় ঈদের পথম ও প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন খুলনা টাউন জামে মসজিদের খতিব আলহাজ মাওলানা মোহাম্মদ সালেহ।

খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, কেসিসির নব-নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, কেসিসির মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, খুলনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

যশোর: যশোরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানসহ প্রতিটা উপজেলার প্রতিটা গ্রামের ঈদুল ফিতরের নামজের শেষে মোনাজাতে দেশ জাতি ও সারা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন প্রতিটা ঈদের নামাজের ইমামরা। লাখ লাখ মুসল্লি নিয়ে সবচেয়ে বড় ঈদের নামাজে জামাত অনুষ্ঠিত হয় যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার মান্দার তলায়। এখানে সর্বস্তরের মুসলিমরা ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

পটুয়াখালী: পটুয়াখালীতে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন মুসুল্লিরা। মুসুল্লিদের সুবিধার্থে শহরের ২৬টি ঈদগাহ্ ময়দানে নামাজের আয়োজন করা হয়। ঈদের প্রধান নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে শহরের চরপাড়াস্থ জেলা প্রশাসক ঈদগাহ্ ময়দানে। প্রায় দেড় হাজার মুসল্লি এ নামাজে  অংশগ্রহণ করেন। চরপাড়া বায়তুছ সালাম জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলাম এ নামাজের ইমামতি করেন। সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত ঈদের জামায়াতে জেলা প্রশাসক ড. মো. মাছুমুর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান মোহন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. হেমায়েত উদ্দিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ ঈদগাহ মাঠে মুসুল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করেন। পরে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে হজরত শাহ্ মখদুম (রহ:) কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে।

শনিবার সকাল ৮টায় এই নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন শাহমখদুম (রহ.) জামিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাত আলী।

বৃহত্তম এই জামাতে নামাজ আদায় করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, মহানগর বিএনপির সভাপতি ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও বিএনপির চেয়াপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

হজরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহে বিশাল জামাত শেষে দেশ ও জাতির অব্যাহত সুখ-শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সংহতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এদিকে, সকাল ৮টায় দ্বিতীয় বৃহত্তম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে টিকাপাড়া ঈদগাহ ময়দানে এবং তৃতীয় বৃহত্তম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সকাল সোয়া ৮টায় নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টের বড় রাস্তায়। একই সঙ্গে এ জেলায় মহিলাদের প্রধান ঈদের জামাত সরকারি পিএন বালিকা বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এছাড়াও একই সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শহীদ কামারুজ্জামান বিভাগীয় স্টেডিয়াম তেরখাদিয়া ও রাজশাহী জেলা স্টেডিয়ামে জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

নাটোর: যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে নাটোরে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল পৌনে সাতটায় শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে পৌনে নয়টায় দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাতে নামাজ পড়ান মাওলানা মফিজুর রহমান,দ্বিতীয় জামাতে নামাজ পড়ান হাফেজ মাওলানা গোলাম মোস্তফা সরদার। নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শফিকুল ইসলাম শিমুল, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান খান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান,বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এছাড়া শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ, গাড়িখানা মসজিদ, বড় হরিশপুর ঈদগাহ মাঠ, বাস টার্মিনাল মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহ ময়দানেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বাংলাদেশ এর সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ এর পাঠক প্রিয়