প্রথম দিন দেরিতে ছাড়লেও স্বস্তি ট্রেনযাত্রায় (ভিডিও)

প্রকাশ | ১৩ জুন ২০১৮, ২৩:২৪ | আপডেট: ১৪ জুন ২০১৮, ১১:০৯

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

ঈদের বাকি আর মাত্র কদিন। তাই নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে রাজধানীতে কর্মরত মানুষ। যাত্রীপারাপারে গতবারের মতো ট্রেন এবারও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে থেকে ৬৪টি ট্রেন ছেড়ে যায়। কিন্তু প্রতিটি ট্রেন ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা বিলম্বে কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। এতে অনেক যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

কমলাপুর স্টেশনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ এক্সপ্রেসটি সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও প্রায় সোয়া ১ ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছে। লালমনিরহাট স্পেশাল ট্রেনটি সোয়া ৯টায় কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা প্রায় আড়াই ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছে। তাছাড়া জামালপুর এক্সপ্রেস, তিতাস কমিউটার, নীলসাগর এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, সুবর্ণ এক্সপ্রেস ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা বিলম্বে কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে গেছে।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : ৫০০ গ্রাম মাংসে ১০০ গ্রাম কম, মাইকিং করে যুবকের প্রতিবাদ
--------------------------------------------------------

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার সিতাংশ চক্রবর্তী বলেন, ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের প্রথম দিন বুধবার ট্রেনের বহরে নতুন পাঁচটি ট্রেন যুক্ত হয়েছে। প্রতিটি ট্রেনে নতুন বগিও যোগ করা হয়েছে। যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে কয়েকটা ট্রেন বিলম্বে ছেড়ে গেছে।

এদিকে দুপুর আড়াইটার দিকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ছুটে যান রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। এসময় তিনি রাজশাহীগামী সিল্ক সিটি ও চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন।

এসময় তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ঈদ-উল-ফিতরে যাত্রীরা যাতে অত্যন্ত নির্বিঘ্নে, নিরাপদে তাদের বাড়ি গিয়ে ঈদ করে কর্মস্থলে ফিরে আসতে পারে। সে জন্য আমাদের যথেষ্ট ব্যবস্থা আছে। ঈদের আগে তিনদিন এবং ঈদের পরে সাতদিন আমাদের স্পেশাল ট্রেন চালু থাকবে। কয়েকটি ট্রেন শিডিউলে কিছুটা বিপর্যয় হয়েছে। বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩০টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। তার মধ্যে দুটি ট্রেন কিছুটা বিলম্বে ছেড়ে গেছে। বাকি ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়েই কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে। বিষয়টা আমরা দেখছি।

এদিকে বুধবার ভোর থেকে রাত অবধি যাত্রীদের উপস্থিতিতে সরগরম কমলাপুর স্টেশনের প্ল্যাটফর্মগুলো। ট্রেন যেন কোনোভাবে হাতছাড়া না হয় তাই বেশিরভাগ যাত্রী আগেভাগে স্টেশনে এসেছেন। তাদের অপেক্ষার প্রহর গুণতে দেখা যায়। যে যেখানে যেভাবে পারছেন ব্যাগ-ব্যাগেজ নিয়ে বসে পড়ছেন। এ ফাঁকে কেউ কেউ খোশগল্প কিংবা মোবাইল ফোনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সময় কাটাচ্ছেন। এদিকে যাত্রীদের অসাবধানতায় যেন কোনোভাবে তাদের মালামাল হাতছাড়া না হয়, তাই কঠোর দৃষ্টি রেখেছে রেলওয়ে পুলিশ ও সিসি ক্যামেরাগুলো।

ঈদ মানেই নতুন-পুরান বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হওয়া আর হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠা। এ রকমই মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান। তিনি বগুড়ায় গ্রামের বাড়িতে বাবা মায়ের সাথে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছেন। লালমনিরহাট ট্রেনের অপেক্ষা আছেন। তিনি বলেন, অনেক কষ্টে ট্রেনের টিকেট ম্যানেজ করেছি। তখন খুবই বিরক্ত লাগছিল। কিন্তু আজ বাড়ি যাচ্ছি বাবা-মা ও বন্ধুদের সাথে ঈদ করবো। গ্রামের স্কুলের বন্ধুরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। ঈদ ছাড়া সবাই এক হয় না। সবাই এক হবো, কত মজা হবে। ভাবতেই ভালো লাগছে। কিন্তু ট্রেন দেরিতে ছাড়াই খুবই বিরক্ত লাগছে।

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র মো. মাহমুদুল হক বুলবুল বলেন, মা-বাবা ও গ্রামের বন্ধুদের সঙ্গে একত্রে ঈদ কাটাতে গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর যাচ্ছি। প্রতিবছরের মতো এবারও ট্রেনের শিডিউল দেরি করছে। ট্রেনে টিকিট কাটতেও ঝামেলা যেতেও ঝামেলা। কিন্তু রাস্তার জ্যামের কারণে ট্রেনে যেতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে যাচ্ছি।

স্মার্টফোনে ম্যাসেঞ্জারে বন্ধুদের খোঁজ নিচ্ছেন মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের যাত্রী নাহিদা ইসলাম। তিনি বলেন, চাকরি করি, বন্ধুরা বিভিন্ন স্থানে চাকরি করে। সবাই ঈদে বাড়ি ফিরবে। গ্রুপে ছবি দিয়ে নিজের অবস্থান জানাতেই বন্ধুরা নানান আপডেট দিচ্ছে। ট্রেনের জন্য বসে আছি। ট্রেন ছাড়লে হাঁফ ছাড়বো। আমার এক বন্ধু বসে আছে বিমানবন্দরে কিন্তু ট্রেন ছাড়ার কোনও খবর নাই।

সিল্ক সিটি এক্সপ্রেসের যাত্রী রাহেলা বেগম। নতুন বিয়ে হয়েছে তাদের। জীবনের প্রথম বাবা-মাকে ছাড়া শ্বশুরবাড়িতে ঈদ করতে রাজশাহী যাচ্ছেন। তিনি বলেন, এ যাত্রা নতুন এক যাত্রা। জীবনের প্রথম বাড়ি ছাড়া ঈদ করবো। আব্বু-আম্মুর জন্য মন খারাপ লাগছে। ট্রেনের জন্য বসে আছি ১ ঘণ্টা ধরে। কখন ছাড়বে বুঝতে পারছি না। খুবই অস্থির লাগছে।

আরও পড়ুন : 

এমসি/পি