• ঢাকা বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬

ইলা মিত্র, তেভাগা আন্দোলন ও একটি চলচ্চিত্র

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৩ অক্টোবর ২০১৬, ২০:১৩ | আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৬, ২০:২০
সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্বেচ্ছায় জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েছেন তিনি। অমানুষিক নির্যাতন সয়েও শামিল থেকেছেন  আদর্শের লড়াইয়ে।

whirpool
তিনি বাংলার কৃষকের রাণী'মা ইলা মিত্র।

২০০২ সালের ১৩ অক্টোবর মহীয়সী এ নারী মৃত্যুবরণ করেন।

১৯২৫ সালের ১৮ অক্টোবর কলকাতায় জন্ম ইলা মিত্রের।  তার আদি নিবাস তৎকালীন যশোরের ঝিনাইদহের বাগুটিয়া গ্রামে। বাবার চাকরি সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় থাকতেন। লেখাপড়া করেন কলকাতার বেথুন স্কুল ও বেথুন কলেজে। এ কলেজ থেকে ১৯৪৪ সালে বি.এ ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপর ১৯৫৮ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে এম এ ডিগ্রি লাভ করেন। বেথুন কলেজে বাংলা সাহিত্যে বি.এ. সম্মান পড়ার সময় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জমিদার মহিমচন্দ্রের পুত্র রমেন মিত্রের সঙ্গে ১৯৪৫ সালে ইলা মিত্রের বিয়ে হয়। সেখানে স্বামী রমেন মিত্রের সহযোগিতায় গ্রামের নিরক্ষর মেয়েদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেয়ার কাজ শুরু করেন। ইলা মিত্রের স্বামীও কমিউনিস্ট পার্টির একনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন। এজন্য তাদের দু’জনকে অনেক ঝড়-ঝঞ্ঝা পোহাতে হয়।

১৯৪৬-৪৭ সালের ডিসেম্বর-জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে তখনকার পূর্ববঙ্গ (বাংলাদেশ) ও পশ্চিমবঙ্গে তেভাগা আন্দোলন গড়ে ওঠে। ৬০ লাখ দুঃস্থ ভাগচাষী হিন্দু, মুসলমান, আদিবাসী নারী-পুরুষ জীবনকে তুচ্ছ করে ওই সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেন ইলা মিত্র। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

কমিউনিস্ট পার্টির হয়ে বিভিন্ন নারী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ায় ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৭১ ও ১৯৭২ সালে বেশ কয়েকবার কারাবরণ করতে হয় ইলা মিত্রকে। কিন্তু তিনি ছিলেন অকুতোভয়।  

ঐতিহাসিক এ প্রেক্ষাপটে ২০০৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারপ্রাপ্ত পরিচালক সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড তৈরি করেন 'নাচোলের রাণী'। দেশ বিদেশে ছবিটি ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

এইচএম/ এসজেড

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়