logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

ঢাকা মেডিক্যাল

৭ সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের দু’টিই অকেজো

মির্জা রকিবুল হাসান রুমন
|  ২১ অক্টোবর ২০১৬, ১৯:৪৭ | আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৬, ১২:৪৩
দেশে স্বাস্থ্যসেবায় সাধারণ মানুষের নির্ভরতার নাম নিলে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নাম আসে সবার আগে। এখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার রোগি আউটডোর ও সাড়ে ৩ হাজার ইনডোর চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন। যদিও এখানে সরকার অনুমোদিত বেডের সংখ্যা ২ হাজার ৬শ’। এতো রোগির চিকিৎসার প্রয়োজনে এখানে রয়েছে মাত্র ৭টি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স, যার মধ্যে দু’টো আবার অকেজো।

whirpool
প্রতিদিন এখানে অ্যাম্বুলেন্সের যে চাহিদা, এ সংখ্যা তার সঙ্গে মোটেও সংগতিপূর্ণ নয় । হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বিভিন্ন রোগির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে একথা।

নাজুক এ বাস্তবতার সুযোগেই এখানে গড়ে উঠেছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের রমরমা ব্যবসা। এ অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায় হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন চিকিৎসা নিতে আসা অনেকেই। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যাবার সময় কিংবা মরদেহ বহনের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিরা রোগি অথবা রোগির স্বজনদের এই বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারে বাধ্য করে থাকে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো ঢাকা সিটি করপোরেশনের ভেতরে প্রতি কিলোমিটার ১০ টাকায়  এবং অন্তত ৩শ’ টাকায় রোগিরা পেলেও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে গুনতে প্রায় ৫-৬ গুন বেশি টাকা। যেহেতু সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের স্বল্পতা রয়েছে তাই এই সুযোগটিই কাজে লাগিয়ে থাকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা।

গেলো ১৫ অক্টোবর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান ফটকের সামনে রোগিসহ বেশ কয়েকজনকে চাপা দেয় একটি অ্যাম্বুলেন্স। এঘটনায় মারা যান ৪জন। রোগিদের চাপা দেয়া অ্যাম্বুলেন্সটি ছিল বেসরকারি মালিকানার। এর মালিক মাহফুজুর রহমান। তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ওয়ার্ড বয়। এ ঘটনার পর থেকে তাকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। তবে অ্যাম্বুলেন্সটির চালকের সহকারি সোহেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, অ্যাম্বুলেন্সটির কোন বৈধ কাগজপত্র ছিল না।

এ ঘটনার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় গেলো ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যা পর্যন্ত অঘোষিত ধর্মঘট ছিল অ্যাম্বুলেন্স মালিক-চালকদের। ফলে অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে রোগি ও তাদের স্বজনদের। এই ঘটনার পর থেকেই আলোচনায় আসে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সংকট ও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের নানান অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতার কথা।

তবে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য হচ্ছে, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের অনেকগুলোই আগে ছিল সাধারণ মাইক্রোবাস, যা পরে অ্যাম্বুলেন্সে রুপ দেয়া হয়েছে। এসবের অনেকগুলোতেই নেই পূর্ণাঙ্গ অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের স্বল্পতা এবং এ ব্যাপারে করনীয় জানতে চাইলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক খাজা আব্দুল গফুর আরটিভি অনলাইনকে জানান, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ৭টির মধ্যে ৫টি ভালো। বাকি দু’টো নষ্ট। আমরা চাইলেই অ্যাম্বুলেন্স বাড়াতে পারি না। এটা বাড়াবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে আমাদের এখতিয়ার নেই। তবে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। দু’টো অ্যাম্বুলেন্স পাওয়ার কথা। তবে কবে মিলবে, নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

আরএইচ/ এসজেড

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়